রোমে আলোচনায় বসবে না সিরিয়ার সরকার বিরোধীরা

সিরিয়ান ন্যাশনাল কাউন্সিল রোমে ফেন্ডস অব সিরিয়ার ’বৈঠকে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তারা রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বৈঠকেও অংশ নেবে না বলে জানিয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়া প্রশ্নে দ্বিমুখী নীতি পরিচালনা করছে বলে শুক্রবার অভিযোগ করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ।—খবর আল জাজিরা ও রয়টার্সের। শুক্রবার আলেপ্পোতে মিসাইল হামলায় বহু লোক হতাহতের ঘটনার পর এক বিবৃতিতে ন্যাশনাল কাউন্সিল জানায়, সিরিয়ায় মানবতা বিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতার প্রতিবাদে তাদের এই পদক্ষেপ। তারা বলেন, আলেপ্পোতে স্কাড ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শত শত মানুষ নিহত হয়েছে, পরিকল্পিতভাবে সভ্যতা ও জনগণকে ধ্বংস করা হচ্ছে। তারা আরো বলেন, এই হত্যাযজ্ঞের নৈতিক ও রাজনৈতিক দায় রাশিয়ার ওপরও বর্তায় কারণ তারা আসাদ সরকারকে অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করছে। সিরিয়ার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নির্লজ্জ নীরবতার প্রতিবাদে রোম, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেছে সিরিয়ান ন্যাশনাল কাউন্সিল। দামেস্কে গাড়িবোমা হামলার নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বিবৃতি আটকে দেয়ার জন্য ওয়াশিংটনকে দোষারোপ করেছেন সের্গেই ল্যাভরভ। সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে বৃহস্পতিবারের গাড়িবোমা হামলায় ৫৩ জন নিহত হওয়া ছাড়াও হামলাস্থলের কাছে রাশিয়ার দূতাবাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এ হামলাকে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ বিরোধীদের ‘সন্ত্রাসী’ তত্পরতা বলে বর্ণনা করেছে। শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যাভরভ বলেন, “সিরিয়ায় সন্ত্রাসী তত্পরতার নিন্দা না জানিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র যে অবস্থান নিয়েছে তাতে আমরা হতাশ।” তিনি বলেন, “সন্ত্রাসী তত্পরতার নিন্দা জানানোর যে মূলমন্ত্র নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে একাট্টা হয়েছে সে অবস্থান থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে আসছে।” “যে কোনো সন্ত্রাসী তত্পরতার নিন্দা জানানোর মূলনীতি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের এ সরে যাওয়ার প্রবণতা অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং এটি দ্বিমুখী নীতির পরিচায়ক বলেই আমরা মনে করি,” বলেন ল্যাভরভ। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদেশ হিসাবে রাশিয়া এর আগে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ বিরোধী তিন তিনটি প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আসাদের পদত্যাগের জন্য চাপ দিয়ে আসছে। কিন্তু সিরিয়া সঙ্কট সমাধানে আসাদের পদত্যাগ কোনো পূর্বশর্ত হতে পারে না বলেই দাবি করে আসছে রাশিয়া।