আওয়ামী লীগ অফিসে স্মরণসভা

‘পিলখানা হত্যাকাণ্ড ছিল পরিকল্পিত’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেছেন, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় হত্যাকাণ্ড ছিল পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। এটি কোনো বিদ্রোহ ছিল না। এ ষড়যন্ত্রের উদ্দেশ ছিল সেনাবাহিনী এবং বিডিআরের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে দেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করা। দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়া। সেদিন ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন শহীদ হন। গতকাল বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পিলখানায় হত্যাকাণ্ডে শহীদদের স্মরণে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। মিলাদ পরিচালনা করেন আওয়ামী ওলামা লীগের সভাপতি মাওলানা ইলিয়াছ হোসাইন বীন হেলালী। এ সময় বন ও পরিবেশমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, উপ-দপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এমএ আজিজ, সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম প্রমুখ। মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, নীলনকশা বাস্তবায়ন করতে পিলখানায় হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছিল। বিএনপি-জামায়াত অশুভ শক্তি মহাজোট সরকারের বিজয় মেনে নিতে পারেনি। তাই তারা এখনো ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। পিলখানায় হত্যাকাণ্ডের দিন ভোরে বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কালো গ্লাসের একটি গাড়িতে করে কোথায় গিয়েছিলেন, দুইদিন তার কোনো খোঁজ ছিল না, এ তথ্য উদঘাটন করলে পিলখানায় হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন হবে। তিনি বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলায় বিএনপি এবং জামায়াতের আইনজীবীরা আসামির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এতে প্রমাণ হয় এ হত্যাকাণ্ডর সঙ্গে কারা জড়িত ছিল। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিএনপি ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তাদের ষড়যন্ত্র এখনো অব্যাহত রয়েছে। তারা আওয়ামী লীগের বিজয় মেনে নিতে পারেনি। বেগম খালেদা জিয়া জনগণের ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করে না। তিনি ক্ষমতা দখলে বিশ্বাস করেন। বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রের পথ পরিহার করে জনগণের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করুন। এর আগে সকালে বনানী সামরিক কবরস্থানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর নেতৃত্বে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।