মোজাহেদুল ইসলাম ঢেউ
ফেসবুক, টুইটার বা গুগল প্লাস ব্যবহার করেন না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। সামাজিক যোগাযোগের এসব প্লাটফর্মে সকলেই প্রতিনিয়ত নিজেদের চিন্তা-ভাবনা থেকে শুরু করে ছবি, ভিডিও প্রভৃতি কনটেন্ট শেয়ার করে থাকেন। তবে এসব তথ্য অবাঞ্ছিত মানুষের হাতে পড়ে গেলে তখন নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে। হ্যাকাররাও অনেকাংশেই ব্যক্তিগত তথ্য চুরির জন্য সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলোর ওপরেই নির্ভর করে থাকে। তাই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।
তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ন্ত্রণ করুন
ফেসবুক, টুইটার বা গুগল প্লাসের মতো ওয়েবসাইটে সবসময়ই নতুন নতুন তথ্য শেয়ার করে থাকেন ব্যবহারকারীরা। তবে সব তথ্যই সকলের জন্য উন্মুক্ত রাখা ঠিক নয়। যেসব তথ্যকে সংবেদনশীল মনে হয়, সেগুলোকে কেবল বিশ্বস্ত মানুষের জন্যই উন্মুক্ত রাখুন। এর জন্য ফেসবুকে যেকোনো পোস্টের ক্ষেত্রে ডানপাশের বার থেকে ‘lock’-এ ক্লিক করুন। এখান থেকেই নির্বাচন করে দিতে পারবেন কাদের জন্য এসব তথ্য আপনি উন্মুক্ত রাখতে চান। পাশাপাশি সার্চ ইঞ্জিন যেন আপনার টাইমলাইনের লিংক প্রদান না করে, তাও সেটিং থেক নির্ধারণ করে দিন।
টুইটারের সেটিংয়ের সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রাইভেসি অপশন থেকে আপনি নির্ধারণ করে দিতে পারবেন আপনার টুইট কার কার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। নিরাপত্তার জন্য টুইটবক্সের লোকেশন ট্যাগিংও নিষ্ক্রিয় করে দিন। আগের পোস্টগুলোতে যদি লোকেশন জানানো থাকে, তাহলে ‘Delete all location information’ বাটনে ক্লিক করে সেসব তথ্য মুছে দিতে পারেন। আবার ‘Discoverability ’ বক্সটি আনচেক করে দিলে আপনার ইমেইল দিয়ে কেউ খুঁজে পাবে না আপনাকে।
অপ্রয়োজনীয় সেবা থেকে মুছে দিন নিজেকে
অনলাইনে অনেকেরই নানা ধরনের ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট থাকে। তবে কিছুদিন গেলেই দেখা যায় যে অ্যাকাউন্ট খোলা সাইটগুলোর বেশিরভাগই ব্যবহার করা হয় না। এসব ওয়েবসাইট থেকে নিজের অ্যাকাউন্টটি ডিলিট করে দিন। সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করে ভুলে যাওয়া ওয়েব অ্যাকাউন্টের সন্ধান পেতে পারেন। আর অ্যাকাউন্ট ডিলিট করতে গিয়ে কোনো সমস্যায় পড়লে justdelete.me, deleteyouraccount.com বা accountkiller.com সাইটগুলোর সহায়তা নিতে পারেন। এই সাইটগুলো বিভিন্ন ওয়েবসাইটে থাকা আপনার অ্যাকাউন্ট খুঁজে পেতেও সহায়তা করবে।
ওয়েবট্র্যাকিং বন্ধ করুন
ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ব্রাউজিংয়ের রেকর্ড ট্র্যাক করার মতো প্রচুর সার্ভিস রয়েছে। গুগল বা বিংয়ের মতো সার্চ ইঞ্জিনগুলোও ট্র্যাক করে ব্রাউজিং রেকর্ড। ব্রাউজিং রেকর্ড ট্র্যাক করা রোধ করতে বেশিরভাগ ব্রাউজারেরই রয়েছে ‘ডু নট ট্র্যাক’ অপশন। ব্রাউজিংয়ের সেটিং থেকে এটি চালু রাখলে আর আপনার ব্রাউজিং রেকর্ড ট্র্যাক করা হবে না। সার্চ রেকর্ড ট্র্যাক বন্ধ রাখতে DuckDuckGo.com সার্চ ইঞ্জিনও ব্যবহার করতে পারেন। এই ব্রাউজারটি সার্চ রেকর্ড ট্র্যাক করে না। এর বাইরেও ‘ডুনট ট্র্যাকমি’ নামের ব্রাউজার অ্যাড-অন ইন্সটল করে নিতে পারেন। www.abine.com সাইট থেকে অ্যাড-অনটি ডাউনলোড করে নিতে পারেন। ক্রোম, ফায়ারফক্স, ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার, সাফারি এবং অপেরা ব্রাউজার ছাড়াও আইওএস এবং অ্যান্ড্রয়েডের জন্যও রয়েছে-এর সংস্করণ।
এক্সটেনশন ব্যবহার করুন
সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটসহ অনলাইন ব্রাউজিংয়ে নিরাপদ থাকতে বেশকিছু এক্সটেনশনও ব্যবহার করতে পারেন। এসব এক্সটেনশন অনাকাঙ্ক্ষিত অনেককিছু থেকেই আপনাকে দূরে রাখতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ডিসকানেক্ট মি। ক্রোম, ফায়ারফক্স, অপেরা এবং সাফারি ব্রাউজারের এই এক্সটেনশন সব সাইটের ট্র্যাকিং বন্ধ রাখে। https://disconnect.me সাইট থেকে এটি যুক্ত করতে পারবেন ব্রাউজারে। আবার এইচটিটিপিএস এভরিহোয়্যার (https://www.eff.org) এক্সটেনশনটি ক্রোম ও ফায়ারফক্স ব্রাউজারে সব সাইটকে এইচটিটিপিএস-এ রিডাইরেক্ট করে দিতে পারে। আর বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপনের যন্ত্রণা থেকে মুক্ত থাকতে ক্রোম, ফায়ারফক্স, অপেরা এবং সাফারি ব্রাউজারে ব্যবহার করতে পারেন অ্যাডব্লক প্লাস এক্সটেনশন (adblockplus.org)।