২৫ কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা
নবাবগঞ্জে এক কো-অপারেটিভ
নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৩০
ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বাগমারা বাজারে আরিফ সুপার মার্কেটের ২য় তলায় আইডিয়াল কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিঃ (আইসিএল)-এর কার্যালয় গত ৩ দিন যাবত্ তালাবদ্ধ থাকায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা হতাশায় ভুগছেন। প্রতিষ্ঠানটি বিগত ৮/৯ বছর যাবত্ ‘অবৈধ ব্যাংকিংয়ের’ মাধ্যমে নবাবগঞ্জ ও দোহার উপজেলা থেকে প্রায় ২৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে গা-ঢাকা দিয়েছে বলে আমানতকারী গ্রাহকদের অভিযোগ।
গ্রাহক ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সমবায়ভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনার নামে আইসিএল বেশি মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে গ্রামের সহজ-সরল নারী-পুরুষকে ফাঁদে ফেলে টাকা হাতিয়ে নেয়। আইসিএল লাখপ্রতি মাসে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা মুনাফা দেয়। আইসিএলের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে নবাবগঞ্জ উপজেলার সহস্রাধিক গ্রাহক প্রায় ২৫ কোটি টাকা জমা রাখেন। ২১ ফেব্রুয়ারি ছুটি থাকার পর অফিসে আর কোন কার্যক্রম হয়নি, তালাবদ্ধ রয়েছে। গতকাল সোমবার বিকাল ৪-৪৩ মিনিটে প্রতিষ্ঠানের নবাবগঞ্জ শাখা ব্যবস্থাপক আহসান উল্লাহর সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এর গ্রাহক মোনায়েম মিয়া জানান, তার ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা রয়েছে। রঞ্জিত ঘোষ বলেন, তার ৫০ হাজার টাকার ডিপিএস আছে, বার বার ঘুরেও টাকা তুলতে পারছেন না। নবাবগঞ্জ উপজেলা সমবায় পরিদর্শক হাসমত আলী বলেন, এ প্রতিষ্ঠান তাদের এক্তিয়ারে নয়। জেলা জয়েন্ট রেজিস্ট্রার থেকে নিবন্ধিত হয়ে কার্যক্রম করছে। তাদের উপজেলায় ২৪৪টি সমবায় ও মাল্টিপারপাস সোসাইটি কাজ করছে। উল্লেখ্য, গত ২ মাসে আল-আক্সা ও আইডিয়াল কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিঃ নামে দুটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান দোহার নবাবগঞ্জ থেকে প্রায় ৫০ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছে। নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেওয়ান মাহবুবুর রহমান বলেন, গ্রাহকদের অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।