বগুড়ায় প্রজন্ম মঞ্চের হরতাল স্থগিত

জামায়াত-শিবিরসহ সমমনা দলগুলোর মিছিল থেকে হামলা চালানো হয়েছে বগুড়ার প্রজন্ম মঞ্চে। হামলাকারীরা পুরো মঞ্চ ভেঙে গুঁড়িয়ে ও আগুন ধরিয়ে দেয়। সাধারণ মানুষসহ মঞ্চে অর্ধশতাধিক কর্মী আহত হন। র্যাব ও পুলিশ টিয়ার সেল ও শটগানের গুলি করে হামলাকারীদের হটিয়ে দেয়। র্যাব-পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলাকারীরা ককটেল নিক্ষেপ ও গুলি চালায়। পুলিশ শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ১৫ জনকে আটক করেছে । এদিকে আগাম তথ্য প্রদান সত্ত্বেও কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করার অভিযোগ উঠেছে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে । আর এই পুরো ঘটনার জন্য বগুড়ার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে (ডিএসবি) ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয় প্রজন্ম মঞ্চ থেকে। এই সময়ের মধ্যে প্রত্যাহার করা না হলে আগামী রবিবার জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছিল প্রজন্ম মঞ্চ। কিন্তু একইদিনে জামায়াত-শিবির দেশব্যাপী হরতাল আহ্বান করায় প্রথমে প্রজন্ম মঞ্চ ঘোষিত হরতাল দিন সোমবার পালিত হবে বলে ঘোষণা দেয়া হলেও অবশেষে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার ঘোষণা দেয় আন্দোলনকারীরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর শহরের বেশ কয়েকটি মসজিদ থেকে তওহিদী জনতার ব্যানারে মিছিল বের করে জামায়াত-শিবিরসহ সমমনা দলগুলোর নেতাকর্মীরা। এর মধ্যে একটি মিছিল কাজী নজরুল ইসলাম সড়ক হয়ে বড়গোলা অভিমুখে যায়। এরপর বড়গোলা থেকে ঐ মিছিলটি ফিরে সাতমাথায় আসার সময় শহরের জলেশ্বরীতলা থেকে নূর মসজিদের ইমাম জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর আলমগীর হোসাইনের নেতৃত্বে আর একটি মিছিল এসে সাতমাথায় আগের মিছিলের সঙ্গে যোগ দেয়। দুই মিছিল এক হওয়ার পর তারা সম্মিলিতভাবে হামলা চালায় প্রজন্ম মঞ্চে। এ সময় সাতমাথায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ তাদের বাধা দেয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় । পরে মিছিলকারীরা প্রজন্ম মঞ্চ ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় সেখানে অবস্থানকারী মঞ্চের কর্মী ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলা করে। এতে অন্তত অর্ধশত আহত হন। হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের পর সেখানে র্যাব ও পুলিশ সদস্যরা পৌঁছে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। হামলাকারীরা স্টেশন রোডে ঢুকে পুলিশ ও র্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করলে র্যাব-পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে শটগানের গুলি চালায়। তখন পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। ঘণ্টাব্যাপী এই তাণ্ডব চলে সাতমাথা চত্বর জুড়ে। বগুড়ার পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক বলেন: “স্বল্পসংখক পুলিশ হাজার হাজার মানুষকে প্রতিহত করার চেষ্টা করেছে । এক্ষেত্রে পুলিশের কোন গাফিলতি ছিল না। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) কাউছার শিকদার বলেন:“অল্পসং্যখক পুলিশ দিয়ে বিপুলসং্যখক জনতা মোকাবিলা করা কঠিন। তবুও আমরা চেষ্টা করেছি। হামলাকারীরা বিভিন্ন দিক দিয়ে একযোগে হামলা চালায় । পরে র্যাব সদস্যদের সাথে নিয়ে আমরা হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছি ।