ক্যাম্পাস ডায়েরি
সমাবর্তন উত্সব নিয়ে কথা
প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৮:৪৬
সময় তখন সকাল দশটা। সবার মধ্যে আনন্দ আর উচ্ছ্বাস। কালো গাউন পরা গ্র্যাজুয়েটদের পদচারণা। আর ক্যামেরার ক্লিক ক্লিক শব্দে ভরে উঠেছিল ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার ও তার আশপাশের এলাকা। বিভিন্ন স্পটে ছবি তোলায় ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন শিক্ষার্থীরা। একক, দ্বৈত ও গ্রুপসহ বিভিন্ন ধরনের ভঙ্গিতে ছবি তোলা শুরু হয়েছে। এ যেন ছবি তোলার এক প্রতিযোগিতা। আজ শিক্ষা জীবনের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রদান করা হবে ডিগ্রি। তাই শিক্ষার্থীদের মাঝে এত আয়োজন। এমন দৃশ্য ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভের (ইউডা) ৩য় সমাবর্তন অনুষ্ঠানের সকাল বেলার। কনভেনশন সেন্টারের পুরো এলাকাজুড়ে ছিল সমাবর্তনে অংশ নেয়া গ্র্যাজুয়েটদের পদভারে মুখর।
সমাবর্তনে অংশ নিতে এসেছিলেন এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত শামীম আরা। সমাবর্তনে অংশ নিতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই বিরল সম্মাননা পেয়ে আমি গর্বিত। আজ আমি খুব আনন্দিত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলোর কথা খুবই মনে পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে যা শিখেছি, তা অন্য কোথাও থেকে শেখা যাবে না। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আজ সার্টিফিকেট নিতে এসে আমি যেন আবার ক্যাম্পাস জীবনে ফিরে এসেছি। এমনটাই বলছিলেন আরেকজন শিক্ষার্থী কে এম মনসুরুল আজিজ। চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত আরেক শিক্ষার্থী মেহজাবিন রহমান চিত্কার করে বলছিলেন, ‘আজ আমি গর্বিত। আমি আনন্দিত। আমার শিক্ষা জীবন থেকে যা শিখেছি, তা আমি জনকল্যাণমূলক কাজে লাগাতে চাই।’
প্রফেসর ড. আলাউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিশ্বায়নের এ যুগে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তথ্যপ্রযুক্তি ও আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ একটি মেধাবী প্রজন্ম তৈরির জন্য বর্তমান সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস সকলের সহযোগিতায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে।
সমাবর্তন বক্তা প্রফেসর ড. এ কে আজাদ চোধুরী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ জ্ঞানরাজ্যে প্রবেশের ছাড়পত্র মাত্র। এটি শেষ অধ্যায় নয়। তিনি বলেন, জীবনকে উপভোগ করার জন্য প্রতিনিয়তই জ্ঞান আহরণ, জ্ঞানের চর্চা এবং জ্ঞান সৃষ্টিতে মনোনিবেশ করতে হবে। কর্মজীবনের দৃঢ় আত্মবিশ্বাস, সততা, ন্যায়-নিষ্ঠা, কঠোর পরিশ্রম এবং গভীর দেশপ্রেম নিয়ে তোমাদের এগিয়ে যেতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুর প্রথম দিন থেকে বন্ধুত্ব হয়েছিল ট্রিপল ই-বিভাগের তমাল ও মমিনের। আজও অটুট রয়েছে সেই বন্ধুত্ব। লাফিয়ে লাফিয়ে দুই বন্ধু ছবি তুলছিলেন। আজ দুজনেরই মা-বাবা এসেছেন। সবার সঙ্গে একত্রে ছবি তুলতে তুলতে আনন্দে আত্মহারা হয়ে যাচ্ছিলেন তমাল। তমালের বাবা বলছিলেন, ‘আজ আমার দুই সন্তান গ্র্যাজুয়েশন শেষ করল।’
দলবেঁধে এপাশ থেকে ওপাশে দৌড়ে বেড়াচ্ছেন মেহেদিনা জান্নাত, আলপনা, শান্তা, রুবি। বিভিন্ন বিভাগের বান্ধবীদের নিয়ে এই দল যেখানে যাকে পাচ্ছেন, তাকে সঙ্গে নিয়ে ছবি তুলছেন। শিক্ষক, অভিভাবক কিংবা সহপাঠী বন্ধু— সবার সঙ্গে সমানভাবে ভাগ করে নিচ্ছেন শিক্ষা সমাপনী উত্সব। কথা হয় তাদের সঙ্গে। এদের মধ্যে মেহেদিনার এখনই চাকরি দরকার। শান্তা বললেন, এমবিএ করে চাকরি শুরুর কথা। আলপনা আর রুবি আপাতত ভাবছেন না এসব নিয়ে। তারা জানালেন, নিজেরাই একটি ফার্ম খুলবেন। ব্যবসা করা তাদের ছোটবেলার স্বপ্ন। ‘আলপনার সঙ্গে পরিচয় হওয়ার পর থেকে আমার এই স্বপ্ন আরো দ্বিগুণ হয়েছে।’ বলছিলেন রুবি।
বিপুল উত্সাহ-উদ্দীপনার মাধ্যমে সমাবর্তনের সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে যখন বাড়ি ফেরার পালা, ঠিক তখনই রাস্তার পাশে অপেক্ষায় ছিলেন অনেকের অভিভাবক। কনভেনশন সেন্টারের বাহিরে থেকেও তাদের অনেক আনন্দ। প্রিয় মুখ আজ মেতেছে শিক্ষা সমাপনী আয়োজনে। এ যেন এক অন্য রকম অনুভূতি।
সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে জেসফিয়া এখনই বাসায় ফিরতে চাই। বাদ সাধলেন সহপাঠী মুন। মুন বললেন, আজ একটু দেরি হলে সমস্যা নেই। কেউ কিছু বলবে না। সমাবর্তন নিয়ে মুন বলছিলেন, আমি যা শিখেছি, যা পেয়েছি তা তো সব এসব মানুষের কাছ থেকে। তাদের সঙ্গে আজ একটু বেশি আড্ডা দিলে দোষ কি। আমি অনেক শিখেছি আমার প্রিয় শিক্ষক আর ক্যাম্পাস থেকে। আমি কৃতজ্ঞ আমার ক্যাম্পাস, শিক্ষক আর সহপাঠীদের কাছে। হয়তো আর এমন করে ফেরা হবে না এই প্রিয় ক্যাম্পাসে, পারব না আগের মতো আড্ডায় ডুবে যেতে। তবুও বারবার মনে পড়বে বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলোর কথা। ক্যানটিন, লাইব্রেরি ও ক্যাম্পাসের পাশের চায়ের দোকানের এ আড্ডার কথা ভোলা যাবে না। এই সমাবর্তনের দিনের কথা মনে থাকবে আমার আজীবন।