সমালোচনা এড়াতে সামরিক অধ্যাদেশ বিলে ব্যাখ্যা যুক্ত

গতকাল রবিবার বিকালে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হলে চারটি বিলের চূড়ান্ত রিপোর্ট উত্থাপন করা হয়। আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি বিলগুলো পরীক্ষ-নিরীক্ষা শেষে রিপোর্ট দিয়েছে। স্পিকার আবদুল হামিদ অ্যাডভোকেটের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হলে সংসদীয় কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়া রিপোর্ট উত্থাপন করেন। চারটি বিলের মধ্যে দু’টি হচ্ছে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও এইচএম এরশাদের সামরিক শাসনামলে জারি করা ১৬৬টি অধ্যাদেশ। এসব অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করতে আনা বিল দু’টিতে সমালোচনা এড়ানোর লক্ষ্যে নতুন ব্যাখ্যা যুক্ত করা হয়েছে। অপর দু’টি বিল হচ্ছে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সংসদে উত্থাপিত অনুদানের অর্থ বাড়ানোর লক্ষ্যে আনা বিল ‘প্রেসিডেন্ট’স (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০১৩’ ও ‘স্পিকার অ্যান্ড ডেপুটি স্পিকার (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০১৩’। এ দু’টি বিলেরও চূড়ান্ত রিপোর্ট দিয়েছে সংসদীয় কমিটি। সামরিক অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে জারি করা কতিপয় অধ্যাদেশ কার্যকরকরণ (বিশেষ বিধান) বিল-২০১৩ এবং ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ থেকে ১৯৮৬ সালের ১১ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে জারি করা কতিপয় অধ্যাদেশ কার্যকরকরণ (বিশেষ বিধান) বিল-২০১৩ পাসের সুপারিশ করেছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এদিকে জিয়া ও এরশাদের সামরিক শাসনামলে জারি করা অধ্যাদেশ সংক্রান্ত বিল দু’টি দফা-৪ এ ব্যাখ্যাযুক্ত করা হয়েছে। ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ‘তবে শর্ত থাকে যে, এই ধারার অধীন ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত জারি করা কতিপয় অধ্যাদেশ কার্যকর করা হলেও তার যতটুকু বিষয়বস্তুর সঙ্গে সংশ্লি¬ষ্ট, শুধু ততটুকু গ্রহণ করা হয়েছে মর্মে গণ্য হবে। একই সময়ের মধ্যে অবৈধ ও অসাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন সামরিক শাসনামলের কোনো কৃতকর্মের অনুমোদন বা সমর্থন দেয়া হয়েছে বলে বিবেচিত হবে না’। বিল দু’টির উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন-২০১১ এবং সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের প্রদত্ত রায় ও আদেশের প্রেক্ষিতে সৃষ্ট আইনী শূন্যতা সমাধানে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৭৭ সালের ৯ এপ্রিলের মধ্যে এবং ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ থেকে ১৯৮৬ সালের ১০ নভেম্বর পর্যন্ত জারি করা কতিপয় অধ্যাদেশ কার্যকর করতে রাষ্ট্রপতি দু’টি অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করেন। এ সংক্রান্ত দু’টি বিল মন্ত্রিসভা গত ১৪ ফেব্রুয়ারি অনুমোদন করেছে। বিল দু’টি আইনে পরিণত হলে আইনের শাসন, জনগণের অর্জিত অধিকার সংরক্ষণ ও প্রজাতন্ত্রের কাজের ধারাবাহিকতা চলমান ও অক্ষুণ্ন থাকবে।