৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত চেক ক্লিয়ারিং-এ ফি লাগবে না
প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০:১৭
অটোমেটেড চেক ক্লিয়ারিং-এর উপর ধার্য ফি বিষয়ে কিছুটা নমনীয় হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত চেক ক্লিয়ারিং-এ গ্রাহককে ফি দিতে হবে না। এছাড়া চেকের পরিবর্তে ইলেকট্রনিক ফান্ডস ট্রান্সফার (ইএফটি) করার ক্ষেত্রেও আগের ধার্য করা চার্জ তুলে নেয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিনামূল্যে সরকারি চেকও ক্লিয়ারিং দেয়া হবে। বাণিজ্যিক সংগঠনগুলোর দাবির মুখে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গতকাল এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গ্রাহকদের কাছ থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বিভিন্ন রকম চার্জ আদায় করে থাকে। এসব চার্জের উপর নতুন করে চেক ক্লিয়ারিং-এ চার্জ আরোপ করায় ব্যবসায়ীদের জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এজন্য ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই, ডিসিসিআই, এমসিসিআইসহ বিভিন্ন সংগঠন এ চেক ক্লিয়ারিং-এর উপর ধার্য করা চার্জ প্রত্যাহারের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ জানিয়ে আসছিল। আর সরকারি চেক ক্লিয়ারিং-এ চার্জ উঠিয়ে নেয়ার জন্য সোনালী ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিল।
গত বছরের নভেম্বরে বাংলাদেশ অটোমেটেড ক্লিয়ারিং হাউজ (ব্যাচ) -এর ফি ধার্য বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট। বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়া বিবেচনায় নিয়ে গতকাল আগের সার্কুলারের সংশোধন করে নতুন আরেকটি সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই বিভাগ। দেশে কার্যরত তফসিলি ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো নতুন সার্কুলারে বলা হয়েছে, ব্যাচ ও অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোর মধ্যে চার্জের বন্টন যৌক্তিককরণ ছাড়াও কিছু কিছু লেনদেন নিষ্পত্তি আপাতত চার্জের আওতামুক্ত থাকবে। ৫০ হাজার টাকার কম সব ধরনের চেক ক্লিয়ারিং-এ চার্জ লাগবে না। চেকের পরিবর্তে ইলেকট্রনিক পদ্ধতির ব্যবহার উত্সাহিত করার লক্ষ্যে সকল ইএফটি লেনদেনেও চার্জ লাগবে না। সরকার কোনো ব্যক্তিকে চেক দিলে তার ক্লিয়ারিং-এও চার্জের প্রয়োজন হবে না। এছাড়া টাকার অংক নির্বিশেষে সকল ধরনের সরকারি প্রাপ্তির বিপরীতে (যথাঃ চালানের বিপরীতে কিংবা সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের উদ্দেশ্যে) গৃহীত চেক, ইউটিলিটি বিল এবং সিটি করপোরেশন বা পৌরসভার বিভিন্ন পাওনার বিপরীতে গৃহীত সকল চেক ক্লিয়ারিং-এ চার্জ লাগবে না। তবে ৫০ হাজার কিংবা তদূর্ধ্ব কিন্তু পাঁচ লাখ টাকার কম অঙ্কের চেক ক্লিয়ারিং-এর জন্য ১০ টাকা (ভ্যাটসহ) চার্জ আদায়যোগ্য হবে। যার মধ্যে ব্যাচ পাবে আট টাকা এবং উপস্থাপনকারী ব্যাংক পাবে দুই টাকা। দেশের যেকোনো অঞ্চলের হাইভ্যালু চেক (৫ লাখ টাকা বা তদূর্ধ্ব) একই দিনে ক্লিয়ারিং-এর জন্য ভ্যাটসহ ৬০ টাকা চার্জ দিতে হবে যার মধ্যে ব্যাচ পাবে ৫০ টাকা এবং উপস্থাপনকারী ব্যাংক পাবে ১০ টাকা। তবে পাঁচ লাখ বা তদূর্ধ্ব অংকের চেক রেগুলার ভ্যালু ক্লিয়ারিংয়ে উপস্থাপিত হলে (ভ্যাটসহ) সর্বোচ্চ ২৫ টাকা চার্জ প্রযোজ্য হবে, যার মধ্যে ব্যাচ পাবে ২০ টাকা আর উপস্থাপনকারী ব্যাংক পাবে ৫ টাকা। এসব চার্জ গ্রাহকের কাছ থেকে আদায় করা হবে। তবে এবারও আগের সার্কুলারের মতো ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে যে, গ্রাহকের কাছ থেকে এ চার্জ না নিয়ে ব্যাংকের নিজস্ব উত্স থেকেও ব্যাংকগুলো ব্যাচকে ধার্য করা টাকা পরিশোধ করতে পারবে। চার্জ হিসাবায়নের সুবিধার্থে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি ব্যাংক, পরবর্তী মাসের দ্বিতীয় কর্মদিবসের মধ্যে পূর্ববর্তী মাসে সম্পাদিত চার্জের আওতাবহির্ভূত লেনেদেনের তথ্য (যথাঃ চেক নম্বর, উপস্থাপনের তারিখ ও টাকার অংক) সম্বলিত একটি তালিকা অত্র বিভাগে দাখিল করবে। সংশোধিত এ ক্লিয়ারিং চার্জ আজ থেকে কার্যকর হবে বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ব্যাচের সুষ্ঠু পরিচালনার স্বার্থে রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা ব্যয় নির্বাহের জন্য লেনদেনের ক্ষেত্রে চার্জ ধার্য করা হয়েছে। ব্রিটিশ সরকারের আর্থিক সহায়তায় ওই প্রকল্প স্থাপন করা হলেও বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, প্রতি বছর বিএসিএইচ মেশিনের মূল্যমান সাড়ে ১২ কোটি টাকা হারে কমে যাওয়া ও ওই মেশিন পরিচালনার জন্য ১২ কোটি মিলে মোট বছরে খরচ হবে ২৫ কোটি টাকার মত। এ টাকা তুলতেই চেক ক্লিয়ারিং-এ চার্জ আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।