বিএনপির প্রতিবাদ সমাবেশে ফখরুল

প্রধানমন্ত্রী আগুন নিয়ে খেলছেন জাতীয় নিরাপত্তা হুমকিতে

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী আগুন নিয়ে খেলছেন। দেশের জাতীয় নিরাপত্তা আজ হুমকির মুখে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে তিনি বলেন, এই ভয়াবহ খেলা থেকে সরে আসুন। জনগণকে জনগণের বিরুদ্ধে ঠেলে দেবেন না, ১৬ কোটি মানুষকে অন্ধকার সুড়ঙ্গের দিকে নিক্ষেপ করবেন না, এখনও সময় আছে-রাজনৈতিক সমস্যা রাজনৈতিকভাবে সমাধান করুন। কারণ মানুষ বিভাজনের রাজনীতি চায় না, তারা শান্তি চায়। ‘পুলিশ-র্যাব ও ছাত্রলীগ-যুবলীগ ক্যাডার কর্তৃক সারাদেশে ভয়াবহ নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা এবং নির্বিচারে মানুষ হত্যা’র প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে ঢাকা মহানগর বিএনপি আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চে আন্দোলনরত তরুণদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ফাঁসি, জবাইয়ের স্লোগান দিয়ে দেশ গড়া যায় না। আপনাদের মুখে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য, ভালোবাসা ও ফুলের স্লোগান শুনতে চাই। আমরা সবাই মিলে সম্প্রীতির রাজনীতির মাধ্যমে সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চাই।’ এসময় তিনি ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ স্লোগান ধরলে উপস্থিত নেতা-কর্মীরা ‘জিন্দাবাদ, জিন্দাবাদ’ বলেন। বিএনপির মুখপাত্র বলেন, সরকার জানে তত্ত্বাবধায়ক হলে তারা জামানত হারাবে। তবে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ছাড়া সংকট সমাধানের কোনো পথ নেই। সবার অংশগ্রহণে একটি অবাধ নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়কের বিকল্প নেই। এই দাবি মানতে বাধ্য করতে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তুলতে তিনি দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। ফখরুল বলেন, সরকার একটি ভেল্কি দিয়ে সব ‘অপকর্ম’ ভুলিয়ে দিতে চেয়েছে। বিশ্বজিতের হত্যাকাণ্ড, শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রলীগের সন্ত্রাস, পদ্মা সেতু-শেয়ারবাজার-হলমার্ক-ডেসটিনি কেলেঙ্কারিসহ সব ভুলিয়ে দিতে চেয়েছে। কিন্তু জনগণ এত বোকা নয়, তারা সব জারিজুরি বুঝে ফেলেছে, ওখানে (শাহবাগে) তাদের লোকজন বসে আছে। এ সরকার সবক্ষেত্রেই ব্যর্থ। নির্বাচনের সময় জনগণকে দেয়া কোনো ওয়াদাই তারা পূরণ করতে পারেনি। সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির খুনিদের এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি। বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর সন্ধান মেলেনি ৮ মাসেও, চৌধুরী আলম আজও ফিরেনি। মির্জা ফখরুল বলেন, এদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ, তবে ধর্মান্ধ নয়। ৯৫ ভাগ মানুষ মুসলমান হলেও এ দেশের মানুষ সকল ধর্মের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। এই বিভাজন কার স্বার্থে? হাসপাতাল, ব্যাংক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করছেন কার স্বার্থে? কার ইঙ্গিতে আপনারা দৈনিক আমার দেশ বন্ধ ও এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করতে চান? মানুষ কোনদিন এসব ষড়যন্ত্র সফল হতে দেবে না। বিডিআর হত্যাকাণ্ডের বিচার জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার করবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটি একটি ফ্যাসিস্ট ও সন্ত্রাসী দল। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আরও বলেন, আজ আমরা এমন একটি রাষ্ট্রে বসবাস করছি, যেখানে প্রতিটি মুহূর্তে মানুষ আতঙ্কে। সরকার এমনভাবে রাষ্ট্র চালাচ্ছে যেখানে মানুষ নির্বিচারে খুন ও গুম হচ্ছে। সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, শাহবাগের কারণে সরকারই এখন সমস্যায় পড়েছে। আমাদের জন্য শাহবাগ কোনো সমস্যা না। সরকার পরিস্থিতি ঘোলাটে করে তুলেছে। দলের স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, তত্ত্বাবধায়কের দাবি এবং পদ্মা সেতু-শেয়ারবাজার-হলমার্ক-ডেসটিনি কেলেঙ্কারি ধামাচাপা দিতেই সরকার এসব ষড়যন্ত্র করছে। সরকার যতোই ষড়যন্ত্র করুক, তৌহিদী জনতা মহানবী (সা.) কে অবমাননার প্রতিবাদ থেকে সরে দাঁড়াবে না। তিনি বলেন, সরকার আজ নাস্তিক ব্লগারদের পক্ষে এবং ধর্মপ্রাণ তৌহিদী জনতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা বলেন, আমার দেশ বন্ধ ও মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতারের উস্কানি দিয়ে কেউ অন্য কোনো ধরনের সরকার প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র করছে কিনা তা দেখা জরুরি। কারণ ষড়যন্ত্রকারীরা চাচ্ছে, যেন দেশে কোনো ভিন্নমত না থাকতে পারে। ইসলাম অবমাননার প্রতিবাদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে তিনি বিএনপির নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন-ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, জয়নুল আবদিন ফারুক, শামসুজ্জামান দুদু, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ। এদিকে, ১৮ দলীয় জোটের অন্যতম সাবেক শীর্ষ নেতা, ইসলামী ঐক্যজোটের প্রাক্তন চেয়ারম্যান মরহুম মুফতি ফজলুল হক আমিনীর স্মরণে গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মাহমুদুর রহমানের বড় অপরাধ তিনি তার পত্রিকায় স্কাইপে যুদ্ধাপরাধীর বিচারকের গোপন কথোপকথন এবং ব্লগে হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর বিরুদ্ধে করা কটূক্তি প্রকাশ করেছেন।