জামায়াতের তিন নেতাকে ৩ মার্চ হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেয়ার নির্দেশ

ট্রাইব্যুনালের বিচারাধীন বিষয় ও ট্রাইব্যুনাল নিয়ে বক্তব্য দেয়ায় জামায়াতের তিন নেতাকে সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য আগামী ৩ মার্চ রবিবার দিন ধার্য করেছেন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২ এ জামায়াত নেতাদের আইনজীবীর সময় চাওয়ার পর এ দিন ধার্য করা হয়। ট্রাইব্যুনাল জানায়, শেষবারের মতো সময় বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এদিন জামায়াতের তিন নেতা হাজির হয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা না দিলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। গত ৭ ফেব্রুয়ারি জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মহানগর শাখার নায়েবে আমীর হামিদুর রহমান আযাদ এমপি এবং মহানগর শাখার সহকারী সেক্রেটারি সেলিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে শোকজ নোটিস জারি করে ট্রাইব্যুনাল। গত ২০ ফেব্রুয়ারি তাদের সশরীরে হাজির হয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেদিনও তাদের পক্ষের আইনজীবী সময় চেয়ে আবেদন করলে গতকাল দিন ধার্য করে ট্রাইব্যুনাল। গতকাল সকালে জামায়াত নেতাদের পক্ষে অ্যাডভোকেট গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী আলাল ও অ্যাডভোকেট মো. শাহাদাত হোসেন তিন নেতার ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি চান। একই সঙ্গে তারা এক সপ্তাহের সময় চান। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি রানা দাস গুপ্ত বলেন, ট্রাইব্যুনালের আদেশ তারা অমান্য করেছেন। এজন্য তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হোক। পরে ট্রাইব্যুনাল তাদেরকে রবিবার পর্যন্ত সময় দেয়। কামারুজ্জামানের পক্ষে রবিবার থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু এদিকে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের পক্ষে আগামী রবিবার থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হবে। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২ এ আসামিপক্ষের আইনজীবী সময় চাইলে সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য এ দিন ধার্য করা হয়। গতকাল সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণ শুরুর দিন ধার্য ছিলো। এর আগে আসামিপক্ষ থেকে একটি ডকুমেন্ট গ্রহণের আবেদন খারিজ করে ট্রাইব্যুনাল। এর আগে গত ২০ ফেব্রুয়ারি কামারুজ্জামানের পক্ষে দেয়া ১ হাজার ৩৫৪ জনের তালিকা থেকে চারজন সাক্ষী নির্ধারণ করে দেন ট্রাইব্যুনাল। এর পর ২৪ ফেব্রুয়ারি হরতালের কারণে কামারুজ্জামানের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কফিল উদ্দিন চৌধুরী ট্রাইব্যুনালে না আসায় কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষে ১৮তম সাক্ষী তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক খানের জেরা বন্ধ করে সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছিলো ট্রাইব্যুনাল। উল্লেখ্য, গত বছরের ৪ জুন কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের সুনির্দিষ্ট সাতটি ঘটনায় অভিযোগ গঠন করা হয়।