উচ্চ আদালতে জামিন ও স্থগিতাদেশের মেয়াদের জটিলতায় বিচারপ্রার্থীরা

উচ্চ আদালতে জামিন এবং স্থগিতাদেশের মেয়াদ বৃদ্ধি করা নিয়ে কোন কোন ক্ষেত্রে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। এই জটিলতার কারণে বিচারপ্রার্থীরা হয়রানির সম্মুখীন হচ্ছেন। ইতিপূর্বে এরকম বেশকিছু মামলার নথি সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে সময়মত আদালতে না আসায় জামিন ও স্থগিতাদেশের মেয়াদ বর্ধিত করতে পারছেন না বলে অভিযোগ আইনজীবীদের। গতকাল বুধবার ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার তথ্য-প্রমাণসহ এই অভিযোগ তুলে ধরেন। তৈমুর আলম বলেন, আগে জামিন বা স্থগিতাদেশের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য আমরা হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে উত্থাপন (মেনশন) করতাম। মেনশন করার পর আবেদনটি কার্যতালিকায় আসত। ফাইল থাকে সংশ্লিষ্ট শাখায়। সেকশনের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে মামলার ফাইল পাঠিয়ে দেয়া। ইতিপূর্বে কার্যতালিকা দেখে তারা সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে ফাইল পাঠিয়ে দিতো। কিন্তু এখন ফাইল আসার পর মেনশন করতে হয়। অনেক সময় দেখা যায় ফাইল আসার আগেই জামিন বা স্থগিতাদেশের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এ কারণে অহেতুক জামিনপ্রাপ্তদের জামিন বাতিল করে দেয় নিম্ন আদালত। আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, হাইকোর্ট সময় নির্ধারণ করে আসামিকে জামিন দেয়। কিন্তু সেই জামিন আদেশ নিম্ন আদালতে প্রায়ই সময়মতো পৌঁছে না। হাইকোর্টের আদেশ পৌঁছার পর নিম্ন আদালত থেকে টেলিফোনে আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করতে বিচারপ্রার্থীকে অনেক দেন-দরবার করতে হয়। আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত হতেই অনেক সময় জামিনের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এজন্য পর্যাপ্ত সময় হাতে রেখে জামিনের আদেশ নিম্ন আদালতে প্রেরণ করা দরকার। এসব সমস্যা সমাধানে প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ কামনা করছেন আইনজীবীরা। ভুক্তভোগী আইনজীবীরা বলেন, সমপ্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে আইনজীবী অনুপস্থিত থাকলে “ডিফল্ট অব ল’ইয়ার” এই আদেশ দিয়ে মামলা খারিজ করে দেয়া হয়। তখন আর প্রতিকারের উপায় থাকে না। সেক্ষেত্রে ন্যায় বিচারের স্বার্থে মামলাগুলো খারিজ না করে নথি পর্যালোচনা করে ‘অন মেরিট’ আদেশ দেয়া দরকার।