সবুজ বীজতলা সোনালী স্বপ্নের হাতছানি
প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৩১
খুলনার সর্বদক্ষিণের জনপদ কয়রার কৃষকেরা এবছর আবারো বোরো আবাদের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। আইলা দুর্গত এলাকার শূন্য ফসলহীন মাঠ ছাড়িয়ে খাল, ডোবা, পুকুর, বাড়ীর আনাচে-কানাচে টুকরো টুকরো জমিতে এখন সবুজ ধানের বীজতলা (চারা) প্রকৃতির চেহারাই বদলে দিয়েছে। সোনালী ধানের স্বপ্নে বিভোর কৃষান-কৃষানীরা এসব বীজ তলার যত্ন নিচ্ছেন অনেকটা সন্তানের মত করে। কেউ কেউ জমি প্রস্তত করে সেখানে ধানের চারা রোপণ শুরু করেছেন। এখন প্রয়োজনীয় সার, কীটনাশক ও সেচের ব্যবস্থা করতে পারলেই তারা আগের কয়েক বছরের লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে আশায় বুক বাধছেন।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০০৯ সালে আঘাত হানা আইলার পর দীর্ঘ জলাবদ্ধতা, মাটিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়া, সময় মত বীজ সংগ্রহ করতে না পারাসহ নানাবিধ কারণে এই এলাকার কৃষকরা প্রায় চার বছর ধরে শুধু বোরোই নয়, আমন ফসল উত্পাদন করতেও ব্যর্থ হন। এই সব সমস্যার কিছুটা সমাধানের পাশাপাশি লবণাক্ততা কমে আসায় এবার বছরের শুরুতেই বোরো চাষ দিয়েই ফসল উত্পাদন শুরু করতে যাচ্ছেন তারা। বর্তমানে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কৃষক বাড়ির আশপাশের যে সব স্থানে পানির ব্যবস্থা আছে এমন সব জমিতে বোরো আবাদের আপ্রাণ চেষ্ট চলছে। তবে আইলার প্রভাবমুক্ত উপজেলার আমাদি ইউনিয়নের দুইটি ব্লকে এবার বোরো আবাদ বেশি হচ্ছে।
উপজেলার উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের কৃষক রেজাউল গাজী, অরবিন্দু মণ্ডলসহ কয়েকজন কৃষক জানান, তারা এবার নিজেদের জমি কেউ ৫ বিঘা, ৭ বিঘা আবার কেউ ১০ বিঘাতে বোরো চাষাবাদ করছেন। তারা বললেন, জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় যদিও খরচ একটু বেশি হবে তবুও আমরা জমিতে ফসল ফলাতে চাই। কোন বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে তাদের এবারের উদ্যোগ সফল হবেই- এমন প্রত্যাশা তাদের।
উপজেলা কৃষি সমপ্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১২-২০১৩ অর্থ বছরে উপজেলায় ৩ হাজার ১৩৭ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে উচ্চ ফলনশীল জাতের বোরো আবাদ করা হবে ২ হাজার ৪শ’ ৭১ হেক্টর এবং হাইব্রীড জাতের বোরো চাষাবাদ হবে ৬শ’ ৬৬ হেক্টর জমিতে। এ জন্য কৃষকদের সব রকম সুযোগ-সুবিধা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে কৃষি অফিস।
প্রসঙ্গত, গত বছর বোরো ফসল ফলাতে গিয়ে যে সব কৃষক মাত্রাতিরিক্ত লবণাক্ততার কবলে পড়ে পুঁজি হারিয়েছেন, তাদের অনেকেই এখনো হাত পা গুটিয়ে বসে আছেন বলে জানা গেছে। গত বছর তারা উত্সাহ নিয়ে বোরো চাষাবাদ করেও আশানুরূপ ফলন পান নি। ফলে এবারও তারা নানা শংকায় ভুগছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২০১১-২০১২ অর্থবছরে উপজেলায় মোট ১৪শ’ হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদ করা হলেও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। তবে এবার সে শংকা অনেকটা কেটে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষিবিদগণ। তারা এবার কৃষকদের ক্ষেতে গিয়ে নিবীড় পর্যবেক্ষণ এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম জানান, জমিতে লবণাক্ততার পরিমাণ বেশি থাকলেও গতবছর আমাদি, বাগালি, উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের কিছু কৃষক ভাল ফসল উত্পাদনে সমর্থ হন। এবার আগে থেকেই কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া লবণাক্ততা সহনশীল বীনা-৮ ও ব্রী-৪৭ জাতের বীজ কৃষকদের মাঝে সরবরাহ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।