হরতালের আগেই গাড়িতে আগুন, ভাংচুর

জামায়াত ইসলামীর সকাল-সন্ধ্যা হরতালে সমর্থনে গতকাল বুধবার রাজধানীর বেশ কয়েকটি স্থানে যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। হরতালের সমর্থনে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল বের করে জামায়াত-শিবির। দয়াগঞ্জে শিবিরের মিছিলের ওপর পুলিশ রাবার বুলেট ছুঁড়েছে। এতে ৩ শিবির কর্মী রাবার বুলেট বিদ্ধ হয়। মহাখালীতে শিবির কর্মীরা ৪/৫ টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। রাত ৮ টার দিকে বাংলামোটরে একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে ধানমন্ডির সাতমসজিদ রোডে একটি হিউম্যান হলারে (লেগুনা) আগুন দেয় হরতাল সমর্থকরা। ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই আশেপাশের লোকজন আগুন নিভিয়ে ফেলে। সন্ধ্যায় মহাখালীর আমতলা পুলিশ বক্সের কাছে হরতাল সমর্থনে ৩/৪টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। দয়াগঞ্জ, কবি নজরুল কলেজ ও পান্থপথ থেকে মিছিল করেছে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা। মিছিলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ১১ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় গুলিবিদ্ধ হন তিন শিবিরকর্মী। এর মধ্যে আব্দুল্লাহ নামে এক শিবিরকর্মীর অবস্থা গুরুতর। বিকাল সোয়া ৫টার দিকে দয়াগঞ্জ মোড় থেকে মিছিল বের করে শিবির। পুলিশ মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করতে কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ছোঁড়ে। পরে শিবিরকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। এতে ৩ শিবিরকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে দাবি করেছেন শিবিরের কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাত। সরকারি কবি নজরুল কলেজের পাশ থেকে একটি মিছিল বের করে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা। মিছিলটি কিছু দূর সামনে গেলে পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সেখান থেকে ৫ জন শিবিরকর্মীকে আটক করে পুলিশ। একই সময়ে হরতালের সমর্থনে পান্থপথের স্কয়ার হাসপাতালের সামনে থেকে একটি মিছিল বের করেন জামায়াত-শিবিরকর্মীরা। এখানে পুলিশের বাধার মুখে তারা বেশিদূর এগোতে পারেনি। সেখান থেকে ২ জনকে আটক করে পুলিশ। সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে মালিবাগ রেলগেট নূর মসজিদ থেকে শিবিরকর্মীরা মিছিল বের করে মালিবাগ কাঁচাবাজার এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ, ছাত্রলীগ এবং যুবলীগ ধাওয়া দিয়ে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সেখান থেকেও তিনজন শিবিরকর্মীকে আটক করে পুলিশ। রাত ৮টার দিকে কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় শিবিরকর্মীরা কয়েকটি যানবাহনে ভাংচুর চালায়।