পিরোজপুরে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয়

আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আজ মামলার রায়ের দিন ধার্য হওয়ায় গতকাল বুধবার তার নির্বাচনী এলাকা পিরোজপুরে উত্তেজনা দেখা দেয়। যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় গতকাল থেকে আইন-শৃংখলা বাহিনীকে বিশেষ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে, তৈরি করা হয়েছে তিন স্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা বলয়। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদেরও পাড়ায়-মহল্লায় যে কোন বিশৃংখলা প্রতিহত করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জামায়াত-শিবিরসহ নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের যেকোন ধরনের তত্পরতা বন্ধে পুলিশ, র্যাবসহ আইন-শৃংখলা বাহিনী টহল দিচ্ছে। দুপুর থেকে পিরোজপুরের সাঈদী ফাউন্ডেশনসহ জেলা শহরের স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। মামলার রায়ের দিন ধার্য করে আদালতের ঘোষণার খবরের পর দুপুর থেকে জেলা শহরসহ জিয়ানগর ও নাজিরপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশের জনবল আরও বৃদ্ধি করা হয়। জেলা শহরে মানুষের মধ্যে এক ধরনের চাপা উত্তেজনা লক্ষ্য করা যায়। পিরোজপুরের পুলিশ সুপার এস এম আক্তারুজ্জামান জানান, ইতিমধ্যে জেলার বাইরে থেকে কয়েক প্লাটুন পুলিশ, আমর্ড পুলিশ ব্যাটেলিয়ান (এপিবিএন) এবং রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্স (আরআরএফ) আনা হয়েছে। তিনি জানান, জেলা সদর, জিয়ানগর, নাজিরপুর উপজেলাসহ অন্যান্য উপজেলায়ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ঝুঁকি প্রবণ এলাকায় তিন স্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। শহরের বলেশ্বর ব্রীজ, বেকুটিয়া ফেরীঘাট, চরখালী ফেরীঘাটসহ বিভিন্ন সড়কপথে পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে, র্যাবের গোয়েন্দা উইং সূত্রে জানা গেছে, আগে থেকেই পিরোজপুরে র্যাবের টহল অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার আগেই র্যাবের শক্তি আরও বৃদ্ধি করা হবে। এদিকে, সাঈদীর গ্রামের বাড়ি জিয়ানগর উপজেলায়ও আরআরএফ ও এপিবিএনসহ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের আজ বৃহস্পতিবার মাঠে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম এ আউয়াল এমপি। তিনি গতকাল বুধবার পাড়েরহাটে জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন স্থলে উপস্থিত দলীয় নেতা-কর্মীদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে এ নির্দেশ দেন।