নোয়াখালীর পল্লীতে ডাকাত সন্দেহে পুলিশের উপর হামলা
প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:২৩
একটি হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামিকে আটক করতে গিয়ে ডাকাত সন্দেহে গ্রামবাসীর হামলার স্বীকার হয়েছেন বেগমগঞ্জ সার্কেল এএসপি মো: মাহাবুবল আলম খানসহ ১৪ জন পুলিশ সদস্য। এসময় গ্রামবাসীর হাতে পুলিশের গাড়িচালক সিপাহী গোলাম মোস্তফা ও এএসপির দেহরক্ষী আতিকুর রহমান আহত হন। প্রায় ২ ঘণ্টা তাদেরকে অবরুদ্ধ করে রাখে গ্রামবাসী। উচ্ছৃঙ্খল গ্রামবাসী পুলিশের গাড়ি পুড়িয়ে দেয়। রবিবার রাত ১টার দিকে সোনাইমুড়ি উপজেলার অম্বরনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর রাত আড়াইটার দিকে ভারপ্রাপ্ত এসপি মাহাবুবুর রশিদের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে অবরুদ্ধদের উদ্ধার করে। ২৩ জনকে আটক করা হয়েছে। গ্রেফতার আতংকে গ্রাম পুরুষশূন্য। এএসপি মো: মাহাবুবল আলম খান জানান, সেনবাগ থানার কেশারপাড় ইউনিয়নের খাজুরিয়া গ্রামের ব্যবসায়ী মুজাহিদুল ইসলাম গত ২০ জানুয়ারি স্থানীয় বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ফেরার পথে খুন হন। এ বিষয়ে ইকবাল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি ১৪ জন পোশাকধারী পুলিশ নিয়ে ঐ গ্রামে যান এবং স্থানীয় মেম্বার শহীদকে সাথে নিয়ে ইকবাল হোসেনের ঘরে গিয়ে পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাকে দরজা খুলতে বলেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ইকবাল হোসেন মোবাইলফোনে স্থানীয় মসজিদের ঈমামকে ডাকাত পড়েছে বলে মাইকিং করতে বলেন। ‘গ্রামে ডাকাত ঢুকেছে’ এ সংবাদ মাইকে প্রচার করা হলে কয়েক শত গ্রামবাসী ইকবালের বাড়ির দিকে ছুটে এসে পুলিশের উপর হামলা করে। এতে এএসপির দেহরক্ষী আহত হন। পুলিশ আত্মরক্ষা করতে ঐ ঘরে ঢুকে দরজা লাগিয়ে আশ্রয় নেয়। প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে তারা ঐ ঘরে অবরুদ্ধ থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ৩ রাউন্ড শটগানের ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। বিশৃঙ্খল অবস্থার সুযোগ নিয়ে সন্দেহভাজন আসামি ইকবাল পালিয়ে যায়। এ সুযোগে কিছু উচ্ছৃঙ্খল গ্রামবাসী রাস্তার পাশে পুলিশের গাড়ি পুড়িয়ে দেয়। ঘটনা মোবাইলফোনে ভারপ্রাপ্ত এসপিকে জানালে তিনি রাত ৩টার দিকে জেলা শহর, চাটখিল ও সেনবাগ থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে অবরুদ্ধদের উদ্ধার করেন। ওসি হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, মামলার প্রস্তুতি চলছে। অন্যদিকে ভারপ্রাপ্ত এসপি জানিয়েছেন, ২৩ জনকে আটক করা হলেও ঘটনার সাথে জড়িত নয় এমন ব্যক্তিদের যাচাই-বাছাই শেষে ছেড়ে দেয়া হবে।