ইসলাম অবমাননার বিরুদ্ধে সংসদে আইন পাস করুন

চরমোনাইর বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলের দ্বিতীয় দিনে গতকাল সোমবার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজিত ওলামা সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে এর আমীর পীরসাহেব মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, ওলামায়ে কেরামের নিস্ক্রিয়তার সুযোগে গুটিকয়েক নাস্তিক মুরতাদ ইসলামের বিরুদ্ধে কটূক্তি করার সাহস পাচ্ছে। আর সরকার নাস্তিক মুরতাদদের পৃষ্ঠপোষকতা করার মাধ্যমে কোটি কোটি মুসলমানের হূদয়ে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। ওলামায়ে কেরামের নেতৃত্বে তৌহিদী জনতা মাঠে নেমেছে, সরকার যদি অবিলম্বে নাস্তিক মুরতাদদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে তৌহিদী মুসলমানদের আন্দোলনে নাস্তিক মুরতাদ এবং তাদের সহযোগীদের প্রতিহত করতে তিনি সকল ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। চরমোনাইর পীর সাহেব সারাদেশ থেকে আগত শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম ও লক্ষ লক্ষ ধর্মপ্রাণ মুসল্লীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ওলামা সম্মেলনে বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনের পূর্বে ইশতেহারে বলেছিল, ক্ষমতায় গেলে কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোন আইন করবে না। আর ক্ষমতায় গিয়ে সংবিধান থেকে আল্লাহর নাম মুছে ফেলা, কুরআন বিরোধী নারী-নীতি অনুমোদনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরাসরি কুরআন-সুন্নাহর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এখন আবার ইন্টারনেটে ব্লগারদের মাধ্যমে নাস্তিকবাদ ছড়িয়ে দিয়ে গোটা দেশকে ইহুদী-খৃষ্টানদের অঙ্গরাজ্যে পরিণত করার চক্রান্ত শুরু করেছে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ইন্টারনেটে কটূক্তি করার কারণে কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হলেও আল্লাহ ও রাসুলের বিরুদ্ধে কটূক্তি করে জঘন্য ভাষা ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। তিনি সর্বস্তরের ওলামায়ে কেরামকে নাস্তিক মুরতাদদের কবর রচনা না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই জালেম সরকারকে বিতারিত না করা পর্যন্ত দেশে কোন শান্তি আসবে না। ওলামা সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা সৈয়দ মোসদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম, আল্লামা নুরুল হুদা ফয়েজী, মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইফনুছ আহমাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক সৈয়দ বেলায়েত হোসেন ও ঢাকা মহানগর সভাপতি অধ্যাপক হাফেজ মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিন। আমন্ত্রিত ওলামাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত পরিষদের মহাসচিব ও শায়খ যাকারিয়া রহ. ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক মুফতী মিজানুর রহমান সাঈদ, আল্লামা আহমাদ শফী সাহেবের খলিফা, মুফতী ওমর ফারুক সন্দ্বিপ, দারুল ইহছান বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মাহমুদুল হাছান, মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ, নানুপুরী হুজুরের খলীফা মাওলানা মোস্তাক আহমাদ, বেফাকুল মাদারিস চট্টগ্রামের সভাপতি মাওলানা তাজুল ইসলাম, টিকাটুলী বড় মসজিদের খতিব মুফতী মুহিব্বুল্লাহ কাসেমী, মতিঝিল ওয়াপদা মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মুফতী ওমর ফারুক, জামিয়া রহমানিয়া মোহাম্মাদপুরের প্রধান মুফতী ও মুহাদ্দিস মুফতী হিফজুর রহমান, বনানী মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতী ওয়ালিউল্লাহ, দারুল উলুম আফতাবনগরের মুহতামিম মুফতী মোহাম্মাদ আলী, রামপুরা কারিমিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা মকবুল হোসাইন, হাটহাজারী মাদরাসার মাওলানা মোমতাজুল করীম বাবা হুজুর প্রমুখ। ওলামা সম্মেলনে সারাদেশের শতাধিক আলিয়া ও কওমী মাদ্রাসার বিশিষ্ট আলেমগণসহ শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ওলামায়ে কেরাম দেশব্যাপী নাস্তিক-মুরতাদ বিরোধী গণআন্দোলন গড়ে তুলতে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন। নতুন কর্মসূচী সম্মেলনে পীর সাহেব নাস্তিক-মুরতাদ ও নবীর দুশমন ব্লগারদের অবিলম্বে গ্রেফতার, ব্লগসমূহ বন্ধ ও ইসলাম নিয়ে কটূক্তিকারীদের বিরুদ্ধে আইন প্রণয়নসহ অন্যান্য দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছেঃ আগামী ১২ মার্চ মঙ্গলবার সারাদেশে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান, ১৩ মার্চ বুধবার জাতীয় সংসদের স্পীকার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান, ১৮ মার্চ সোমবার ঃ রাজধানীতে গণমিছিল, ২২ মার্চ শুক্রবার ঢাকায় ওলামায়ে কেরামের সাথে মতবিনিময়, ২৩ মার্চ শনিবার বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে ঢাকায় গোলটেবিল বৈঠক ও ২৯ মার্চ শুক্রবার ঢাকায় জাতীয় মহাসমাবেশ। আগামীকাল চরমোনাই ময়দানে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে ছাত্র সমাবেশে পীর সাহেব প্রধান অতিথির বক্তৃতা করবেন।