জীবনের বোঝা আর বইতে পারছেন না কাদের বাউল

নাম তার আব্দুল কাদের। সবাই তাকে কাদের বাউল নামেই চেনে। বয়স ৮০ বছর পার হয়েছে অনেক আগেই। আর্থিক অনটনে খেয়ে না খেয়ে অতিকষ্টে চলছে তার জীবন। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর ও দেলদুয়ার উপজেলার সীমান্তবর্তী ডুবাইল ইউনিয়নের রতনাওরী গ্রামে বাউল শিল্পী আব্দুল কাদেরের বাড়ি। পিতার নাম মৃত জোমর আলী মিয়া। সম্প্রতি তার সঙ্গে কথা হলে তিনি তার অতীতের নানা স্মৃতির কথা তুলে ধরেন। বয়সের ভারে ন্যূব্জ হয়ে পড়লেও গানের প্রতি তার দরদ আগের মতই আছে। তার কাঁধে সব সময় একতারা থাকে। এটা যেন তার দেহেরই একটা অংশ। স্ত্রী মারা যাওয়ার পর এই একতারাই তার জীবন সঙ্গী। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এখনও ডাক পড়ে বাউল শিল্পী আব্দুল কাদেরের। ঐ সব অনুষ্ঠানে যত্সামান্য যা পান তাই দিয়ে কোনরকমে চলছে তার জীবন। লেখাপড়া তেমন করা হয়নি। কিন্তু ছোট বেলা থেকেই গানের প্রতি ছিল তার প্রচন্ড ঝোঁক। মির্জাপুর উপজেলার দেওহাটা গ্রামের বাউল শিল্পী শের আলী তার গানের গুরু। শুধু বাউল গানই নয়, জারি, সারি, দেহতত্ত্ব, বিচ্ছেদ, মারফতি, লালনগীতি, পল্লীগীতি, দেশের গানসহ প্রায় সকল ধরনের গানই গেয়ে থাকেন তিনি। তবে বাউল শিল্পী হিসেবেই তার বেশি পরিচিতি। ২০০৪ সালে স্ত্রী লাল ভানু মারা যাওয়ার পর কাদের বাউল একেবারেই নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন। ২ ছেলে ৩ মেয়ে থাকলেও তারা তাদের নিজের সংসার চালাতেই হিমশিম খাচ্ছে, বুড়ো বাবাকে দেখভাল করার সঙ্গতি তাদের নেই। কাদের বাউল বয়সের ভারে এখন আর আগের মতো চলাফেরা করতে পারেন না। দূর দূরান্তে গিয়ে গান গেয়ে পেট চালানো তার জন্য দুষ্কর হয়ে পড়েছে। আর্থিক অনটনে জীবনের বোঝা আর বইতে পারছেন না তিনি। অসহায় এই বৃদ্ধের আকুতি- আমাকে আপনারা সহায়তা করুন। দেশের মানুষ যদি আমার গান শুনে আমার প্রতি একটু সাহায্য-সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দেন তাহলেই আমার জীবন ধন্য হবে।