এফবিসিসিআই হরতাল প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন

দেশের অর্থনীতিসহ সার্বিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক রাখতে হরতাল প্রত্যাহারের আহবান জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। তারা আজকের হরতালসহ ভবিষ্যতে হরতালের মতো কর্মসূচি বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে সব রাজনৈতিক দলের কাছে। সরকারি ও বিরোধীদলসহ সব রাজনৈতিক দলের আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পক্ষ মত দিয়েছেন তারা। গতকাল এফবিসিসিআইয়ের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রবিবার কতিপয় রাজনৈতিক দল কর্তৃক দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহ্বান করায় এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর পরিপ্রেক্ষিতে, সাংঘর্ষিক রাজনীতি যে আমাদের উন্নয়নের পথে মহাহুমকি হয়ে দেখা দিচ্ছে তার জন্য সমগ্র ব্যবসায়ী সমাজের পক্ষ থেকে এফবিসিসিআই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। ঘন ঘন হরতালের নামে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি ও সাধারণ নিরীহ মানুষের জানমালের ক্ষতি দেশের ব্যবসায়ী সমাজ কোনভাবেই সমর্থন করতে পারে না। হরতাল যেমন গণতান্ত্রিক অধিকার তেমনি হরতাল না করাটাও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার। জোর করে, সন্ত্রাস করে, ভয়-ভীতি দেখিয়ে হরতাল সংগঠিত করাকে ব্যবসায়ী সমাজ প্রত্যাখ্যান করে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সামপ্রতিক বিভিন্ন ইস্যুতে ইতিমধ্যে বেশ কয়েক জনের অকাল প্রাণহানি এবং জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন আর্থিক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ হয়েছে। ব্যবসায়ী সমাজ এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে এবং এ ধরনের কার্যকলাপ থেকে সকলকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছে। জাতির জন্য এই মুহূর্তে যা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তা হলো সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষা, দারিদ্র্য মুক্তি এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও দেশের উন্নয়নে রাজনীতিবিদদের ইতিবাচক ভূমিকা রাখা। এ প্রেক্ষাপটে দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে হরতাল কর্মসূচি প্রত্যাহারের জন্য দেশের ব্যবসায়ী সমপ্রদায়ের পক্ষ থেকে এফবিসিসিআই জোর দাবি জানাচ্ছে। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ’র উদ্বেগ আজ দেশব্যাপী সকাল সন্ধ্যা হরতাল আহবান করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ। এক প্রেসবার্তায় গতকাল জানানো হয়, গত ডিসেম্বর মাসে ৩ দিন হরতাল ও ২ দিনের অবরোধ কর্মসূচি, গত জানুয়ারি মাসে ২ দিন হরতাল ও চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে ২ দিন হরতাল পালন করার পর আবারো হরতালের আহবান করায় তৈরি পোশাক শিল্প উদ্যোক্তাদের গভীরভাবে হতাশাগ্রস্ত করে তুলেছে। উদ্যোক্তারা মনে করে, এভাবে ঘন ঘন হরতাল আহবান করা হলে বেসরকারি খাতে সর্ববৃহত্ কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী পোশাক শিল্পের অস্তিত্ব কোনভাবেই ধরে রাখা সম্ভব হবে না। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ মনে করে, ঘন ঘন হরতাল আহ্বান করা হলে অর্থনীতিরই ক্ষতি হবে সবচেয়ে বেশি, যা কাটিয়ে উঠা এ অর্থনীতির পক্ষে কোনভাবেই সম্ভব না। বর্তমানে বিদেশি ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে আসতে চাচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে হরতালের নামে রাজনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হলে তা তাদের বাংলাদেশে আসতে নিরুত্সাহিত করবে যা কোনভাবেই কাম্য নয়। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ একান্তভাবে আশা করে যে, সকল রাজনৈতিক দল সংঘাতমূলক রাজনীতি পরিহার করবে এবং এতে করে দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচবে।