বইমেলায় কৃষিবিষয়ক বই

শেষ বেলায় পৌঁছে গেছে ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৩’। বই প্রেমীদের পদচারণায় মুখরিত বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গন। প্রতিদিনই মোড়ক উন্মোচন হচ্ছে বিভিন্ন বিষয়ক বইয়ের। এর মধ্যে গল্প, উপন্যাস, কবিতাই বেশি। আছে কিছু প্রবন্ধের বইও। ভ্রমণ কাহিনীসহ এসেছে নানা বিষয়ভিত্তিক বই। তবে এবারও সেই শূন্যতা। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে কৃষিবিষয়ক লেখক ও বইয়ের প্রাচুর্য নেই বইমেলায়। যাও বা দুয়েকটা আছে, সেগুলোকে নিয়ে নেই কোন আড়ম্বর। এবার বইমেলা ঘুরে হাতে গোনা কয়েকটি কৃষি বিষয়ক গ্রন্থের খোঁজ মিলেছে। এসব বইয়ে একদিকে যেমন উঠে এসেছে কৃষি গবেষণার নানা বিষয়, অন্যদিকে ভেসে উঠেছে বাঙালি কৃষকের সুখ-দু:খ। প্রকাশকরাও জেনে বুঝেই সময়ের প্রয়োজনেই আগ্রহী হয়েছেন কৃষি বিষয়ক গ্রন্থ প্রকাশে। তারা বলছেন, দেশে শিক্ষিত মানুষ বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছে শিক্ষিত কৃষকের সংখ্যাও। সেই সব কৃষকরাই কৃষি সম্কর্কিত বইয়ের মূল পাঠক। যারা বইকে ব্যবহার করছেন মাঠে। কৃষিতে আনছেন সাফল্য। হতাশার কথাও শোনালেন প্রকাশকরা। একদিকে কৃষি বিষয়ে বই কম। কম কাটতিও। তাছাড়া মেলায় কৃষি বিষয়ক বইয়ের সুনির্দিষ্ট কোন স্টল নেই। যার ফলে অনেকের আগ্রহ থাকার পরও খুঁজে মেলাতে পারছেন না কাঙ্ক্ষিত বইটি। এবারের মেলায় প্রকাশ পেয়েছে, কৃষিবিদ মো. নূরুল হুদা আল মামুনের লেখা ‘বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় কৃষি’। এ বইটিতে বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হয়েছে। অপার সম্ভাবনায় বাংলাদেশে কৃষি বিজ্ঞানের প্রসার ঘটাতে এ বইটিতে রয়েছে কৃষি ব্যবস্থাপনা সম্কর্কে সমস্যা ও সমধানের উপায়। বইটির মূল্য নির্ধারন করা হয়েছে ১৫০ টাকা। বইটি পাওয়া যাচ্ছে মেলার ‘প্রান্ত প্রকাশনা’র স্টলে। কৃষিবিদ ও গবেষক ড. এস এম ফখরুল ইসলামের তিনটি বই প্রকাশ পেয়েছে। ফসলের চাষবাস-মূল্য ১৫০ টাকা, কলাম টিস্যু- মূল্য ১৩০ টাকা ও সবজি চাষ- মূল্য ১২০ টাকা। বই তিনটি মেলার ‘হাতেখড়ি’ স্টলে পাওয়া যাচ্ছে। প্রকাশিত হয়েছে সরকার মোহামম্দ আবুল কালাম আজাদের বই ‘আধূনিক পদ্ধতিতে কবুতর ও কোয়েল পালন’। এ বইটির মূল্য ১৫০ টাকা।এছারাও প্রকাশিত হয়েছে কবি মো: সাদেক আলী দেওয়ানের লেখা কবিতার বই ‘চাষীর ঘাড়ে’। এ বইটিতে রয়েছে আমাদের দেশের অবহেলিত কৃষিজীবিদের জীবন বাস্তবতা নিয়ে লেখা কবিতা। ক্ষুধা দারিদ্র্য ও বৈরী জলবায়ুর সঙ্গে লড়াই করে আমাদের দেশের কৃষক কিভাবে সংগ্রাম করে চলেছে, তারই প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে বইটিতে।তবে আগে প্রকাশিত বইয়েরও রয়েছে বেশ চাহিদা। তার মধ্যে অন্যতম ‘ফসলের পুষ্টি সমস্যা ও প্রতিকার’, ‘ফলবাগানের পোকামাকড়’ , ‘চাষাবাদে বারোমাস’, ‘গবাদি পশু পালন ও চিকিত্সা’, ‘মাছ ও চিংড়ী চাষ’, ‘শাক সবজি ফুল ও ফল উত্পাদন ও পরিচর্যা’, ‘বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মৌমাছি পালন’ গবাদিপশু পালন, রকমারি ফল চাষ, মাশরুম পরিচিতি ও চাষবাদ, পোলট্রি, ডেইরি, ফিস ফার্মিং ইত্যাদি। মেলায় কৃষি বই খুঁজছে এমন একজনের সঙ্গে কথা হলো। তিনি কুষ্টিয়ার একজন সবজি চাষী। তিনি বললেন, মেলা থেকে ‘ফসলের পুষ্টি সমস্যা ও প্রতিকার’ বইটি কিনেছি। এছাড়া কৃষি বিষয়ে সব সময় নতুন খোঁজ খবর রাখার চেষ্টা করি। তিনি অভিযোগ করেন, মেলায় তাকে কৃষি বই পেতে অনেক বেগ পেতে হয়েছে। কৃষি সম্কর্কিত বইয়ের সুনির্দিষ্ট স্টল না থাকায় বই খুঁজে পেতে অসুবিধা হচ্ছে। প্রান্ত প্রকাশনার মালিক মোঃ আমিনুর রহমান জানান, প্রতি বছরই বইমেলায় কৃষি ভিত্তিক বইয়ের কিছু নির্ধারিত পাঠক থাকে। এবারও মেলায় কৃষিভিত্তিক বইয়ের চাহিদা রয়েছে। প্রকাশকরা জানালেন, কৃষি বিষয়ে আগ্রহ বাড়ছে পাঠকের। কৃষকদের মাঝে কৃষি বই জনপ্রিয় করে তুলতে মিডিয়ার ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা মনে করেন।