আমানতের তুলনায় বেশি বিনিয়োগ করায় ঝুঁকিতে চার ব্যাংক

আমানত-ঋণের নির্ধারিত সীমা না মেনেই বিনিয়োগ করছে বেশ কয়েকটি ব্যাংক। তারল্যের চাহিদার চেয়ে যোগান কম হওয়ার পরেও এসব ব্যাংক নিয়ম বহির্ভূতভাবে বিনিয়োগ করেছে। আর এতে ব্যাংকগুলোর ঝুঁকিও বেড়ে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গত ডিসেম্বরভিত্তিক হিসাবে দেখা গেছে, দেশের ৪৭টি তফসিলি ব্যাংকের সার্বিক ব্যাংকিং খাতে আমানত-ঋণ হার (এডিআর) অনুপাত দাঁড়িয়েছে ৭৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ। তবে এ সময়ে কয়েকটি ব্যাংক সীমার চেয়েও অতিরিক্তি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ঋণ বিতরণ করেছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিশেষায়িত খাতের তিন ব্যাংক ও বিদেশি মালিকানাধীন খাতের একটি ব্যাংক এ সীমা অতিক্রম করে ঋণ বিতরণ করেছে। ব্যাংকগুলো হলো রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব), বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড (বিডিবিএল), বেসিক ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান। দেশে কার্যরত তফসিলি ব্যাংকগুলোর তহবিল ব্যবস্থাপনার মান উন্নয়নের জন্য আমানতের কত শতাংশ বিনিয়োগ করা যাবে সে সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নিয়ম অনুযায়ী প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলো মোট আমানতের সর্বোচ্চ ৮৫ শতাংশ এবং ইসলামী রীতিতে পরিচালিত ব্যাংকগুলো আমানতের সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাবে মতে, গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় মালিকানার চার বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণ-আমানতের গড় অনুপাত দাঁড়িয়েছে ৬৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ, বিশেষায়িত ব্যাংকে ৮২ দশমিক ৪৬ শতাংশ। বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে ৭৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ এবং বিদেশি ব্যাংকে ৭৬ দশমিক ৩০ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে ব্যাংকগুলোর ইসলামী নীতি মেনে শাখাগুলোর এডিআর দাঁড়িয়েছে ৮৬ দশমিক ৮৯ শতাংশ। অর্থাত্ সার্বিকভাবে এডিআর নির্ধারিত সীমার মধ্যেই ছিল। এ সময়ে সবগুলো ব্যাংকের গড় আমানত প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২০ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক ৬২ শতাংশ। যা জুন শেষে আমানতের গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ১৯ দশমিক ৮০ শতাংশ। ঋণ বেড়েছিল ১৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত। হিসাবে দেখা গেছে, বিদেশি খাতের ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান আমানতের তুলনায় ঋণ বিতরণ হয়েছে সর্বাধিক। তাদের আমানতের চেয়ে ৩৪৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকারও বেশি ঋণ বিতরণ করেছে। এ ব্যাংকের এডিআর দাঁড়িয়েছে ১৩৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ। এর আগের প্রান্তিক অক্টোবরে এ হার ছিল ১১৭ দশমিক তিন শতাংশ। এরপর রয়েছে বিডিবিএল তাদের আমানতের চেয়ে ২৪৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকারও বেশি ঋণ বিতরণ করেছে। ব্যাংকটির এডিআর হয়েছে ১২৯ দশমিক ২৮ শতাংশ। আর আলোচ্য সময়ে রাকাবের এডিআর দাঁড়িয়েছে ১০৭ দশমিক ২২ শতাংশ। এ ব্যাংকের আমানতের পরিমাণ এক হাজার ৫২৬ কোটি ৫২ লাখ টাকা হলেও ঋণ দিয়েছে তিন হাজার ৬৫১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এছাড়া বেসিক ব্যাংকের এডিআর অনুপাত হয়েছে ৯৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেছেন, প্রতিটি ব্যাংকের মোট ডিপোজিট রেশিও’র তুলনায় অতিরিক্ত ঋণ বিতরণ করেছে কিনা সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সবসময় নজর রাখছে। এজন্য সার্বিকভাবে ব্যাংকগুলোর এডিআর আগের তুলনায় ভালো অবস্থানে আছে। আগামী মার্চের মধ্যে এডিআর নির্দিষ্ট মাত্রায় নামিয়ে আনতে সীমা অতিক্রম করা ব্যাংকগুলোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।