বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা নজরদারিতে

১২টি ইসলামী দলের হরতালে চট্টগ্রামে যে কোনো ধরনের নাশকতা ঠেকাতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ। গত কিছুদিন ধরে বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের ব্যানারে জামায়াত-শিবির কর্মীরা হরতালে নগরীতে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়, সেজন্য এবার পুলিশ বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে। সম্মিলিত ওলামা মাশায়েখ পরিষদ, আল্লামা সাঈদী মুক্তি পরিষদসহ অন্য ইসলামী দলগুলোর নেতা-কর্মীদের গতিবিধির ওপর কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে বলে সিএমপির দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে। নাশকতা ঠেকাতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত ২ হাজার সদস্য মাঠে থাকবেন বলে জানিয়েছেন সিএমপি‘র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (ডিবি) মো. তারেক আহম্মেদ। সিএমপির দায়িত্বশীল সূত্র জানান, হরতাল চলাকালে সাদা পোশাকধারী পুলিশ সদস্যরা মাঠে থাকবেন। তাদের মূল লক্ষ্য থাকবে বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের বাসভবন অথবা কার্যালয়। গত কিছুদিন ধরে বিভিন্ন হরতালের সময় ধারণকৃত নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজ ও ছবি অনুসরণ করে দুর্বৃত্তদের আটক করতে পুলিশ তত্পর থাকবে বলে জানা গেছে। এদিকে হরতালের সময় কোনো ধরনের পিকেটিং করা হবে না বলে জানিয়েছেন ১২ ইসলামী দলের অন্যতম শরীক বাংলাদেশ নেজামে ইসলামী পার্টির সভাপতি মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী। এদিকে, গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবসহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে নগরীর কোতোয়ালি থানায় দুইটি মামলা করা হয়েছে। দুইটি মামলার মধ্যে একটি মামলা দায়ের হয়েছে পুলিশের ওপর হামলা, কর্তব্যকাজে বাধাদান, অগ্নিসংযোগ, ভাংচুরের অভিযোগে সন্ত্রাস দমন অধ্যাদেশে। এ মামলায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের মহানগর উত্তর শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ২৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামী হিসাবে রাখা হয়েছে আরও সাড়ে তিন হাজার জনকে। অপর মামলাটি দায়ের করা হয়েছে দ্রুত বিচার আইনে। এতে গ্রেফতার হওয়া একজনসহ পলাতক আরও দুইজনকে আসামী হিসাবে দেখানো হয়েছে। ১২ ইসলামী দলের সোমবারের হরতাল প্রত্যাহার চট্টগ্রাম জেলায় ১২টি সমমনা ইসলামী দলের ডাকা সোমবারের পূর্ণদিবস হরতাল প্রত্যাহার করা হয়েছে। এদিন হাটহাজারী কলেজ মাঠে হেফাজতে ইসলামীর মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।