গল্প নয় সত্যি

চোরের ভুল!

টাকার সন্ধানে এসে কেই বা গান বাজনা নিয়ে পড়ে থাকতে চায়। তার উপর এই টাকার বন্দোবস্তও যদি করতে হয় সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে চুরি করার মতো কষ্টকর (!) কোনো পন্থায় তাহলে নেহাত গান শুনে কি আর মন ভরে? তবে নিজেদের ভুলের কারণে এখন খুব সম্ভবত টাকার শোক গান শুনেই কাটাতে হচ্ছে আমেরিকার সানডিয়াগো অঙ্গরাজ্যের দুই অল্পবয়সী চোরকে। স্থানীয় পুলিশের ধারণা, তাড়াহুড়া করতে যেয়ে ভুল করা এই চোরের দল সমপ্রতি আমেরিকার বিখ্যাত ফুড চেইন হুটার্সের একটি রেস্তোরাঁ থেকে যে জুকবক্সটি (স্বয়ংক্রিয়ভাবে গান বাজানোর যন্ত্র) চুরি করে নিয়ে গেছে সেটিকে তারা হয়তো এটিএম মেশিনই ভেবেছিল। অন্তত চোরেদের গতিপ্রকৃতি আর কর্মকাণ্ড বিশ্লে¬ষণ করে সেটিই যুক্তিসঙ্গত বলে মনে করছেন সানডিয়াগোর অভিজ্ঞ পুলিশেরা। তারা জানিয়েছেন, ঘটনার দিন রাতে আনুমানিক উনিশ-বিশ বছরের দুই টিনেজার প্রথমে একটি পিক-আপ ট্রাক নিয়ে হুটার্স রেস্টুরেন্টের পেছনের অংশের কাঁচের দরজা দিয়ে রেস্তোরাঁর ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করে। কিন্তু পিক-আপ নিয়ে সন্তর্পণে রেস্তোরাঁর ভেতরে ঢোকার জন্য এই পথটি যথেষ্ট বড় ছিল না। আর এ কারণেই রেস্তোরাঁর ভেতর থেকে বড় কিছু চুরি করার আশা বাদ দিয়ে রেস্টুরেন্টের পেছনের দিকে থাকা জুকবক্সটিকেই তুলে নিয়ে যায় এই চোরযুগল। কিন্তু এতো কষ্ট করে যে কেউ মামুলি এই গান শোনার যন্ত্রটি চুরি করতে আসে না সেটা পুলিশের বেশ ভালো করেই জানা আছে। এ প্রসঙ্গে পুলিশ লেফটেন্যান্ট এন্ড্রা ব্রাউন গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেন বিষয়টা হাস্যকর হলেও আমরা মোটামুটি নিশ্চিত যে চোরের দল এটিএম মেশিন ভেবেই জুকবক্সটিকে তুলে নিয়ে গেছে। আর এ ধরনের ভুলের পেছনে রেস্তোরাঁর ওই অংশে কম আলোর উপস্থিতি এবং জুকবক্সের সাথে এটিএম মেশিনের আকৃতিগত মিল থাকার বিষয়টি তরুণ ও অনভিজ্ঞ চোরদের বিভ্রান্ত করে থাকতে পারে।