ট্রাইব্যুনালে শেষ দিনে সাঈদী
সরকার আমাকে তামাশার পাত্রে পরিণত করেছে
প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:২৭
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে গত ৪২ বছরের মধ্যে আমার বিরুদ্ধে কোনো বিষয়েই কোনো মামলা ছিলো না। একটি জিডিও ছিলো না। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে আজ আমি ১৭টি মামলার আসামি। ২০১০ সালে জুন থেকে অদ্যাবধি কথিত মানবতাবিরোধী ২০টি অপরাধের অভিযোগসহ ১৭টি মামলা আমার বিরুদ্ধে দায়ের করে এবং বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে সরকার আমাকে তাদের রাজনৈতিক তামাশার পাত্রে পরিণত করেছে।
মামলার বিচারিক কার্যক্রমের শেষদিন অর্থাত্ গত ২৯ জানুয়ারি যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর অনুমতি চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আনা মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত দাবি করে এসব কথা বলেছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ।
সাঈদী সেদিন বলেন, অর্ধ শতাব্দী ধরে আমি কোরআনের দাওয়াত বাংলাদেশের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছি, এটাই আমার অপরাধ হলে হাজার বার ফাঁসির মঞ্চে যেতে আমি রাজি আছি।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে কোন এক দেলোয়ার শিকদারের করা অপরাধ আমার উপর চাপিয়ে দিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রপক্ষ মিথ্যার পাহাড় রচনা করেছেন। সরকার ও তার রাষ্ট্রযন্ত্রের চিত্রিত ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত অপরাধের হত্যাকারী, লুণ্ঠন, গণহত্যাকারী, ধর্ষক, অগ্নি সংযোগকারী, দেলোয়ার শিকদার বা দেইল্যা রাজাকার আমি নই।
আমি সেই যৌবন কাল থেকেই শান্তি ও মানবতার উত্কর্ষ সাধনে পবিত্র কুরআনের শাশ্বত বাণী প্রচার করার লক্ষ্যে নিজ জন্মভূমি থেকে শুরু করে বিশ্বের অর্ধশত দেশ ভ্রমণ করেছি। জীবন সায়াহ্নে এসে সরকার ও সরকারি দলের দায়ের করা ‘ধর্মীয় মূল্যবোধের উপর আঘাত হানার’ হাস্যকর ও মিথ্যা মামলায় গত ২৯ জুন ২০১০ থেকে আজ পর্যন্ত কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে মানবেতর অবস্থায় দিনাতিপাত করছি।
সাঈদী আরো বললেন, যে ২০টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আজ আপনাদের সম্মুখে আমি দণ্ডায়মান, সেগুলো সরকারের হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যেই সাজানো। ১৯৭১ সালে পিরোজপুর বা পাড়েরহাটে পাকিস্তানি বাহিনী যা ঘটিয়েছে, সেসব কাহিনী সৃজন করে চরম মিথ্যাবাদী ও প্রতারক এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও তার সহযোগীরা নীতি নৈতিকতার মূলে পদাঘাত করে আমার নামটি জুড়ে দিয়েছেন। কোনো মুসলমানের পক্ষে এতো জঘন্য মিথ্যাচার আদৌ সম্ভব নয়।
তদন্ত কর্মকর্তা এবং সহযোগীরা তাদের সৃজিত অভিযোগগুলো প্রমাণের জন্য কয়েকজন বিতর্কিত চরিত্র ভ্রষ্ট ও সরকারি সুবিধাভোগী দলীয় লোক ব্যতীত সাক্ষী প্রদানের জন্য কাউকেই হাজির করতে পারেননি।
সাঈদী বলেন, স্কাইপি ষড়যন্ত্র ধরা পড়ে যাওয়ার পরে এই বিচারের উপর দেশবাসীর মতো আমার আস্থাও শূন্যের কোটায়। তথাপি পুনর্গঠিত এই ট্রাইব্যুনালের মাননীয় বিচারপতিগণ একমাত্র আল্লাহ তায়ালার কাছে দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতার অনুভূতি থেকে সুবিবেচনা ও বিবেক দ্বারা পরিচালিত হয়ে এই মামলা নিষ্পত্তি করবেন, এই বিষয়ে আমি আশাবাদী হতে চাই, আস্থাশীল হতে চাই।