বিখ্যাত বিদেশি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ আনতে তর্জন-গর্জন সার

বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ আনতে সরকার নানামুখী উদ্যোগের কথা বলে আসছে অনেক দিন থেকে। এ লক্ষ্যে এসব প্রতিষ্ঠানকে গ্যাস-বিদ্যুত্, অবকাঠামো আর পৃথক শিল্প এলাকাসহ প্যাকেজ সুবিধা দেয়ার চিন্তা ছিল। তবে এ বিষয়ে এখনো অগ্রগতি আশানুরূপ নয়। ফলে সামপ্রতিক সময়ে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় আসেনি বিদেশী বিনিয়োগ। এ অবস্থায় তাদেরকে কী কী সুবিধা দেয়া যায় সে বিষয়ে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি একটি সভা করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়। তবে ওই সভায় কোন সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হয়নি। আগামী মার্চের ৩১ তারিখের মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিনিয়োগ বোর্ড ও ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইকে এ বিষয়ে মতামত দেয়ার কথা বলে সভা শেষ করতে হয়েছে। বিনিয়োগ বোর্ডের সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে চলমান গ্যাস-বিদ্যুত্ আর অবকাঠামো সংকট বিদেশি বিনিয়োগকে নিরুত্সাহিত করছে। এর উপর রাজনৈতি হানাহানির ফলে সৃষ্ট অনিশ্চয়তার কারণেও অনেক বিদেশি বড় কোম্পানি আসার উত্সাহ পাচ্ছে না। ফলে সার্বিক বিবেচনায় বিদেশি বিনিয়োগ কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বাড়ছে না। তারা বলছেন, উচ্চ প্রযুক্তি সম্পন্ন পণ্য আর সেবাখাতে বিদেশি বিনিয়োগ আসুক। এর ফলে দেশে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা আর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এসব বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানের জন্য সরকার কী ধরনের প্যাকেজ সুবিধা দিতে পারে এতদিনেও কোন নীতিমালা করতে না পারাকে বড় ব্যর্থতা বলে মনে করেন তারা। এদিকে এফবিসিসিআই মনে করছে, দেশীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো কাঙ্খিত মাত্রায় গ্যাস-বিদ্যুত্, অবকাঠামো সুবিধা পায়নি। অনেক সম্ভাবনায়ম প্রতিষ্ঠান যথাযথ সুবিধা পাচ্ছে না। বিদেশি বিনিয়োগ আনার আগে দেশের এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান সমস্যা সমাধান করা প্রয়োজন। ওই সভায়ও এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, শুধু বিশ্ব সেরা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিনিয়োগের জন্য প্যাকেজ সুবিধা দিতে হবে তা নয়। আমাদের দেশে আকিজ, ওয়ালটনের মত প্রতিষ্ঠানকে যথাযথ ঋণ, বন্ডেড ওয়্যরহাউজের মত সুবিধা দিলে তারাও আমাদের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আমদানি বিকল্প পণ্য উত্পাদনে এ দেশের কিছু প্রতিষ্ঠান স্থানীয়ভাবে সেগুলো উত্পাদন করে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে পারে। সূত্র জানায়, দেশে বর্তমানে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। এই অবস্থায় দেশীয় অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান কাঙ্খিত মাত্রায় গ্যাস পাচ্ছে না। আর বিদেশি বিনিয়োগ আনতে হলে প্রথমেই গ্যাস-বিদ্যুত্ শিল্পপার্কসহ অবকাঠামো সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। সরকার বিভিন্ন সময় উদ্যোগ নিলেও এ বিষয়ে কার্যকর বাস্তবায়ন দেখা যায়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিশ্বখ্যাত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রণোদনা প্যাকেজের জন্য একটি নীতিমালা প্রয়োজন। এদিকে গত বুধবার এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বাণিজমন্ত্রী গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের সাথে স্বাক্ষাত্ করে দ্রুত শিল্প কারখানায় গ্যাস সংযোগ দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিদ্যুত্ ও জ্বালানি সংকটের কারণে বর্তমানে দেশের অর্থনীতিতে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। নতুন গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় এবং অপর্যাপ্ত বিদ্যুতের কারণে লোডশেডিং হওয়ায় শিল্পখাত ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এতে স্থানীয় শিল্প উদ্যোক্তাগণ যেমনি হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে তেমনি বিদেশি বিনিয়োগ হয়ে পড়ছে স্থবির। এই অবস্থায় প্রয়োজনে আবাসিক খাতে নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ রেখে উদীয়মান শিল্প খাতে সংযোগ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। এফবিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি হেলাল উদ্দিন গতকাল এ ব্যাপারে ইত্তেফাককে বলেন, আমরা গ্যাস ভিত্তিক অনেক শিল্প কারখানা গড়ে এখন গ্যাসের অভাবে চালু করতে পারছি না। যন্ত্রপাতি আমদানি করে বসে আছি। বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে স্বাগত জানাই। তবে আমরা চাই এসব রেডি প্রতিষ্ঠানকে সরকার আগে চালু করার ব্যবস্থা করুক।