প্রকট হচ্ছে বেলকুচি বিএনপির দ্বন্দ্ব
বেলকুচি(সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০:৩৯
অভিভাবকহীন বেলকুচি উপজেলা বিএনপির দ্বন্দ্ব আরো প্রকট আকার ধারণ করেছে। গত ৪ বছর যাবত্ এখানে বিএনপির কোন কমিটি নেই। ২০০৯ সালে উপজেলা বিএনপির সম্মেলনে হাজী জামালউদ্দিন ভুঁইয়া সভাপতি ও আতাউর রহমান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। নির্বাচনের কয়েকদিন পর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম এই কমিটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। এর পর কেন্দ্রীয় বিএনপি এই কমিটি স্থগিত করে।কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিমকে সভাপতি করার উদ্যোগ নিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। কমিটি গঠন নিয়ে শুরু হয় গ্রুপিং লবিং আর দ্বন্দ্ব। এই দ্বন্দ্ব এখন প্রকট আকার ধারণ করেছে। এ কারণে গত ৪ বছরেও উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠন করতে পারেনি নেতারা। মূলত আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরেই এই দ্বন্দ্বের সূচনা। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে বিএনপির নির্বাচনী ফলাফল সন্তোষজনক হবে না বলে মনে করছেন মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। উপজেলার শিক্ষানুরাগী মরহুম আবু কোরাইশী খানের পুত্র, সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল্লাহ খানের ভাতিজা বিএনপি নেতা গোলাম মওলা খান বাবলু, সাবেক সংসদ সদস্য মেজর অবঃ মঞ্জুর কাদের, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাজী জামালউদ্দিন ভুইয়া, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিম এই আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী। বর্তমান সরকারের চার বছরে বেলকুচিতে বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদলের নেতারা হরতাল, মিছিল , মিটিং করতে পারেনি। নেতাদের বড় একটি অংশ এলাকার বাইরে অবস্থান করায় মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। আর এর প্রভাব পড়েছে গত পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা বিজয় ছিনিয়ে নেন। একই ব্যক্তি একাধিক পদ দখল করে রাখলেও এলাকায় থাকেন না। গত বছর অনুষ্ঠিত বেলকুচি ডিগ্রি কলেজে ছাত্রসংসদ নির্বাচনে ছাত্রদল অংশ নিতে পারেনি। এমতাবস্থায় অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে উপজেলা বিএনপি। আর এর প্রভাব পড়েছে অঙ্গ সংগঠনগুলোতে। এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মেজর মঞ্জুর কাদের ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর আজ পর্যন্ত এলাকায় আসেননি। তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা এ প্রসঙ্গে বলেন, জেলা বিএনপির নেতারা দ্বন্দ্ব নিরসনে উদ্যোগ না নিলে আগামী নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীদের অংশগ্রহণ করাই কঠিন হয়ে পড়বে।