পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্ব ব্যাংক ফিরছে!

সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নুর এক প্রশ্নে গতকাল মঙ্গলবার সংসদে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের উত্তর উপস্থাপিত হয়, যাতে বিশ্ব ব্যাংকের ফেরার কথা বলা হয়। যুক্তরাষ্ট্র সফররত অর্থমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকার শওকত আলীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে টেবিলে প্রশ্নোত্তর উত্থাপিত হয়। নানা জটিলতার পর গত ৩১ জানুয়ারি সরকার জানায়, পদ্মা সেতুতে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থ নেয়া হবে না। গত ৪ ফেব্রুয়ারি সংসদে বিবৃতিতেও অর্থমন্ত্রী এই বিষয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। এর তিন সপ্তাহ পর গতকাল সংসদে অর্থমন্ত্রীর এই উত্তর পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, এই প্রশ্নের উত্তরটি গত ২৮ জানুয়ারি তৈরি করা হয়। এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সংসদ কাজের দায়িত্বে থাকা অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতার কারণে এই উত্তরটি এভাবে চলে এসেছে। ২৯১ কোটি ডলারের পদ্মা সেতু প্রকল্পে ১২০ কোটি ডলার দেয়ার জন্য চুক্তি করেছিল বিশ্ব ব্যাংক। কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গত বছরের জুন মাসে অর্থায়ন বাতিল করলেও সরকারের নানামুখী তত্পরতায় পুনরায় ফিরে আসে। এরপর দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত শুরু করে মামলা করলেও তা নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারেনি বিশ্ব ব্যাংকের পর্যবেক্ষক প্যানেল। এ নিয়ে দ্বন্দ্বের মধ্যে সরকার বিশ্ব ব্যাংকের অর্থ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বিশ্ব ব্যাংক প্রতিশ্রুত অর্থ অন্য প্রকল্পে ব্যয় করা যাবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা করতে ওয়াশিংটন গেছেন অর্থমন্ত্রী। জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হকের প্রশ্ন ছিল- “অর্থমন্ত্রী মহোদয় অনুগ্রহ করিয়া বলিবেন কি, চলতি আর্থিক বছরে বিদেশি ঋণ বা অনুদান কী পরিমাণ পাওয়ার আশ্বাস পাওয়া গিয়েছিল? তাহার মধ্যে কী পরিমাণ বাস্তবে পাওয়া গেছে, পদ্মা ব্রিজের ঋণ পাওয়ার বিষয়ে সর্বশেষ অবস্থা কী?” পদ্মা সেতুর বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর উত্তর হল- “বিশ্ব ব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্পের অর্থায়নে পুনরায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এই প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে গঠিত এক্সটার্নাল প্যানেলের মতামতের পর বিশ্ব ব্যাংক অর্থায়নের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।” গত ৪ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, বিশ্ব ব্যাংক সেপ্টেম্বর মাসে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রত্যাবর্তন করে এবং তখন থেকেই আমরা ঠিক করে রেখেছি যে, জানুয়ারিতেই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে হবে। “আমরা দেখলাম যে, বিশ্ব ব্যাংকের সময়সূচি এবং আমাদের সময়সূচি মিলছে না। তাই ৩১ জানুয়ারি, ২০১৩ তারিখে আমরা উন্নয়ন সহযোগীদের জানিয়ে দেই যে, আমরা পদ্মা সেতুর কাজ এখনই শুরু করব এবং আমরা বিশ্ব ব্যাংকের অপেক্ষায় থাকব না।” মুজিবুল হকের প্রশ্নের বাকি অংশের উত্তরে অর্থমন্ত্রী সংসদে জানান, ২০১২-১৩ অর্থবছরে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন দাতা দেশ/সংস্থার সঙ্গে ২ হাজার ৪৯৫ দশমিক ৯২ ডলারের চুক্তি হয়েছে, যার মধ্যে ঋণ বাবদ ২ হাজার ৭১ দশমিক ২৬ মিলিয়ন ডলার এবং অনুদান বাবদ ৪২৪ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ১ হাজার ৩০৮ দশমিক ৭৪ মিলিয়ন ডলার ছাড় হয়েছে জানিয়ে মুহিত বলেন, এর মধ্যে ঋণ বাবদ ১ হাজার ৫৩ দশমিক ৯০ মিলিয়ন ডলার এবং অনুদান বাবদ ২৫৪ দশমিক ৮৪ মিলিয়ন ডলার। বেগম রেহানা আক্তার রানুর প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬৫ হাজার ৮৮৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করেছে। আর তা গ্রহণ করা হয় বাংলাদেশ ব্যাংক ও তফসিলি ব্যাংক থেকে। সরকারের ট্রেজারি রুলস্-এর আওতায় ঘাটতি বাজেট পূরণের জন্য সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ গ্রহণ করে থাকে। জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন ধরনের আটটি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতির পরিমাণ সাত হাজার ১৪৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।