সরকারি গুদামের খাদ্যশস্য অবৈধভাবে বিক্রি বন্ধে সুপারিশ

সরকারি গুদামে রাখা খাদ্যশস্য অবৈধভাবে বিক্রি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। একই সাথে দুর্যোগপ্রবণ ও পিছিয়ে পড়া এলাকায় প্রাধিকার দিয়ে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বিশেষ কাবিখা বরাদ্দ দেয়ার সুপারিশ করা হয়। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়। সংসদ সচিবালয় জানায়, কমিটির সদস্যরা গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণে দেশের সকল এলাকার উন্নয়নে সমতা বিধানে করণীয় নির্ধারণে আলোচনা করেন। কমিটি পিছিয়ে পড়া এলাকায় বিশেষ কাবিখা বরাদ্দের সুপারিশ করে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কমিটিকে জানানো হয়, চলতি অর্থবছরে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বাজেট বরাদ্দে কাবিখা খাতে দুই লাখ ৯৬ হাজার মেট্রিক টন চাল ও ৭৮ হাজার মেট্রিক টন গম পাওয়া গেছে। কাবিখা কর্মসূচির আওতায় বিশেষ প্রকল্পের অনুকূলে এ পর্যন্ত চার হাজার ৫৯৪ মেট্রিক টন চাল ও ৯৪৫ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, কাবিখা খাতে উপজেলাওয়ারী প্রথম পর্যায়ে ৭৫ হাজার মেট্রিক টন চাল ও দ্বিতীয় পর্যায়ে ৭৫ হাজার মেট্রিক টন গমের সম্ভাব্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। নির্বাচনী এলাকাভিত্তিক প্রথম পর্যায়ে ৮৯ হাজার ৯৭০ মেট্রিক টন চাল ও দ্বিতীয় পর্যায়ে ৯৩ হাজার ৬০ মেট্রিক টন চালের সম্ভাব্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কমিটিকে জানানো হয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যেই আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হয়েছে এবং দুর্যোগ পরবর্তী উদ্ধার কার্যক্রমের জন্য আরো অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয়ের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়াও সেনাবাহিনী, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিসসহ অন্যান্য সংস্থার সমন্বিত কার্যক্রমের মধ্যদিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দেশ এখন আগের তুলনায় অনেক উন্নত অবস্থানে রয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে ছাত্র-ছাত্রীদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। বৈঠকে শরণার্থী শিবিরে ত্রাণ কাজ পরিচালনার বিষয়ে আলোচনা হয়। মিয়ানমার থেকে আসা শরণার্থীদের বসবাসের জন্য বাংলাদেশ সরকারের পড়্গ থেকে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে বর্তমানে দু’টি শরণার্থী ক্যাম্প রয়েছে। ত্রাণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য মন্ত্রণালয়ে শরণার্থী সেল, কক্সবাজারে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয় ও শরণার্থী ক্যাম্পে ক্যাম্প-ইন-চার্জের কার্যালয় রয়েছে। এছাড়াও শরণার্থী ক্যাম্পে বিভিন্ন এনজিও শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পানি ও স্যানিটেশন ইত্যাদি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কমিটির সভাপতি এ বি এম আনোয়ারুল হকের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, হাফিজ আহমদ মজুমদার, মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান, মো. খালেদুর রহমান টিটো, শেখ মুজিবুর রহমান এবং ফরিদুন্নাহার লাইলী অংশগ্রহণ করেন। মন্ত্রণালয় ও সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।