ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ‘আমার দেশের’ অবস্থান অটুট থাকবে

শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরের আন্দোলকে প্যারালাল রাষ্ট্র কিনা সেই প্রশ্ন তুলেছেন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারাপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘আদালতে রায়ের বিরুদ্ধে কোনো কথা বললেই তার বিরুদ্ধে সুয়োমোটো জারি করা হয়। গত বছরের ২৩ ডিসেম্বরের দুইটি আর্টিক্যাল লেখার অপরাধে আমার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা হয়। এমনকি সরকারের প্রভাবশালী নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকেও আদালতে গিয়ে ক্ষমা চাইতে হয়েছে। অথচ শাহবাগ চত্বর থেকে প্রকাশ্যে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা হচ্ছে।’ গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারের দৈনিক আমার দেশ কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমার দেশ পত্রিকার অবস্থান অটুট থাকবে। তাতে যদি আমি জেলে থাকি কিংবা জেলের বাইরে থাকি। দেশের সব গণমাধ্যমতো শাহবাগের আন্দোলনের পক্ষে কথা বলে! প্রথমদিনের সামান্য জমায়েত থেকে এতো বড় জমায়েতের জন্য মূল কারণ গণমাধ্যমই। যদি গণমাধ্যম এই বিষয়টিকে এতো গুরুত্ব না দিতো তাহলে আন্দোলনের নামে ফ্যাসিবাদ জমায়েত হতো না।’ তিনি বলেন, শাহবাগে যখন আন্দোলন শুরু হলো তখন সব পত্রিকা ও গণমাধ্যম এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে সংবাদ পরিবেশন করেছেন। শুধু দুই/একটি পত্রিকা এর বিরুদ্ধে লিখেছে। এখন দেখছি আপনারা এই একটি পত্রিকার সমালোচনা পছন্দ করতে পারছেন না। তাহলে কি বলবো আমার দেশ সব গণমাধ্যমের চেয়ে শক্তিশালী। তিনি বলেন, অনেকে বলছেন শাহবাগের আন্দোলন গণতান্ত্রিক আন্দোলন; কিন্তু যে আন্দোলন থেকে আমাকে খতমের হুমকি দিয়েছে তাকে গণতান্ত্রিক আন্দোলন বলা যায় কিনা— এটা আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন। তিনি বলেন, কখনোই পত্রিকায় লিখিনি যে, ইসলাম ও রাসুলকে (স.) নিয়ে কুত্সা রটনাকারী ব্লগারের শাস্তি হোক। আমি শুধু তারা যা লিখেছে এবং তাদের সম্পর্কে আদালত যে রুল দিয়েছে সেগুলো প্রকাশ করেছি; কিন্তু আওয়ামী লীগের একটি সংগঠন ওলামা লীগ সম্প্রতি এক সাংবাদিক সম্মেলনে শাহবাগ আন্দোলনের অন্যতম নেতা ইমরান এইচ সরকারের শাস্তি ও ফাঁসির দাবি করেছে। তাহলে আমি উস্কানিদাতা হলাম কিভাবে? এখন দেখছি সরকারের সংগঠনই উস্কানি দিচ্ছে। রাসুলকে (স.) অবমাননা করার প্রতিবাদে সোমবার দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের একটি নফল রোযা রাখার আমন্ত্রণ জানিয়ে মাহমুদুর রহমান বলেন, রাসুল (স.) সোমবারে জন্মগ্রহণ ও ইন্তেকাল করেছেন। তাই আগামী সোমবার আপনাদের প্রতি আমার অনুরোধ, যারা রাসুলকে (স.) বিশ্বাস করেন, ভালোবাসেন, তারা একটা নফল রোযা রাখবেন। এবং তার পরদিন সকল ধর্মের বিশ্বাসীরা একটি সাদা কাগজে লিখবেন ‘ধর্মদ্রোহীদের ঘৃণা করি’ এবং কাগজটি ছড়িয়ে দিবেন। গ্রেফতারের আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এর আগেও ২০১০ সালে আমাকে জেল খাটতে হয়েছে। এমন একটি সাংবাদিক সম্মেলন শেষে আমাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাই আজই আমি গ্রেফতার হওয়ার আশঙ্কা করছি। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, বিশেষ প্রতিনিধি ইলিয়াস খান ও আইনজীবী মাসুদ তালুকদার।