বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ

নাটকীয় জয়ে চ্যাম্পিয়ন মধ্যাঞ্চল

উল্লাসটা চেপে রাখতে পারেননি মোশাররফ হোসেন রুবেল। জহুরুল ইসলামকে আউট করেই ছুটে গেলেন ড্রেসিংরুমের সামনে। দলের বাকিদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিলেন শিরোপা জয়ের আনন্দ। তা রুবেল একটু বেশি আনন্দ করতেই পারেন। তারই অসামান্য বোলিংয়ে হারতে বসা ফাইনালে উত্তরাঞ্চলকে ৩১ রানে হারিয়ে প্রথম বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) শিরোপা জিতল মধ্যাঞ্চল। মধ্যাঞ্চলকে দ্বিতীয় ইনিংসে দ্রুত অলআউট করে ম্যাচটি নিজেদের দিকে ঝুঁকিয়ে নিয়েছিল বিসিবি উত্তরাঞ্চল। শেষ ইনিংসে জয়ের জন্য তাদের দরকার ছিল ২৫০ রান। কিন্তু রুবেলদের বোলিংয়ের সামনে সে লক্ষ্য থেকে ৩১ রান দূরে থেমে গেল উত্তরাঞ্চলের ইনিংস। লাঞ্চের পর মাত্র ১৪ মিনিট ব্যাট করতে পেরেছে উত্তরাঞ্চল। মধ্যাঞ্চলের সামনে একমাত্র দেয়াল হয়ে দাঁড়ানো জহুরুল শেষ পর্যন্ত দলের পরাজয় ঠেকাতে পারেননি। ২০৬ মিনিট ব্যাট করে দুটি ছয় ও সাতটি চারে ৮১ রান করে দলের শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হয়েছেন তিনি। প্রথম ইনিংসে চারটি এবং দ্বিতীয় ইনিংসে তিনটিসহ মোট সাত উইকেট মোশাররফের। এত দুর্দান্ত সাফল্য তার; দলও পাঁচদিনের ফাইনাল জিতেছে চারদিনে। ফলে এই জয়ের নায়ক অনায়াসেই তাকে বলা যায়। কিন্তু কথা বলতে গিয়ে রুবেল এই সাফল্যের পেছনে দলের সবার অবদানের কথা বললেন, ‘এই সাফল্য এসেছে দলগত পারফর্মেন্সের কারণে। আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করেছি, শেষ পর্যন্ত সাফল্য এসেছে’। পাঁচদিনের ফাইনালের গতকাল ছিল ম্যাচের চতুর্থদিন। জিততে হলে উত্তরাঞ্চলের প্রয়োজন ছিল আরো ১২২ রান; আর মধ্যাঞ্চলের দরকার ছিল ৫ উইকেট। লাঞ্চের আগেই উত্তরাঞ্চলের আট উইকেট পড়ে যায়। ষষ্ঠ উইকেটে জহুরুল ও সাঞ্জামুল ইসলামের ১০৬ রানের জুটি উত্তরাঞ্চলকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে আসে। কিন্তু এই জুটি ভাঙ্গেন ইলিয়াস সানি। এরপর প্রথম ইনিংসে হ্যাট্রিকম্যান আশরাফুল এসে বাকি দুই উইকেট ফেলে দেন। লাঞ্চের পর জহুরুল একাই দলের বিপদ সামলে উঠেছিলেন, কিন্তু শেষ রক্ষাটা আর হয়নি। ২১৯ রানে থেমে যেতে হয় তাদের দ্বিতীয় ইনিংস। প্রথমবারের মত আয়োজিত বিসিএলের সিরিজ সেরা মার্শাল আইয়ুব। জাতীয় ক্রিকেট লিগেও (এনসিএল) সর্বোচ্চ রান তার। শ্রীলংকা সফরে জাতীয় দলে সুযোগ না পাওয়াটা তার জন্য দুর্ভাগ্যজনক। কাল সেই আফসোসের কথা জানালেন তিনি, ‘আমি চেষ্টা করেছি ভালো খেলতে। আমার এই ধারাবাহিকতা সামনে বজায় রাখতে চেষ্টা করবো’। দুই ইনিংসে ১১ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা সাঞ্জামুল, তার সাথে আছেন প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরিয়ান ও দ্বিতীয় ইনিংসে ফিফটি করা রকিবুল হাসানও। আর পুরো টুর্নামেন্টে ছয় ম্যাচে ৪৬৫ রান করায় সিরিজ সেরা মার্শাল আইয়ুব। সংক্ষিপ্ত স্কোর: ওয়ালটন মধ্যাঞ্চল- ২৭৭ ও ২৪৭ (রকিবুল ৬৮, নুরুল ৫৫, আশরাফুল ৪১, শামছুর ২৪, সাঞ্জামুল ৮/৭৩, ফরহাদ ২/৩৯)। বিসিবি উত্তরাঞ্চল- ২৭৪ ও ২১৯/১০ (জহুরুল ৮১, শামছুর ৬১, নাসির ১৯, ইলিয়াস ৩/২৬, মোশাররফ ৩/৬২, আশরাফুল ২/৫২)। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: রকিবুল হাসান ও সাঞ্জামুল ইসলাম। ম্যান অব দ্য সিরিজ: মার্শাল আইয়ুব। ফল: ওয়ালটন মধ্যাঞ্চল জয়ী ৩১ রানে।