হরতাল প্রতিরোধে গণজাগরণ মঞ্চের প্রতিবাদী মিছিল

ধর্মভিত্তিক কয়েকটি দলের ডাকা হরতাল প্রতিরোধে সোচ্চার ছিল গতকালের গণজাগরণ মঞ্চ। দিনভর প্রতিবাদী মিছিলে শ্লোগানে মুখর ছিল প্রজন্ম চত্বর। গতকাল হরতালকারীদের দৃশ্যত প্রতিরোধ চোখে পড়েনি। কিন্তু মিছিল ও শ্লোগানে হরতাল বিরোধী শ্লোগান ও যুদ্ধাপরাদীদের ফাঁসির দাবিতে মুখর ছিল ছাত্র-জনতা। গণজাগরণের মঞ্চ থেকে আন্দোলনকারীরা বলেন, হরতাল কিংবা নৈরাজ্য সৃষ্টি করে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি কার্যকর হওয়া থেকে বাচাঁনো যাবে না । গতকাল রবিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে শাহবাগের প্রজন্ম চত্বর থেকে হরতাল বিরোধী বিশাল এক মিছিল বের করে গণজাগরণ মঞ্চ। মছিলে ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন, জাসদ ছাত্রলীগ, ছাত্র মৈত্রী, ছাত্র ফ্রন্ট, ছাত্র ফেডারেশনসহ বিভিন্ন ছাত্র ও যুবসংগঠনের নেতাকর্মী এবং সর্বস্তরের জনগণ অংশগ্রহণ করেন। হরতালের প্রতিবাদে, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি এবং জামায়াত-শিবিরসহ ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে হাজারো কণ্ঠে শ্লোগান উঠে। মিছিলটি শাহবাগ থেকে শুরু হয়ে মত্স্য ভবন, জাতীয় প্রেসক্লাব, পল্টন ও দৈনিক বাংলার মোড় হয়ে আবার শাহবাগে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলের চলতি পথেও বিভিন্ন পেশার মানুষ যোগ দিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে শ্লোগান দেন। হরতাল বিরোধী মিছিল থেকে পুরানা পল্টনে অবস্থিত ইসলামী ব্যাংকের দিকে কয়েকটি ঢিল ছোঁড়া হয়। তবে এতে প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির সংবাদ পাওয়া যায়নি। মিছিলে নেতৃত্ব দেন জাসদ ছাত্রলীগের সভাপতি হোসাইন আহমেদ তফছির, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপকি এসএম শুভ, সাধারণ সম্পাদক হাসান তারেক, বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসু, সাধারণ সম্পাদক তানভীর রুসমত, ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি সাইফুজ্জামান সাকন, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তমাল, জাসদ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম, ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মেহেদী হাসান, সাধারণ সম্পাদক ওমর শরীফ প্রমুখ। এদিকে গতকাল সকাল নয়টায় গণজাগরণ চত্বরে এসে আন্দোলনরতদের সাথে সংহতি প্রকাশ করেন শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে শাহবাগ গণজাগরণ চত্বরে চলমান আন্দোলনের ২০তম দিন রবিবারে সারদিনে মানুষের অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও বিকাল থেকে মানুষের অংশগ্রহণ বাড়তে থাকে। চাকরিজীবী ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়তে থাকে শাহবাগ গণজাগরণ চত্বরে। সন্ধ্যার পর মানুষের আনাগোনায় মুখর হয়ে ওঠে প্রজন্ম চত্বর। বিদেশিদের সংহতি প্রকাশ যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে শাহবাগ গণজাগরণ চত্বরে চলমান আন্দোলনের ২০তম দিনে সংহতি প্রকাশ করেছে ভারত, মায়ানমার ও চীন থেকে আসা তিনজন বিদেশি নাগরিক। কার র্যালি নিয়ে ভারতের কলকাতা থেকে বাংলাদেশ হয়ে চীন যাওয়ার পথে গতকাল রবিবার দুপুরে ৮০ জনের দল থেকে তিনজন প্রতিনিধি এসে সংহতি প্রকাশ করেন। এসময় ভারতের প্রতিনিধি টাইমস অব ইন্ডিয়ার সাংবাদিক শুভ্র নিয়োগী সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম নতুন ইতিহাসের জন্ম দিয়েছে। আমরা বাংলাদেশের ওপর দিয়ে যাবো অথচ এখানে আসবো না, তা হতে পারে না! আমরা তারুণ্যের এ আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করতে এসেছি। গণস্বাক্ষরতা কর্মসূচিতে মানুষের ঢল যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে শাহবাগের গণজাগরণ চত্বরে চলমান গণআন্দোলনের অংশ হিসেবে গণস্বাক্ষরতা কর্মসূচিতে গতকাল রবিবারেও মিডিয়া সেলে ভিড় করছেন গণআন্দোলনে অংশগ্রহণকারীরা। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে শাহবাগ গণআন্দোলনের ২০তম দিনে ভোর সাতটা থেকেই আন্দোলনকারীরা জড়ো হন গণজাগরণ চত্বরে। জাতীয় সঙ্গীতের মধ্যদিয়ে শুরু হয় গণআন্দোলনের কার্যক্রম। এরপর পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে দফায় দফায় হরতাল বিরোধী গণমিছিল বের করা হয়। গণজাগরণ মঞ্চে আন্দোলনকারীদের বিবৃতি গতকাল রাতেই প্রজন্ম চত্বরে গণজাগরণ মঞ্চে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা দেয়া হয়। গণজাগরণ মঞ্চের আহবায়ক ডা. ইমরান এইচ সরকার আন্দোলনকারীদের পক্ষে এই ঘোষণা দেন। ঘোষণায় বলা হয়, আজ বিকাল ৩টার মধ্যে দৈনিক আমারদেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করতে হবে। অন্যথায় পরবর্তীতে আরো কঠোর কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে। গণজাগরণ মঞ্চের পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচী অনুযায়ি মিরপুর-১০ নম্বর গোলচক্করে আজ বিকালে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। দৈনিক আমারদেশ পত্রিকাসহ অন্য যেসব পত্রিকায় গণজাগরণ মঞ্চ ও ব্লগার নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে, তাদের ব্যাপারে আগামীকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কঠোর জবাব দেয়া হবে।