জাফ্রাখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়

সুমি আক্তার অ্যানি, নবম শ্রেণি আমি যে প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়ন করি সে প্রতিষ্ঠানটি বরগুনা জেলার সেরা প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম। এটি বামনা উপজেলা থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে পশ্চিম-দক্ষিণে অবস্থিত। প্রতিষ্ঠা: ১৯৬৪ সালের ১ জানুয়ারি এক শুভক্ষণে জাফ্রাখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রথমত একটি জুনিয়র বিদ্যালয় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ৬ষ্ঠ শ্রেণি হতে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত ২০১ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে বিদ্যালয়টি শুরু করা হয়। ৩১ ডিসেম্বর ’৬৯ পর্যন্ত জুনিয়র স্কুল হিসেবে গৌরবজনক সাফল্য অর্জন করে ছাত্র-ছাত্রীরা বিদ্যালয়টির সুনাম রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে। ১/১/৭০ সালে বিদ্যালয়টি একটি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত হাইস্কুল হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ১৯৭২ সালে এই স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা প্রথম এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ঈর্ষণীয় ফলাফল অর্জন করে বিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখে। বরাবরই এ প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা উল্লেখযোগ্য ফলাফল অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। বিদ্যালয়ের ভবন: বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠালগ্নে ২ একর ৪৪ শতাংশ জমি আনোয়ার হোসেন হাওলাদার দান করেন। ১৯৯৬ সালে বিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থে আরও ২৩ শতাংশ জমি ক্রয় করে বিদ্যালয়ের পরিধি পরিবর্ধিত করা হয়। বিদ্যালয়ের প্রথম কার্যক্রম শুরু হয় টিনশেডে। ১৯৯৭ সালে প্রথম একতলা ভবন সুসম্পন্ন হয় এবং পরবর্তীতে অর্থাত্ ১৯৯৯ সালে দ্বিতল ভবনে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। বিদ্যালয়টির দৈর্ঘ্য ১১১ ফুট ও প্রস্থ ৩১ ফুট। বিদ্যালয়ের মূল ভবন ছাড়াও বিজ্ঞানাগারের জন্য একটি ভবন রয়েছে, যার দৈর্ঘ্য ৫০ ফুট ও প্রস্থ ৩০ ফুট। এখানে আরও রয়েছে বিদ্যালয় মিলনায়তন যার দৈর্ঘ্য ৬০্ভন্৩০্ভ। বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আছে একটি মসজিদ। বিদ্যালয়ের নিচতলা উপরতলা মিলিয়ে সর্বমোট ১২টি কক্ষ রয়েছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টির কাছাকাছি ২/৩টি নতুন বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়া সত্ত্বেও প্রায় তিন শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী উপস্থিত হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সুদক্ষ ও সবসময় আন্তরিক। তাদের আন্তরিকতা ছাত্র-ছাত্রীদের সুপ্ত মেধা বিকাশে সহায়ক হচ্ছে। ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে ন্যায়-নীতি, শৃঙ্খলাবোধ, আদর্শ জাগিয়ে তোলাই সম্মানিত শিক্ষকদের কর্তব্য ও দায়িত্ব বলে মনে করেন। সম্মানিত শিক্ষকরা মনে-প্রাণে বিশ্বাস করেন, বিদ্যাকে স্বভাবগত করতে পারলে তবেই তা শিক্ষায় রূপান্তরিত হয়। ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর এই বাণী প্রভাব ফেলেছে। কেবল গতানুগতিক ধারার শিক্ষা এ প্রতিষ্ঠানটির উদ্দেশ্য নয়। বরং ছাত্র-ছাত্রীদের সত্, চরিত্রবান ও ন্যায়-নিষ্ঠভাবে গড়ে তোলাই এখানকার শিক্ষকদের একমাত্র ব্রত। মানবীয় গুণাবলি বিকাশের উদ্দেশ্যই এই প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ও আদর্শ। ম্যানেজিং কমিটি: প্রত্যেক বিদ্যালয়েরই একটি পরিচালনা পর্ষদ থাকে। আমাদের এ বেসরকারি বিদ্যালয়টিরও একটি পরিচালনা পর্ষদ রয়েছে। প্রতি তিন বছর পরপর ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ম্যানেজিং কমিটির সম্মানিত সদস্যবৃন্দ ও বিদ্যালয়ের হিতৈষীবৃন্দের চেষ্টা ও তদবিরের জোরে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কমিটির মধ্যকার সম্পর্ক চমত্কার সৌহার্দ্যপূর্ণ। ম্যানেজিং কমিটির সদস্যবর্গ বিশ্বাস করেন, যেখানে শিক্ষকদের মধ্যে বৈরী ভাব কিংবা দলাদলি অথবা ম্যানেজিং কমিটির মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় না থাকে সে প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হতে পারে। তাই এ বিষয়ে তাদের সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে। সমাবেশ:আমাদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত সমাবেশের আয়োজন হয়। এখানে ছাত্র-ছাত্রীদের শৃঙ্খলাবোধ ও তাদের মূল্যবোধের সচেতনতা ফিরিয়ে আনার জোর প্রচেষ্টা চালানো হয়। আত্মবিশ্বাস ও সাহস থাকলে যে কোনও কাজে মানুষ সফলতা লাভ করতে পারে সে শিক্ষা আমরা এখান থেকে লাভ করি। সুশৃঙ্খল জাতি গঠনের সুশিক্ষা আমরা এখান থেকে পেয়ে থাকি। সদস্যবৃন্দের প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়টির শ্রীবৃদ্ধি হচ্ছে। আমি এ বিদ্যালয়টিতে অধ্যায়ন করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি।