ডি আর কঙ্গোতে বিদ্রোহ অবসানে ১১ দেশের চুক্তি

ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে দুই দশক ধরে চলে আসা বিদ্রোহের পরিসমাপ্তি ঘটাতে ১১টি আফ্রিকান দেশ একটি চুক্তিতে সই করেছে। চুক্তির শর্তে বলা হয়েছে যে, ১১ জন স্বাক্ষরকারী একে-অপরের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে কোন হস্তক্ষেপ করবেন না। রুয়ান্ডা এবং উগান্ডার বিরুদ্ধের প্রায় সময়ই কঙ্গোর বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দেয়ার অভিযোগ আসে। আদ্দিস আবাবাতে এই চুক্তিটি স্বাক্ষরের সময় সেখানে উপস্থিত জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এই চুক্তিটি একটি স্থায়ী শান্তিপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে টেকসই প্রচেষ্টার শুরু মাত্র। গ্রেট লেক অঞ্চলে দুই দশক ধরে চলমান সংঘাতের অবসানের লক্ষ্যে আয়োজিত জাতিসংঘের সম্মেলনে ছয়টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান যোগ দিয়েছিলেন। জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন এই চুক্তিটিকে একটি ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। চুক্তির শর্তেও বলা হয়েছে, ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোকে অবশ্যই তাদের রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বকে দৃঢ় করতে হবে, বিশেষ করে দেশটির পূর্বাঞ্চলে। স্বাক্ষরকারীরা একমত হয়েছেন, তারা প্রতিবেশী দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবেন না। জঙ্গি গোষ্ঠীকে মদদ দেয়ার জন্য যদিও প্রায় সময়ই উগান্ডা এবং রুয়ান্ডার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে আসে, তবে তারাও এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত এ চুক্তিতে কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে আড়াই হাজার সৈন্যের একটি বাহিনী মোতায়েনের কথাও বলা হয়েছে। এই বাহিনী দেশটিতে অবস্থানরত জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর শক্তিবৃদ্ধি করবে। ডি আর কঙ্গোর প্রেসিডেন্ট জোসেফ কাবিলা এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো সবসময় এর প্রতিবেশীদের রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা এবং স্বার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান জানিয়ে এসেছে। আর সে কারণেই আমরা আজকের এই চুক্তির শর্ত পালনে বদ্ধপরিকর”। ধারণা করা হচ্ছে, গ্রেট লেকস অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য বান কি মুন সেখানে একজন বিশেষ দূতকেও নিয়োগ দেবেন। এটিও আশা করা হচ্ছে, এই চুক্তিটি গ্রেট লেকস অঞ্চলের দেশগুলোর ইতিহাসে একটি নতুন যুগের সূচনা করতে যাচ্ছে। তবে প্রেসিডেন্ট জোসেফ কাবিলা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এই চুক্তিটির বাস্তবায়নে সফলতার জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে দৃঢ় অঙ্গীকার থাকাটাও খুব জরুরি।