আসন্ন যান্ত্রিক গোলযোগ
প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৯:২৯
ক্রিপটিক ফেইট-এর সদস্যরা হলেন
ফারহান সামাদ (গিটার), সরফরাজ (গিটার),
ফারশেদ মাহমুদ (ড্রামস), চৌধুরী ফজলে সাকিব (ভোকাল/বেজ)।
মানুষ মানেই আজ বুকের ভেতর মন নয়, পাথরের ঠোকাঠুকি। তাই আর নয় সুরের কোমলতা, চাই বিস্ফোরিত চিত্কার...ধাতব আর্তনাদ। নিষ্ঠুর বাস্তবতাকে দুমড়ে মুচড়ে দেওয়ার প্রত্যয়েই জন্ম নিয়েছিল ব্যান্ডের হেভি মেটাল ধারা। এর আদি উত্স পাশ্চাত্য হলেও সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল এর বীজ। এ দেশের মাটিতেও তাই এ ধারার অনেকগুলো ব্যান্ডের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এর মাঝে সবুজ একটি নাম—ক্রিপটিক ফেইট। গত ২০ বছরেও যারা এতটুকু বিবর্ণ হয়নি।
ক্রিপটিক ফেইটের জন্ম সালটা ১৯৯৩। স্কুলপড়ুয়া দুই বন্ধু ওয়াহিদ ও সরফরাজ এর স্বপ্নদ্রষ্টা। তারা চেয়েছিলেন ব্যান্ডে গতানুগতিক ধারার বাইরে পা রাখতে। এই ইচ্ছা নিয়ে যাত্রা শুরু করলেন। পথে আরও তিন বন্ধু জুটে গেল। ব্যান্ডে যুক্ত হলেন সাকিব, ফারশেদ ও ইরেশ। অবশ্য কিছুদিনের মাথায় ওয়াহিদকে বিদেশে চলে যেতে হলো। তার শূন্যস্থান পূরণ করলেন ফারহান। প্রথম দিকে ক্রিপটিক ফেইট পাশ্চাত্যের সে সময়ের ব্যান্ডগুলো দ্বারা অনুপ্রাণিত হলেও খুব শিগগিরই তাদের স্বাতন্ত্র্য খুঁজে পেলেন। তাদের মিউজিকে পাওয়া গেল পরিপক্কতা ও সূক্ষ্মতার পরিচয়। প্রকাশ হলো তাদের প্রথম অ্যালবাম ‘এন্ডস আর ফরএভার’। সালটা ১৯৯৫। অ্যালবামটির সবগুলো গানই ছিল ইংরেজি ও হেভি মেটাল ধারার। সাউন্ডটেকের ব্যানারে প্রকাশিত এই অ্যালবাম তার গুণগত কারণেই শ্রোতা-আনুকূল্য পেয়েছিল। যা ক্রিপটিক ফেইটের সদস্যদের উত্সাহী ও সাহসী করে তোলে, একই সাথে দ্বিতীয় অ্যালবাম প্রকাশের প্রস্তুতির দিকে ঠেলে দেয়। এর পাশাপাশি বিভিন্ন কনসার্টে ছিল ক্রিপটিক ফেইটের দাপুটে উপস্থিতি। এখানেও তারা শ্রোতাদের অকুণ্ঠ সাড়া পেয়েছেন। যার ফলাফল তাদের দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘শ্রেষ্ঠ’। তবে এ অ্যালবাম নিয়ে তাদের ঘটনা গড়াল অন্যরকমভাবে। অ্যালবামটি সম্পূর্ণ হয়েছিল ১৯৯৭ সালে অথচ বাজারে এল ২০০২ সালে। কোনো আগ্রহী প্রোডাকশন কোম্পানির খোঁজ না পাওয়ায় এ দীর্ঘ ৫টি বছর অ্যালবামের গানগুলো মুখ লুকিয়েছিল ব্যান্ড সদস্যদের মাঝেই। কিন্তু প্রকাশের পরপরই হেভি মেটাল ভক্তরা অ্যালবামটিকে লুফে নেয়। এরপর বিভিন্ন মিক্সড অ্যালবামে ক্রিপটিক ফেইটকে খুঁজে পেয়েছিল তার শ্রোতারা। মিক্সড অ্যালবাম ‘ছাড়পত্র’-এ ক্রিপটিক ফেইটের ‘চলো বাংলাদেশ’ গানটি তাদের রীতিমতো জনপ্রিয় করে তোলে। এ রকম মোট ১১টি গান বিভিন্ন মিক্সড অ্যালবামে বিভিন্ন সময় তারা গেয়েছে। এরই মাঝে ২০০৬ সালে তারা তৃতীয় অ্যালবামটি প্রকাশ করে। নাম ‘দানব’। এই অ্যালবামের গানেও ক্রিপটিক ফেইট শ্রোতাদের আশা পূরণ করতে পেরেছিল।
ক্রিপটিক ফেইট-এর গানে শ্রোতারা খুঁজে পায় জীবনের নিষ্ঠুর বাস্তবতাকে। যেখানে মৃত্যুর মন্ত্র জীবনের সুরে বাজে। ক্রিপটিক ফেইট-এর নামকরণের মাঝেও এই সত্যটিই ছিল বলে জানালেন গিটারিস্ট ফারহান। চিন্তার বাহুল্য নয়, আবেগের আশ্রয়েই তাদের ব্যান্ডের নামকরণ হয়েছে। নামটি দিয়েছেন ব্যান্ডের ভোকাল সাকিব। ‘দানব’-এর পর বহুদিন ক্রিপটিক ফেইট তাদের সলো নিয়ে ভাবেনি। এ সময় কিছু কনসার্ট ও মিক্সড অ্যালবামে তাদের পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু এবার দীর্ঘ ৬ বছর পর ক্রিপটিক ফেইট তাদের ২০ বছর উদযাপনে নিয়ে আসছে নতুন সলো ‘যান্ত্রিক গোলযোগ’। এ নিয়ে পুরোদমে কাজ চলছে। বর্তমানে অ্যালবামটির চারটি গান সম্পূর্ণ বলে জানিয়েছে ক্রিপটিক ফেইট। গানগুলো হলো—‘হুঙ্কার’, ‘আড়াল’, ‘বহুরূপী’ ও ‘যান্ত্রিক গোলযোগ’। খুব শিগগিরই বাকি গানগুলো পূর্ণরূপ পাবে বলে জানিয়েছে ক্রিপটিক ফেইট। এই অ্যালবামটিও শ্রোতাদের প্রত্যাশা পূরণে সমর্থ্য হবে বলে আমরাও আশা রাখি।