জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জামায়াতের হরতাল প্রতিহত করব

জামায়াত-শিবিরকে স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীদের দোসর হিসাবে আখ্যায়িত করে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের নামে উগ্রবাদী জামায়াতের ডাকা আজকের হরতাল প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় ১৪ দলের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেছেন, খালেদা জিয়ার প্ররোচনায় একাত্তরের মূর্তিতে দেশের বিরুদ্ধে আবারও অবস্থান নিয়েছে জামায়াত-শিবিরচক্র। একাত্তরে ধর্মের নামে অপপ্রচার চালিয়ে যেমন মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, ঠিক একইভাবে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার জন্য তারা এখন একই পথ ধরেছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করতে ইসলামপন্থি দলগুলোকে বিএনপি-জামায়াত উস্কানি দিয়ে শুক্রবার পরিকল্পিতভাবে সারাদেশে তাণ্ডব চালিয়েছে। বাঙালির জাতিসত্তার অন্যতম প্রতীক শহীদ মিনারে হামলা করার মতো স্পর্ধাও তারা দেখিয়েছে। এ কারণে এই অপশক্তিকে প্রতিহত করতে মুক্তিযুদ্ধের চেনতায় বিশ্বাসী সকলকে একাত্তরের মতো ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলতে হবে। জামায়াতের হরতাল প্রত্যাখ্যান করার জন্য নেতৃবৃন্দ জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের সকল কর্মকাণ্ড প্রতিহত করার লক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দিয়ে সাঁড়াশি অভিযান চালানোরও দাবি জানানো হয়। গতকাল শনিবার রাজধানীসহ সারাদেশের সব জেলা ও উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে ১৪ দলের নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের নামে উগ্রবাদী জামায়াত-শিবির শুক্রবার দেশব্যাপী যে সহিংস তাণ্ডব চালিয়েছে তার প্রতিবাদে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সকল সমাবেশ থেকে ১৪ দলের নেতৃবৃন্দ যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি আর অবিলম্বে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে আরো বলেন, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের ডাকা হরতালে সমর্থন দেয়ায় আবারো প্রমাণ হলো যুদ্ধাপরাধীদের দোসর হয়ে জামায়াতের কার্যকলাপে ইন্ধন যোগাচ্ছে বিএনপি। এখনো যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার চেষ্টা বিএনপিও অব্যাহত রেখেছে। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি ও জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ না ছাড়ার ঘোষণা দেন ১৪ দলের নেতৃবৃন্দ। ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে, চকবাজার প্রাঙ্গণে এবং বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই তিন স্থানে প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বিএনপি ও খালেদা জিয়ার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্ররোচনায় তথাকথিত উগ্র মৌলবাদী জামায়াত-শিবির শক্তি সারাদেশে শুক্রবার তাণ্ডব চালিয়েছে। তিনি বলেন, মসজিদ ব্যবহার করে, মুসল্লিদের হেনস্থা ও বায়তুল মোকাররমের খতিবকে অপমান করে খুতবা শেষ হওয়ার আগেই পবিত্র জুমার দিনে অস্ত্র ও বোমা নিয়ে তারা রাস্তায় নামে। এই অপশক্তির ডাকা হরতালে সমর্থন দেয়ায় প্রমাণ হয়ে গেছে বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের দোসর। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি আর জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ আজ ১৬ কোটি মানুষের দাবি। এ দাবি বাস্তবায়ন করতে হবে। স্বাধীনতাবিরোধীদের আস্ফাালন আর সহ্য করা হবে না। তিনি পরিবহন ও দোকান মালিক সমিতিসহ সর্বস্তরের জনগণের উদ্দেশে বলেন, আজকের হরতাল প্রত্যাখ্যান করুন। আমরা ১৪ দলের নেতা-কর্মীরা আপনাদের সঙ্গে আছি। জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডব প্রতিহত করতে প্রশাসনকে আরো তত্পর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আমার দেশ পত্রিকা বন্ধ করতে হবে। মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করতে হবে। কেননা সে পাকিস্তানের এজেন্টের ভূমিকা পালন করছে। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে তথ্যমন্ত্রী ও জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু ইসলামী সমমনা ১২ দলের উদ্দেশে বলেন, আপনারা জামায়াত-শিবিরকে ত্যাগ করুন। নইলে আমরা যেভাবে জামায়াতকে প্রতিরোধ করেছি সেভাবে আপনারেকে প্রতিরোধ করবো। তিনি বলেন, ইসলাম ও মহানবীর (স.) সম্মান হেফাজতে নিয়োজিত রয়েছে সরকার। তিনি বলেন, ইসলামের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে সরকার তাদের বিচার করছে। কিন্তু আমার দেশ পত্রিকা বারবার ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে মুসলমানদের উত্তেজিত করেছে। ইসলামী ও সমমনা ১২ দলের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা ইসলাম নাকি জামায়াত ইসলামকে হেফাজত করতে চান আগে সেটা স্পষ্ট করুন। সরকারের পাশে এসে দাঁড়ান। আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদকের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় গতকাল শনিবার মামলা হয়েছে। তাকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। তিনি বলেন, রাজীব শহীদ হয়েছেন। এখন তাকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তার মৃত্যুর আগে ইসলাম অবমাননা নিয়ে কেন লেখা প্রকাশ হলো না? তিনি জীবিত থাকতে ধর্মের বিরুদ্ধে এ লেখা প্রকাশ হলে আমরা তার বিচার করতাম। কিন্তু তার মৃত্যুর পর কেন উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ লেখা প্রকাশ করা হলো? সমাবেশে সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক ও শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, গণতন্ত্রী পার্টির নুরুর রহমান সেলিম, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এমএ আজিজ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম লিটন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।