‘নারী নির্যাতন বন্ধ হোক’

ড. ব্রিটা থেজ কি য়ে ল ই উ নি ভা র্সি টি উন্নত বিশ্বের তুলনায় এ দেশের নারীদের পিছিয়ে থাকার অনেকগুলো কারণের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল অশিক্ষা, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ও অনুন্নত প্রশাসনিক কাঠামো ইত্যাদি: সেসব দেশে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, টেলিফোন ব্যবস্থা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা, প্রশাসনের সুব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থাকায় একজন নারী যে কোনো সমস্যায় তাত্ক্ষণিকভাবে সহায়তা পেয়ে থাকেন, এছাড়া রয়েছে উন্নত কাউন্সিলিং ব্যবস্থা। যে কারণে তাদের দেশের নারীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা অনেক কম। বাংলাদেশে এখন থেকেই এ সকল বিষয়গুলো চালু করলে এ দেশের নারীরা নির্যাতনের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবে বলে মনে করেন ড. ব্রিটা। এছাড়া একজন নারী ধর্ষণ বা নির্যাতনের পরবর্তী সময়ে ডাক্তার, পুলিশ থেকে শুরু করে আদালত পর্যন্ত যেন নিরাপদ থাকতে পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে। এক্ষেত্রে শুধু নারীকেই নয়, পুরুষকেও এগিয়ে আসতে হবে। রাশেদা কে চৌধুরী সি এ এম পি ই- এ র নি র্বা হী প রি চা ল ক মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) বলেছেন, বিদ্যা অর্জনে প্রয়োজন হলে সুদূর চীন দেশে যাও। কিন্তু আমাদের পুরুষতান্ত্রিক শিক্ষাব্যবস্থায় পুরুষদের তুলনায় নারীরা অনেকটা পিছিয়ে। পূর্বের তুলনায় নারী শিক্ষার হার অনেকাংশে বৃদ্ধি পেলেও পদ্ধতিগত ভিন্নতার কারণে নারীদের শিক্ষার আনুপাতিক হার খুবই কম। এছাড়া মেধা তালিকায় ছেলেদের তুলনায় এগিয়ে থাকলেও অনেক সময় নিরাপত্তার অভাবে মা-বাবা তাদের কন্যাদের বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করতে বাধ্য হন। কারণ আমাদের দেশে প্রতিনিয়ত গড়ে প্রায় ৬০ ভাগ নারী এসিড সন্ত্রাস, ধর্ষণ, ও ইভটিজিংসহ বিভিন্ন নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকেন। কিন্তু এতকিছুর পরেও বাংলাদেশের বেগম রোকেয়া ও পাকিস্তানের মালালার দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই যে নারী শিক্ষা বিস্তারে তারা তাদের জীবনকে উত্সর্গ করেছেন। তানিয়া হক চে য়া র পা র্স ন, উ ই মে ন এ ন্ড জে ন্ডা র স্টা ডি জ, ঢা. বি সর্ব প্রথমে আমাদের জানা প্রয়োজন যে, জেন্ডার ও শিক্ষা এই দুটোকে আমরা কোন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছি। কারণ একটা জাতির উন্নয়নের মূল হাতিয়ার হচ্ছে শিক্ষা। কিন্তু আমাদের দেশে প্রাথমিকভাবে দেখা যায় যে নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে অধিকাংশ পরিবারে মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের শিক্ষা ব্যবস্থায় বেশি জোর দেয়া হয়ে থাকে। এর প্রধান কারণ হল দারিদ্র্যতা, সামাজিকভাবে নারীদেরকে ছোট করে দেখাসহ বিভিন্ন বিষয়। যদিও আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় ধরে নেয়া হয় যে ছেলেই হল পরিবারের একমাত্র অবলম্বন। ভবিষ্যতে মা-বাবার সকল দায়-দায়িত্ব সে বহন করবে, আর মেয়ে কিছুদিন বাদে বিয়ে করে অন্যত্র চলে যাবে। সে পরিবারের কোনো বিষয়ে ভূমিকা রাখতে পারবে না। এভাবে প্রতিটা ধাপে একজন নারীকে চার দেয়ালের ঘেরাটোপে আবদ্ধ রেখে সমাজ তথা দেশের উন্নয়ন আদৌ সম্ভব নয়।