ধর্ম নিয়ে কাউকে খেলতে দেয়া হবে না
প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:২৫
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, তার সরকার কোনো অশুভ শক্তিকে জনগণের ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে খেলতে দেবে না। তিনি গতকাল শনিবার বিকালে রাঙ্গামাটির শহীদ শুক্কুর স্টেডিয়ামে এক বিশাল জনসভায় ভাষণদানকালে বলেন, ধর্ম নিয়ে খেলা করার অধিকার কারো নেই। যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় এ ধরনের খেলা জনগণ মেনে নেবে না।
প্রধানমন্ত্রী দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সবাইকে এ ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে— যাতে কেউ আগুন নিয়ে খেলা করতে না পারে। রাঙ্গামাটি জেলা শাখা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর তালুকদারের সভাপতিত্বে এ জনসভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান বীর বাহাদুর এমপি ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী বক্তৃতা করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার ধর্ম নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য অথবা কোনো পত্রিকা বা মিডিয়ায় এ ধরনের প্রচারণা ও প্রকাশনা চালানো সহ্য করবে না। তিনি বলেন, যারা এ ধরনের মন্তব্য করেন এবং যারা পত্রিকায় এ ধরনের মন্তব্য প্রকাশ করেন তারা সমান অপরাধ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার দল ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র গড়ে তোলার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যাতে সকল ধর্মের মানুষ পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ এবং মুিক্তযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করতে পারে। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অব্যাহত থাকবে এবং সকল রায় কার্যকর করা হবে। তিনি বলেন, যারা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সহযোগী বাহিনী হিসেবে কাজ করেছে এবং আমাদের মা-বোনদের সম্ভ্রমহানি করেছে তাদের সবাইকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।
কেওকারাডংয়ে দেশের সর্বোচ্চ পর্যটন কেন্দ্র উদ্বোধন
পার্বত্য চট্টগ্রামের অপরূপ সৌন্দর্য অবলোকনের নতুন সুযোগ উন্মোচিত হবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে আজ এখানে প্রথম দেশের সর্বোচ্চ চূড়ায় অবস্থিত পর্যটন কেন্দ্র চালু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সর্বোচ্চ পর্বত কেওকারাডং-এ এই পর্যটন কেন্দ্র উদ্বোধন করেন। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের কাছে জেলার রুমা উপজেলায় ৩ হাজার ১৭২ ফুট উঁচুতে এই পর্যটন কেন্দ্রটি অবস্থিত। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তত্ত্বাবধানে ১৮ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাটালিয়ন পর্যটন কেন্দ্রটি নির্মাণ করেছে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শিল্পী এম ইয়াকুব আলীর নকশা করা একটি স্মৃতি ফলকের মোড়ক উন্মোচন করেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী রাঙ্গামাটিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাজেক ক্যাম্প পরিদর্শন করেন।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ওই সময় পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর মিত্র ৩৭ হাজার রাজাকার ও আল-বদরকে আটক করা হয়েছিলো এবং এর মধ্যে ১১ হাজারকে শাস্তি দেয়া হয়েছিলো। তিনি বলেন, কিন্তু সামরিক স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান ১৯৭৫ সালে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে এদের মুক্ত করে দেয়।
আগামী সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রতি সমর্থন জোরদার করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেবলমাত্র নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের জন্য সংবিধান সংশোধন করে জনগণকে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে গত চার বছরে দেশে সাড়ে ৫ হাজার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, ভবিষ্যতেও সকল নির্বাচন সরকারের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ ছাড়া অনুষ্ঠিত হবে।