পড়েছি চাপার বিড়ম্বনায়

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জানতে পারলাম মেয়েরা ছেলেবন্ধু পেলেই মুরগি বানায়। মেয়েদের বন্ধু হওয়া মানেই তাদের নোট বানিয়ে দেওয়া, স্যারের লেকচার শিট সংগ্রহ করে পৌঁছে দেওয়া, বাজার করে দেওয়া কিংবা রাত-বিরাতে হলে খাবার দিয়ে আসা, ওষুধ কিনে দেওয়া, মেয়ের বয়ফ্রেন্ড এলে তাকে নিজের রুমে রাখা, যত্নআত্তি করা ইত্যাদি। এসব ছেলেরা এমনি এমনি করে না। ছেলেরা এগুলো করতে বাধ্য হয়, মেয়েরা এক অজানা শক্তির বলে এই কাজ করায়। আমি তো সেই ভয়ে অস্থির। আমি যে নাজুক মানুষ, মেয়েদের সঙ্গে মেশা যাবে না। মিশলেই আমাকে কাবু করে ফেলবে। তাই কারো সঙ্গে না মেশার সিদ্ধান্ত নিলাম। আর মনে মনে পয়দা করলাম ইতিহাসশ্রেষ্ঠ চাপা। বলে দিলাম আমার রিলেশন আছে। সেও আবার কঠিন রিলেশন! প্রেমিকা আমাকে কোনো মেয়ের সঙ্গে না মেশার কঠিন দিব্যি দিয়েছে। ফ্যাকাল্টির এক প্রোগ্রামে এক বান্ধবীর সঙ্গে র্যাম্প করার কথা ছিল। সে যাত্রায় বেঁচে গিয়েছিলাম এ দিব্যির কারণে। নাহলে এই মেয়েই আমাকে নাকে রশি লাগিয়ে ঘুরাত। যাই হোক, চাপাটা সবাই ভালোই গিলেছে কিন্তু বাধ সাধল এই বলে যে, জানাতে হবে বিস্তারিত। পরে আমার মনের মাধুরী মিশিয়ে চাপাটা সাজালাম। অতঃপর ইচ্ছামতো একটা নাম, ঠিকানা দাঁড় করালাম, প্রেমিকার বর্ণনা দিলাম। সবাই চাপাটা দারুণভাবে গিলল। তবে চাপাটা পরের দিনই বড় একটা বিপদে ফেলে দিল আমাকে। ক্লাসে ঢুকে দেখি সবাই কেমন করে তাকাচ্ছে, কৌতূহলের চাহনি। ক্ষণিক বাদেই জানতে পারলাম, আমি যে নাম-ঠিকানা দিয়েছি, যে বর্ণনা দিয়েছি, সেই মেয়েটাই হাজির! তার মানে আমার কথিত প্রেমিকা। সবাই সেটাই ধরে নিল, আমিও চাপার তালে বুঝিয়ে দিলাম নীরবতাই সম্মতির লক্ষণ। সপ্তাহ ঘুরে যেতেই সবাই দেখল, আমাদের মধ্যে কোনো কথাবার্তা-দেখাসাক্ষাত কিছুই হয় না, তাই সন্দেহ দানা বাঁধল সবার মনে। আমার চাপা ধরে ফেলার অবস্থা সবার। আমি বিপদ বুঝতে পেরে একদিন সুযোগ বুঝে মেয়েটার পায়ে লুটিয়ে পড়লাম। বললাম, আমার বিপদের কথা, সে আগ্রহভরে শুনল, রাগ করল না, বরং মজাই পেল। সে বলল, ‘এখন আমি কী করতে পারি?’ আমি তার কাছে সামান্য একটু কথাবার্তা বলার অভিনয় আর কেউ জিজ্ঞেস করলে যেন বলে আমাদের রিলেশন আছে এই আবেদন করলাম। সে অকপটে রাজি হয়ে গেল। শুধু বলল, ‘একটা শর্ত আছে।’ ওই শর্তটা হলো ওই নোটস, লেকচার শিট, বাজার, ওষুধ ইত্যাদি সার্ভিস দিতে হবে!

আমি নিরুপায় হয়ে রাজি হলাম। এরপর আমার ওপর স্টিমরোলার চলল, ঝড় বয়ে যেতে লাগল। দিন নেই রাত নেই খেটে যেতে লাগলাম। একসময় এই অসহ্য যন্ত্রণা না সইতে পেরে ফেসবুকে লিখে দিলাম ‘ব্রেকাপ’। ছেলেরা সবাই দুঃখ প্রকাশ করলেও মেয়েরা দিচ্ছে হাঃ হাঃ রিয়েকশন। ঘটনা কী! কিছুক্ষণ পরে যে মেয়েটার সঙ্গে র্যাম্প করার কথা ছিল, তার কমেন্ট এল, ‘রিলেশন তো তোমার ছিলই না, চাপা মেরেছ, তা আমরা ধরে ফেলেছি। যে মেয়েটাকে গার্লফ্রেন্ড বলছ সে আমাদেরই তৈরি, তোমার চাপা গার্লফ্রেন্ডের নাম-ঠিকানা অনুযায়ী। এখন বোঝো মজা! মেয়েদের সঙ্গে চাপাবাজির মজা নিশ্চয়ই বুঝেছ!’