‘আলীমের নির্দেশে ১০ জনকে হত্যা করে পাক সেনারা’

মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলায় বিএনপি নেতা আবদুল আলীমের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের ১১তম সাক্ষী দিলীপ কুমার চক্রবর্তী। গতকাল রবিবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেয়া সাক্ষ্যে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আলীমের নির্দেশে জয়পুর হাটের খঞ্জনপুরে ১০জনকে হত্যা করে পাকিস্তানি সেনারা। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে মামলার কার্যক্রম আজ সোমবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। এদিকে, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তার জেরা বন্ধ করে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে সাফাই সাক্ষীর সংখ্যা চারজনে নির্দিষ্ট করে দেন ট্রাইব্যুনাল। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৮ জন সাক্ষী। জবানবন্দিতে দিলীপ কুমার চক্রবর্তী (৫৮) বলেন, জয়পুর হাট মহকুমার মুসলীম লীগ নেতা শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল আলীমের নেতৃত্বে বিভিন্ন থানায় হত্যা নির্যাতন চালানো হয়। ১৯৭১ সালের আমাদের গ্রাম থেকে পাঁচ জনকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। এদের মধ্যে আমার কাকা মনি ভূষণ চক্রবর্তীও ছিলেন। পরে হারুনজা হাট থেকে পাক সেনা ও রাজাকারদের আরেকটি দল আরো পাঁচ জনকে ধরে নিয়ে আসে। তাদেরকে কিছুক্ষণ নির্যাতন করে একটি পিক আপ ভ্যানে উঠিয়ে জয়পুর হাট শান্তি কমিটির অফিসে আলীমের কাছে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে একজন। পরে জানতে পারি আলীমের নির্দেশে পাক বাহিনীর লোকেরা খঞ্জনপুর কুটিবাড়ীর ঘাটে তাদেরকে হত্যা করে। পরে সেখানে তাদেরকে গণকবর দেয়া হয়। উল্লেখ্য, গত ১১ জুন আবদুল আলীমের বিরুদ্ধে সাত ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের ১৭টি ঘটনা আমলে নিয়ে অভিযোগ গঠন করা হয়।