কুমিল্লায় হাজার হাজার একর জমির ফসল হুমকির মুখে
প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০:৩৬
এককালের স্রোতস্বিনী কুমিল্লার ডাকাতিয়া নদী পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। ফলে সেচ সংকটে চলতি মওসুমে নদীর তীরবর্তী কুমিল্লার দক্ষিণাঞ্চলের হাজার হাজার একর জমির ইরি ফসল হুমকির মুখে পড়েছে। ডাকাতিয়া নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ায় লাকসাম, মনোহরগঞ্জসহ সন্নিহিত এলাকায় হাজার হাজার একর জমির ইরি ফসল উত্পাদন ব্যাহতের আশংকায় কৃষকের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। জলাঞ্চল খ্যাত মনোহরগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ফসলি জমিগুলো বছরের প্রায় ৯ মাস পানিতে নিমজ্জিত থাকে। ফলে একমাত্র ইরি ফসল নিয়ে স্থানীয় কৃষকরা শংকিত। উল্লেখ্য, লাকসাম উপজেলার ইছাপুরা, সাতঘর, সিংজোড়, কালিয়াপুর, শ্রীয়াং, হামিরাবাগসহ মনোহরগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর, চাটিতলা, শমসেরপুর, হাজীপুরা, লাউলহরীসহ নদী তীরবর্তী বেশ কিছু গ্রামের হাজার হাজার কৃষিনির্ভর পরিবার বছরে মাত্র একটি ইরি ফসলের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু বর্তমানে ডাকাতিয়া নদী শুকিয়ে যাওয়ার দরুন এতদাঞ্চলের কৃষকের মাঝে হাহাকার বিরাজ করছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অনেক কৃষক আশা, ব্র্যাকসহ বিভিন্ন এনজিও এবং মাল্টিপারপাস থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে বর্গা জমিন চাষ করে। নদী শুকিয়ে যাওয়ায় বর্গা চাষিরা দিন যাপন করছে অনিশ্চয়তার মাঝে। ডাকাতিয়া নদী খননের দাবি নতুন নয়; এরশাদ প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় লাকসাম সফরকালে এ দাবি উত্থাপিত হয়েছিলো। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় লত্সর দাঁড়াচোঁ খাল খনন উদ্বোধনকালে এ দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করে চিতোষী-পোমগাঁও স্থানে রেগুলেটর পাম্প স্থাপনের মাধ্যমে পানির ব্যবস্থা করে কৃষি উত্পাদন বৃদ্ধির ঘোষণা দেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন তত্কালীন মন্ত্রী বর্তমানে প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান লাকসাম সফরকালে এক জনসভায় ডাকাতিয়া নদী খননসহ পানি সমস্যার সমাধানের ঘোষণা দেন। স্বাধীনতার ৪১ বছরে সকল সরকারই শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান ডাকাতিয়া নদী খননসহ নাব্যতা রক্ষায় পানির ব্যবস্থা হবে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় কারো প্রতিশ্রুতিই রক্ষা হয়নি।
বর্তমানে এলাকার হতদরিদ্র অসহায় কৃষককূল প্রতিশ্রুতি বাদ দিয়ে বাস্তব সমাধান চায়, ডাকাতিয়া নদীর সমাধান চায়। ডাকাতিয়া খনন কিংবা বিকল্প পানির ব্যবস্থা আজ গণদাবিতে পরিণত হয়েছে।