চুল আর চিরুনির চাপাবাজি

চুল আর চিরুনির একদিন তুমুল ঝগড়া—কে কার চেয়ে বড়? কে কার চেয়ে দামি? কার প্রয়োজনীয়তা বেশি? কাকে সবাই পছন্দ করে? কার বেশি যত্ন? কাকে ছাড়া চলে না? কে না থাকলে কী হতো?

এই বাকবিতণ্ডার মধ্যে পড়েছে মিস্টার উঁকুন বাবু। দুজনের ঝগড়ার তাণ্ডবে কোনোরকমে একগোছা চুলের আড়ালে গিয়ে ওঁত পেতে তাদের ঝগড়া শুনছে।

চিরুনি বলছে, ‘মিয়া চুল! বেশি কতা কইয়ো না। আমি যদি না থাকতাম তোমার অবস্থা ছিল ঝড়ে ভেজা কাকের মতো। লোকে দেখলে তোমার মালিকরে সজারু বলে ডাকত। তাছাড়া আমি না থাকলে মাথা না আঁচড়াতে আঁচড়াতে তুমি জট হয়া যাইতা। লোকে তোমার মালিকরে পাগল কইয়া ডাকত। পোলাপানে জট ধইরা টান দিত। এবার বোঝো আমার গুরুত্ব কতখানি!’

চিরুনির মুখ থেকে কথা কেড়ে নিয়ে এবার চুল বলল, ‘আহারে মোর বাহাদুরি! যদি চুলই না থাকত তবে চিরুনির কী দরকার ছিল? আমি আছি বলেই তোমায় বাজার থেকে কিইনা ঘরে আনে। আমার ভেতরে তোমারে চালান করে। যত ময়লা আর ধুলা পরিষ্কার করে। আবার আমার ভেতর উঁকুন বাসা বাঁধলে তোমারে দিয়া ছাড়ায়। কখনো হাত দিয়া উঁকুন ধরে তোমার গায়ের ওপর রেখে মারে। যতসব নোংরা কাজগুলোই তোমারে দিয়া করে। আর আমি কত দামি দ্যাখো। রোজ রোজ আমাকে আদর করে শ্যাম্পু মাখায়। কত খাতির-যত্ন করে। আবার কত স্টাইল করে গুছিয়ে রাখে। আমি আমার মালিকের মাথায় ছায়া দিই। রোদ থেকে মাথার চামড়া বাঁচাই। তুমি তো তুচ্ছ। নোংরা ফেলতেই তোমাকে ব্যবহার করা হয়। অত ভাব নিয়ো না। চুল না থাকলে চিরুনি জিরো।’

চুলের অপমানমূলক বাক্যগুলো শুনে চিরুনির তো চান্দি গরম। ক্ষেপে গিয়ে বলতে থাকে, ‘আরে মিয়া চুল! তোমার অবস্থা তো করুণ। মানুষে মানুষে ঝগড়া লাগলে তোমারে ধইরা টানে। আবার সেলুনে গেলে কাঁচি দিয়া কাইট্টা তোমারে টুকরা টুকরা বানায়। সেলুনের মেঝেতে পড়ে থাকো, সবাই মিলে পদদলন করে। আবার কখনো কোনো খাবারের মধ্যে তোমারে পাওয়া গেলে তোমার মালিকরে গালাগালি করে। আর আমাকে দেখো সেলুনে কত যত্ন করে ব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করে রাখে। আমার ভ্যালু কত দ্যাখো—সন্ত্রাসীদের ধরতেও আমার নামে অভিযান করা হয়। অতএব চুল মিয়া তুমি তুচ্ছ, আমিই সেরা!’

মিস্টার উঁকুন বাবু দুজনার কথা শুনে মনে মনে চিরুনির উদ্দেশে বলে, ‘আরে মিয়া চিরুনি, তুমি তো আমার চির শত্রু। তোমার জন্য আমার টিকে থাকা দায়। তবে বাবা চিরুনি আর চুল মিয়া! চাপাবাজিতে কিন্তু দুজনেই কেউ কারো চেয়ে কম না।’