সৃ জ ন শী ল ক র্না র
জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা
প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৭:৫৪
প্রিয় শিক্ষার্থীরা, Srijonshil.com রচিত সৃজনশীল লেসনে তোমাদের স্বাগতম। আজ আমরা গত রবিবারে প্রকাশিত সৃজনশীল প্রশ্নটির নমুনা উত্তর আলোচনা করবো এবং সেই সাথে সপ্তম শ্রেণির পরীক্ষার্থীদের অনুশীলনের জন্য সাধারণবিজ্ঞান বিষয়ের একটি সৃজনশীল প্রশ্ন প্রকাশ করবো। এই লেসনটি তোমরা একযোগে পাবে www.Srijonshil.com ওয়েবসাইট ও তোমাদের পছন্দের দৈনিক ইত্তেফাকের অনুশীলন পাতায়।
আজকের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর (সাধারণ বিজ্ঞান)
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাওঃ
হোসেন সাহেব বেশ কিছুদিন আগে তার বাড়ীতে একটি নতুন বৈদ্যুতিক বর্তনী স্থাপন করেছিলেন। ঐ বর্তনীর মাধ্যমে একটি ১০০ ওয়াটের বাল্ব, একটি ৩০ ওয়াটের বাল্ব, একটি ৫০ ওয়াটের ফ্যান ও একটি ৭০ ওয়াটের টিভি চালানো যেত। গতকাল দেখা গেল বাল্ব দু’টি আর জ্বলছেনা। কিন্তু টিভি ও ফ্যান ঠিকমত চলছে। হোসেন সাহেব পরীক্ষা করে দেখলেন শুধুমাত্র ৩০ ওয়াটের বাল্বটি ফিউজ হয়ে গেছে। ১০০ ওয়াটের বাল্বটি ঠিক থাকা সত্ত্বেও কেন জ্বলছেনা তা তিনি বুঝতে পারলেন না। তাই তিনি একজন ইলেক্ট্রিক মিস্ত্রিকে ডেকে আনলেন। ইলেকট্রিক মিস্ত্রি ভাল করে পরীক্ষা করে সেলিম সাহেবকে বললেন, “বর্তনীর সংযোগটি ঠিকমত ছিল না। আরও অনেক সমস্যা ছিল যা আপনি ধরতে পারেন নি।আর একটু বুদ্ধিমানের মতো সংযোগ দিলে এইরকম সমস্যাগুলো হতোনা।”
ক. বিদ্যুত্ বর্তনী কাকে বলে?
খ. উদ্দীপকে উল্লেখিত বর্তনীতে কত মানের ফিউজ ব্যবহার করতে হবে এবং কেন?
গ. বর্তনীটির সবগুলো যন্ত্রপাতি প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা করে চালু রাখলে প্রতি মাসে কত ইউনিট বিদ্যুত্ শক্তি খরচ হবে নিরূপণ করো?
ঘ. হোসেন সাহেবের সংযোগকৃত বর্তনী সম্পর্কে ইলেকট্রিক মিস্ত্রির উক্তিগুলোর যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।
নমুনা উত্তরঃ
ক. বিদ্যুত্ উেসর ধনাত্মক প্রান্ত থেকে ঋণাত্মক প্রান্তে বিদ্যুত্ প্রবাহের জন্য সম্পূর্ণ পথকে বিদ্যুত্ বর্তনী বলে।
খ. উদ্দীপকে উল্লেখিত বর্তনীতে বাল্ব, পাখা, টিভি ছাড়া অন্য কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নেই। তাই এইক্ষেত্রে ৫ অ্যাম্পিয়ার ফিউজ ব্যবহার করতে হবে। কেননা, এর চেয়ে বেশি মানের ফিউজ ব্যবহার করলে বর্তনীতে বেশি মাত্রার বিদ্যুত্ প্রবাহিত হয়ে বর্তনীর যন্ত্রপাতির ক্ষতিসাধন করবে। আবার ৫ অ্যাম্পিয়ারের চেয়ে কম মানের ফিউজ ব্যবহার করলে সুইচ অন করার পর ফিউজটি গলে গিয়ে বর্তনী বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। কেননা, উক্ত যন্ত্রপাতি গুলোতে ৫ অ্যাম্পিয়ারের বেশি বিদ্যুত্ প্রয়োজন হয়।
গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত বর্তনীটিতে ব্যবহূত দুইটি বাতি, একটি ফ্যান ও একটি টিভির মোট ক্ষমতা = (১০০ + ৩০ + ৫০ + ৭০) ওয়াট = ২৫০ ওয়াট
এইক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিগুলি দৈনিক ৮ ঘন্টা করে চললে, প্রতিদিনের বিদ্যুত্ খরচ = ক্ষমতা x সময়
= ২৫০ ওয়াট x ৮ ঘন্টা
= ২০০০ ওয়াট-ঘন্টা
= ২০০০/১০০০ কিলোওয়াট ঘণ্টা
= ২ কিলোওয়াট ঘণ্টা
= ২ ইউনিট
তাহলে, প্রতিমাসে (৩০ দিনে) মোট বিদ্যুত্ লাগবে = ২ ইউনিট x ৩০
= ৬০ ইউনিট
ঘ. আমরা জানি, দুইটি বাল্ব সিরিজে সংযুক্ত থাকা অবস্থায় এদের যেকোনো একটি ফিউজ হলে অন্যটিও জ্বলবে না।
যেহেতু দুইটি বাল্বের মধ্যে ৩০ ওয়াটের বাল্বটি ফিউজ হয়ে যাওয়ার ফলে ১০০ ওয়াটের বাল্বটিও জ্বলছিলনা, সেহেতু বলা যায় এই বাল্ব দু’টি সিরিজ বর্তনীতে সংযুক্ত ছিল।
আবার যেহেতু ফ্যান ও টিভি ঠিক মত চলছিল, তাই বলা যায় এই দুটি যন্ত্র বাল্ব দুটির সাথে সিরিজে যুক্ত ছিল না।
হোসেন সাহেব যদি প্রত্যেকটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র নিচের মত করে সমান্তরালে সংযুক্ত করতেন তবে একটি যন্ত্র নষ্ট হলেও অন্যগুলো ঠিকমত চলতো।
এছাড়াও, আগের বর্তনীর যে সমস্যাগুলো সেলিম সাহেবের কাছে অনাবিষ্কৃত ছিল সেগুলো এবং তাদের প্রতিকার নিচে উল্লেখ করা হলো –
আগে সুইচ অন করলে দুইটি বাল্বই একসাথে জ্বলতো। এবং সুইচ অফ করলে দুইটি বাল্বই একসাথে নিভে যেতো। বাল্ব দুইটিকে আলাদা আলাদাভাবে জ্বালানো বা নেভানো যেতো না। কিন্তু সমান্তরালে সংযুক্ত থাকলে, প্রত্যেকটি বাল্বই আলাদা আলাদাভাবে জ্বালানো ও নেভানো যেতো।
আগে বাল্ব দুইটি সিরিজে যুক্ত থাকার ফলে যে উজ্জ্বলতায় জ্বলতো, সমান্তরাল সংযোগে থাকলে তার চেয়ে বেশি উজ্জ্বলতায় জ্বলতো।
উপরোক্ত কারণগুলোর জন্য ইলেকট্রিক মিস্ত্রী সেলিম সাহেবের বর্তনী
সম্পর্কে উক্তিগুলো করেছিলেন।