শান্তি আলোচনায় নওয়াজের মধ্যস্থতা চায় তালেবান

শান্তির জন্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা চায় পাকিস্তানের তালেবান জঙ্গিরা। আর এই শান্তি আলোচনার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দেখা যেতে পারে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা পিএমএলএন প্রধান নওয়াজ শরিফকে। যদিও তালেবানের তালিকায় পাকিস্তানের আরও দুই রাজনৈতিক নেতার নাম রয়েছে। শান্তি আলোচনায় তালেবান ও সরকারের মধ্যে আলোচনার যোগসূত্র গড়ে তুলবে এই মধ্যস্থতাকারী। গতকাল নিষিদ্ধ তালেবান সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবানের কাউন্সিলে নওয়াজ শরিফকে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নেয়ার আবেদন জানানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জমিয়ত উলেমা-ই-ইসলামের প্রধান ফজলুল রেহমান এবং জামাত-ই-ইসলামির নেতা মুনাওয়ার হাসান। ছিলেন তেহরিক-ই-তালেবানের পাকিস্তানের প্রধান হাকিমুল্লা মেহসুদ এবং উপ-প্রধান ওয়ালিউর রেহমান। -খবর বর্তমান পত্রিকার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শীর্ষ তালেবান নেতা জানিয়েছেন, তালেবান যে তিনজনের নাম মধ্যস্থতাকারী হিসাবে প্রথম থেকে ভেবেছে তাদের নাম ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর সংবাদমাধ্যমকে তারা জানিয়েছে তালেবানের পক্ষ থেকে এমন কোনও প্রস্তাব আসেনি। তাই কাউন্সিল বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে তেহরিক-ই তালেবানের প্রধান নিজেই কথা বলবেন। তবে তিন মধ্যস্থতাকারীই দেশের বিরোধী দলগুলোর নেতা। ওই শীর্ষ তালেবান নেতা আরও জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারী তিন নেতার সঙ্গে কথা বলার পর তারা সংঘর্ষ বন্ধের প্রস্তাব দিতে পারে সরকারের প্রতি। তবে সরকারের পক্ষ থেকেও শান্তি আলোচনার প্রতি আন্তরিকতা দেখাতে হবে। পাকিস্তানের নিউজ ডেইলির প্রকাশিত খবরে দেখা যায়, তালেবানের বৈঠকে হাকিমুল্লা মেহসুদ সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনার ব্যাপারে উদ্যোগ নেবেন। তবে কোনোভাবেই তালেবান অস্ত্র ত্যাগ করবে না বলেও জানিয়ে দেন মেহসুদ। একইসঙ্গে আফগানিস্তানে তালেবানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আমেরিকাকে সাহায্য বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে পাকিস্তান সরকারকে। আদিবাসী এলাকায় সেনা অভিযানের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে সরকারকে। ইতিমধ্যে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী রেহমান মালিক জানিয়েছেন, সরকারের সঙ্গে যেকোনও আলোচনার আগে তালেবানকে অস্ত্র পরিহার করতে হবে এবং আলোচনার আগে অন্তত একমাসের জন্য যুদ্ধবিরতির ডাক দিতে হবে। ফলে আলোচনা শুরুর আগেই সরকারের সঙ্গে তালেবানের মতানৈক্য দেখা দিয়েছে।