ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ছাত্রদলের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, ভাংচুর

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ডা. ফজলে রাব্বী হলে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অন্তত অর্ধশত নেতা-কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১৫ জনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডা. জাহিদ ও ডা. দোলন সমর্থিত দুই গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। সোমবার গভীর রাতে হলের ভিতর ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। উভয় গ্রুপের নেতা-কর্মীরা হলের ১০/১২টি কক্ষ ভাংচুর করে। রাত ৩টার দিকে উভয় গ্রুপ ছুরি, লোহার রড ও হকিস্টিক নিয়ে এক অপরের ওপর হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত ছাত্রদলের কর্মীরা জানান, ডা. জাহিদ ও ডা. দোলন এই দুই গ্রুপের মধ্যে হলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কয়েকদিন আগে থেকে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। সোমবার রাত ৩টার দিকে ডা. দোলন সমর্থিত ছাত্রদলের অর্ধশত নেতা-কর্মী হলের ভিতর শ্লোগান দেয়। তারা ডি-৫, ১, ১৪, ১৫, ২৪ ও এফ-৬ নম্বর কক্ষে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। এসব কক্ষে ডা. জাহিদ সমর্থিত ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা থাকেন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ইসতিয়াক আহমেদ চৌধুরী জানান, মাহমুদুল হাসান সুমনের নেতৃত্বে নজরুল ইসলাম রিয়াদ, গোলাম মোর্শেদ সজীব, মাহবুব আল তমাল ছাড়াও বহিরাগত ১০/১২ জন এই হামলায় অংশ নিয়েছিল। তারা বিভিন্ন কক্ষের আসবাবপত্র ও জানালার কাঁচ ভাংচুর করে। বিভিন্ন কক্ষ থেকে ছাত্রদলের অন্তত অর্ধশত নেতা-কর্মীদের বের করে বেধড়ক পেটাতে থাকে। হামলায় আহত অনেকেরই হাত ও পা ভেঙ্গে যায়। ভোর সাড়ে ৪ টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছাত্রদলের আহত নেতা-কর্মীদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। ইসতিয়াক আহমেদ চৌধুরী (২৪), সামিউল ইসলাম পরাগ (২৩), তাশিকুল ইসলাম (২২) , নিশাদ (২৪) , মিজানুর রহমান (২৪), সাখাওয়াত হোসেন সোহাগ (২৩), হাশেমী রাফসন (২৩), মঞ্জুরুল ইসলাম, বাদশাসহ ১৫ জন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। অন্যদিকে, ডা. দোলন সমর্থিত ছাত্রদলের রিয়াদ, সুমন ও তমালসহ ৫ জন নেতাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়া হয়। তাদের অভিযোগ ডা. জাহিদ সমর্থিত ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।