রোনালদোয় বিধ্বস্ত বার্সা

দু’সপ্তাহ আগেও মনে হচ্ছিল, এই বার্সেলোনা সেই অপরাজেয় চেহারাতেই আছে। এই বার্সেলোনাকে হারানো বুঝি অসম্ভব। কিন্তু দুটো সপ্তাহের মধ্যে একটার পর একটা মাঠের ফলাফলে কার্যত বিধ্বস্ত এখন বার্সেলোনা। সর্বশেষ বার্সেলোনাকে একেবারে গুঁড়িয়ে দিয়ে কোপা দেল রে সেমিফাইনাল থেকে ছিটকে দিল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জোড়া গোলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনাকে উড়িয়ে দিয়ে কোপা ডেল রে’র ফাইনালে পৌঁছে গেছে রিয়াল। টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে গত মঙ্গলবার রাতে নু-ক্যাম্পে তারা ৩-১ গোলে হারিয়েছে কাতালানদের। চ্যাম্পিয়নস লিগের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পরে নিজেদের হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে এ ম্যাচে জয়ের কোন বিকল্প ছিল না বার্সেলোনার। ঘরের মাঠে এ মৌসুমের রেকর্ডও নিঃসন্দেহে তাদের আশা যোগাচ্ছিল। কারণ, নিজেদের মাঠে সর্বশেষ ২২ ম্যাচে তাদের হারাতে পারেনি কেউ। তাছাড়া বার্নাব্যুতে নিজেদের মাঠে ১-১ গোলে ড্র করার কারণে চাপে ছিল সফরকারী রিয়াল মাদ্রিদই। তবে শেষ পর্যন্ত সব হিসাব নিকাশ পাল্টে দিলেন ঐ একজন। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ম্যাচের ১২ মিনিটেই বার্সার গোলমুখ খুলে দেন এই পর্তুগীজ সুপারস্টার। গোলটি আসে পেনাল্টি থেকে। তবে তাতে এতটুকু কমছে না তার কৃতিত্ব। ক্ষিপ্রগতিতে বার্সার গোলমুখে ধাবমান রোনালদোকে জেরার্ড পিকে অবৈধভাবে ফেলে দিলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। দারুণ এক পেনাল্টি শটে বার্সা গোলরক্ষক হোসে পিন্টোকে পরাস্ত করার পাশাপাশি প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা ছয়টি এল ক্লাসিকোতে অ্যাওয়ে গোল করার অনন্য রেকর্ডও গড়েন তিনি। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে গোল করতে পারেনি কোন দলই। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটাও হয় প্রথমার্ধের মতোই। বলের দখল মেসি বাহিনীর হাতে থাকলেও দারুণ একটা কাউন্টার অ্যাটাক থেকে দ্বিতীয় গোলটা পেয়ে যায় রিয়াল। স্যামি খেদিরার পাস থেকে অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়ার শট পিন্টো আয়ত্তে নিতে পারলে ফিরতি শটে বল জালে জড়ান রোনালদো। এরপরে ম্যাচের ৬৮ মিনিটে মেসুত ওজিলের ক্রসে প্রথম লেগের পুনরাবৃত্তি করে দুর্দান্ত এক হেডে রাফায়েল ভারানে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে বল পৌঁছে দিলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৩-০। ম্যাচ শেষ হওয়ার মিনিট খানেক আগে জর্ডি অ্যালবা বার্সার পক্ষে ব্যবধান কমালেও শেষ পর্যন্ত কাজে আসেনি তা। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে বিধ্বস্ত হওয়ার পরে নিজেদেরকেই দুষছে বার্সেলোনা। পাশাপাশি আগামী শনিবার বার্নাব্যুতে লা লিগার ম্যাচে আরেকটি এল ক্লাসিকোতে এ ম্যাচের শিক্ষা কাজে লাগাতে চায় তারা। দলের তারকা মিডফিল্ডার সেস ফ্যাব্রিগাস বলেন, ‘আমাদেরকে এই হার থেকে শেখা উচিত। মাঠে নিজেদেরকে আরও উজাড় করে দিতে হবে আমাদের।’ টুর্নামেন্টের ফাইনালে রিয়ালের প্রতিপক্ষ হবে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ অথবা সেভিয়া।