বড়াল নদী শুকিয়ে মরা খাল
ফরিদপুর (পাবনা) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:১১
বড়াল নদী শুকিয়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে। নদীতে পানি নেই, নদীর তলায় ইরি-বোরো আবাদ হচ্ছে। কোথাও কোথাও বড়াল নদীর তলায় ছেলেরা ক্রিকেট খেলছে। এ নদীটি রাজশাহীর চারঘাট থেকে রাজশাহী, নাটোর, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ চারটি জেলা ও আটটি উপজেলার মধ্যদিয়ে বাঘাবাড়ীর পাশে হুাড়া সাগরের সাথে মিশে যমুনা নদীতে মিলিত হয়েছে। দেশের বৃহত্তম চলনবিল এবং দু’টি প্রধান নদী পদ্মা ও যমুনার প্রধান সংযোগ বড়াল নদী। এ নদী থেকে মুশাখা, নারোদ, নন্দকুজা, চিকনাই, রূপনাই প্রভৃতি শাখা নদীর জন্ম হয়েছে। বড়ালের প্রবাহ নেই বলে এসব নদীও অস্তিত্ব হারাচ্ছে। নদীর উত্সমুখ রাজশাহীর চারঘাট এবং আটঘরি নামক স্থানে দুটি স্লুইস গেট এবং অসংখ্য ক্রস বাঁধ নির্মাণ করে নদীকে খালে পরিণত করা হয়েছে। এ নদী প্রবাহ হারানোর ফলে এলাকায় পরিবেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মত্স্যসমৃদ্ধ চলনবিল এলাকা প্রায় মত্স্যশূন্য হয়ে গেছে। চাষাবাদে অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহারের কারণে পানির স্তর নেমে গেছে। পানিতে আর্সেনিক দূষণ হচ্ছে। নদী পাড়ে ইটভাটার এবং রাবিশ ইট ফেলে নদীর প্রবাহে বাধা দেয়া হচ্ছে।
বড়াল নদী রক্ষার জন্য বাপা (বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন), চলনবিল রক্ষা আন্দোলন কমিটি, বড়াল আন্দোলন কমিটি প্রভৃতির উদ্যোগে আগামী ১৪ মার্চ আন্তর্জাতিক নদী রক্ষা দিবস উপলক্ষে রাজশাহী চারঘাট থেকে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী পর্যন্ত একশ’ বিশ কিলোমিটার মানববন্ধনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।