ট্রাইব্যুনালের রায় এবং হরতালকে ঘিরে সারাদেশে কঠোর নিরাপত্তা

জামায়াতে ইসলামী নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণা এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াতের ডাকা আজ বৃহস্পতিবারের হরতালকে ঘিরে রাজধানীসহ সারাদেশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। হরতালে সারাদেশে যে কোন ধরনের নাশকতায় ছাড় না দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। একই সঙ্গে রাজধানীতে অঘোষিত ‘রেড এলার্ট’ জারি করা হয়েছে। ঢাকায় পুলিশকে সহায়তার জন্য আবারও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গতকাল রাত ৮টা থেকে রাজধানীর রাজপথে টহল দেয় বিজিবি। এছাড়া র্যাবের দুই হাজার সদস্য গতকাল দুপুর থেকে রাজধানীতে টহল দেয়া শুরু করেছে। এবার টহল টিমের সঙ্গে মাঠে নামানো হচ্ছে রায়ট কার, এপিসি (সুরক্ষিত পুলিশ পরিবহন গাড়ি), র্যাবের ডগ স্কোয়াড, পুলিশের সোয়াট টিমকেও। সার্বিক নিরাপত্তার পাশাপাশি যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল এলাকায় ব্যাপক সংখ্যক র্যাব-পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের রায় আজ ঘোষণা করবেন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এর পরিপ্রেক্ষিতে সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে জামায়াত। রায় ও হরতালকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারাদেশে আতঙ্ক ও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ সদর দফতরের একটি সূত্রে জানা গেছে, আগের যে কোনো হরতালের চেয়ে এবারের হরতালকে অধিক গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় এনে জামায়াত-শিবিরকে রাজপথে নামতে না দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। যে কোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে সারাদেশে পুলিশ হার্ড লাইনে যাবে। নানা কঠোর পরিকল্পনা ও নির্দেশনা পালনের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে গতকাল থেকেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাজধানীসহ দেশের প্রতিটি জেলায় নেমেছে। পুলিশ ও র্যাব রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এলাকায় গতকাল রাত থেকেই অবস্থান নিয়েছে। রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চালানো হয়েছে তল্লাশি। শুধু রাজধানীতেই পুলিশ, ডিবি ও সোয়াটসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১২ হাজার সদস্য ও র্যাবের ২ হাজার সদস্য হরতালে দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়া সরকারের প্রায় প্রতিটি গোয়েন্দা সংস্থাই নজরদারি বাড়িয়ে দিয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, হরতালকে কেন্দ্র করে গতকাল পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল মিন্টু রোডে ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ডিএমপির শীর্ষ কর্মকর্তা, সব ক্রাইম ডিভিশনের ডিসি, ডিবি, এসবি ও সিআইডির ডিসি পদমর্যাদার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে হরতালে জামায়াত-শিবিরের নাশকতা ঠেকাতে যে কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে হরতালের দিন জিরো টলারেন্স দেখাতে ডিসিদের নির্দেশ দেয়া হয়। সূত্র জানায়, ডিএমপিকে নয়টি সেক্টরে ভাগ করে ৪৫১ পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন করা হবে। এছাড়া ৭৪টি স্ট্রাইকিং মোবাইল, ১৩৫টি মোবাইল টহল, ১৫টি স্থানে স্ট্রাইকিং রিজার্ভ এবং ক্যামেরাসহ ইনসিডেন্স কাম এভিডেন্স টিম মোতায়েন থাকছে। এছাড়া সোয়াট ও র্যাবের চৌকস দল রাজধানী জুড়ে এদিন টহল দেবে। মহানগর পুলিশের রমনা জোনের উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার গতকাল দুপুরে জানান, সাঈদীর রায়কে কেন্দ্র করে বুধবার রাত থেকেই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে। পুরাতন হাইকোর্ট এলাকায় ট্রাইব্যুনালের মূল ভবনকে কেন্দ্র ধরে এর ভেতরে ও বাইরে এবং চারদিকে নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হচ্ছে। মূল গেটের সামনে র্যাব-পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশহ বিভিন্ন সংস্থার নিরাপত্তাকর্মীরা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন। পুরো এলাকায় পুলিশের বোমা ডিস্পোজাল ইউনিট কাজ করবে। এছাড়া, মূল পয়েন্টগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বসানো হয়েছে। তিনি আরো জানান, ট্রাইব্যুনালের বিরুদ্ধে পুলিশ কোন ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করবে না। জনগণের জনমালের ক্ষতি হয়, কেউ এমন কাজ করলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তা প্রতিরোধ করবে। গোয়েন্দা সংস্থার বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রায়কে কেন্দ্র করে জামায়াত-শিবিরের ডাকে আজকের হরতালে ব্যাপক নাশকতার আশঙ্কা করছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এ কারণে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশকে সহায়তার জন্য বিজিবি মাঠে থাকছে। তবে কতক্ষণ থাকবে এ ব্যাপারে কোনো কিছু জানানো হয়নি। বিজিবির সূত্র জানায়, জামায়াত-শিবিরের সহিংসতা ঠেকাতে হরতালের আগের দিন রাজধানীর রাস্তায় বিজিবি সদস্যরা নেমেছে। গতকাল বুধবার রাত ৮টায় বিজিবির ৪০টি প্লাটুন ঢাকার রাজপথে টহল শুরু করে। পাশাপাশি স্পর্শকাতর এলাকায় টহল ও তল্লাশি চালায়। রাজধানীর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ছাড়াও গাবতলী থেকে সায়েন্সল্যাব, আব্দুল্লাহপুর থেকে ফার্মগেট, শাহবাগ থেকে কাঁচপুর ব্রিজ পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা টহল শুরু করে। এছাড়া রাতে পুলিশের সঙ্গে বিভিন্ন অভিযানে বিজিবি অংশগ্রহণ করে। \