সশস্ত্র বাহিনী আধুনিকায়নে ফোর্সেস গোল ২০৩০ বাস্তবায়ন করা হবে

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক ও উন্নত করতে সরকার বিভিন্নমুখী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এ জন্য ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’ বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি আরও বলেন, দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিসহ গার্মেন্টস শিল্পকে ধ্বংসের জন্য পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন গার্মেন্টসে অগ্নিসংযোগসহ ক্ষতিসাধনের চেষ্টা করা হচ্ছে। গতকাল বুধবার বিকালে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হলে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে এসব কথা জানান। ডেপুটি স্পিকার কর্নেল (অব.) শওকত আলীর সভাপতিত্বে গতকাল বিরোধী দলবিহীন চলতি অধিবেশনের ২০তম কার্যদিবস ছিল। বেগম নাসরিন জাহান রত্নার প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা শেখ হাসিনা জানান, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীকে আধুনিক ও উন্নত করার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। শেখ হাসিনা জানান, ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেনাবাহিনীতে দু’টি নতুন আর্মি কমান্ড, একটি পদাতিক ডিভিশন ও এর জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্রিগেড ও ইউনিটসমূহ, দু’টি বিমান প্রতিরক্ষা ব্রিগেড, দু’টি যান্ত্রিক ব্রিগেড, একটি সাঁজোয়া, গোলন্দাজ ও ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন এবং প্রয়োজনীয় সহায়ক ইউনিট সংযোজন সম্পন্ন হবে। ইতোমধ্যে সেনাবাহিনীর সাংগঠনিক কাঠামো বিন্যাস ও পরিবর্তন সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, চারটি ধাপে ক্রমান্বয়ে গৃহীত পদক্ষেপের মধ্যে ইতোমধ্যে নতুন আধুনিক ট্যাংক, লোকেটিং রাডার এবং হেলিকপ্টার কেনা হয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া কোরের জন্য অত্যাধুনিক এমবিটি-২০০০ মডেলের চতুর্থ জেনারেশন ট্যাংক, গোলন্দাজ বাহিনীর জন্য মোবাইল ওয়ারফেয়ার-এ সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে সেলফপ্রপেল্ড গানসহ এসপি আর্টিলারি সিস্টেম এবং মাল্টিলঞ্চার রকেট সিস্টেম, উইপন লোকেটিং রাডার, সাউন্ড রেঞ্জিং ইকুইপমেন্ট, পদাতিক বাহিনীর জন্য অত্যাধুনিক অটোমেটিক গ্রেনেড লঞ্চার, এন্টি ট্যাংক উইপন, এন্টি ট্যাংক গাইডেড উইপন, ট্যাংক বিধ্বংসী মিসাইল, নন-গাইডেড ট্যাংক বিধ্বংসী অস্ত্র, আর্মড পার্সোনাল ক্যারিয়ার, এরআভি এবং এপিসি ইত্যাদি কেনার কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। সেনাবাহিনীর মতো একইভাবে নৌ ও বিমান বাহিনীকে আধুনিক ও উন্নত করা হবে। নৌবাহিনী সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী জানান, এ বাহিনীকে সুসজ্জিত করার লক্ষ্যে ভূমি থেকে ভূমি এবং ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য মিসাইল, জাহাজ ও সাবমেরিন ধ্বংস করার টর্পেডো, রকেট, ডেপথ চার্জ, লঞ্চার, কামান, গোলা, রাডার ও ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম সংযোজন করা হয়েছে। অপরদিকে বিমান বাহিনীতে সারফেস টু এয়ার মিসাইল সিস্টেম সংযোজন করা হয়েছে। কক্সবাজারে একটি পূর্ণাঙ্গ নতুন ঘাঁটি স্থাপন এবং চারটি এটিএস রাডার স্কোয়াড্রন প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। গার্মেন্টস শিল্প ধ্বংসের চেষ্টা : বেগম নূর আফরোজ আলীর প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা জানান, দেশের রফতানি আয়ের সিংহভাগ আসে গার্মেন্টস খাত থেকে। গত অর্থ বছরে মোট রফতানি আয় ছিল ২৪ হাজার ৩০১ দশমিক ৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে শুধুমাত্র গার্মেন্টস খাতের আয় ছিলো ১৯ হাজার ৮৯ দশমিক ৭৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিসহ গার্মেন্টস শিল্পকে ধ্বংসের জন্য পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন গার্মেন্টসে অগ্নিসংযোগসহ ক্ষতিসাধনের চেষ্টা করা হচ্ছে।