হরতালে রাজধানীতে বিক্ষিপ্ত বোমাবাজি গুলিবিদ্ধ ১

গতকাল বৃহস্পতিবার জামায়াত আহূত সকাল-সন্ধ্যা হরতাল কর্মসূচি চলাকালে রাজধানীতে কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটে। ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড ও পীর-মাশায়েখ, আলেম-ওলামাদের উপর জুলুম নিপীড়নের প্রতিবাদ এবং জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তির দাবিতে এই হরতাল আহ্বান করা হয়। আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল বুধবার মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিচারের রায়ের দিনক্ষণ ঘোষণার পর জামায়াত ওই দিন দুপুরে আকস্মিকভাবে এই হরতালের ডাক দেয়। হরতালের সময় রাজধানীতে অধিকাংশ দোকানপাট খোলা ছিল। সচিবালয়সহ অফিস-আদালতের হাজিরা ছিল প্রায় স্বাভাবিক। ব্যাংকে লেনদেন হয়। বিমান, রেল ও লঞ্চ চলাচল করেছে। রাজধানী থেকে দূরপাল্লার কোন বাস না ছাড়লেও সকাল থেকেই রাজধানীর যানবাহন চলাচল ছিল প্রায় স্বাভাবিক। আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষায় রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়কের মোড়ে বিপুলসংখ্যক বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়। হরতালে সকাল থেকেই শান্ত ঢিলে ঢালা ছিল। দুপুরের পর পুলিশ নগরীর বিভিন্ন স্থানে ফাঁকা রাবার বুলেট ছোঁড়ে। এতে জনমনে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হরতালের পক্ষে কোন মিছিল ছিলই না। কিছু কিছু স্থান থেকে জামায়াত-শিবির কর্মীদের মিছিলের চেষ্টা করতে দেখা যায়। তবে যেখানেই মিছিল করেছে সেখানেই পুলিশ তাদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করেছে অথবা গ্রেফতার করেছে। রাজধানীতে বিভিন্ন স্থানে গতকাল মিছিল করতে বের হলে প্রায় ১৮ জন জামায়াত-শিবির কর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সকালে রাজাবাজার এলাকা থেকে ১০ জন এবং তেজগাঁও এলাকা থেকে ৬ জনকে আটক করে পুলিশ। রাজাবাজার এলাকায় শিবির কর্মীদের গ্রেফতারের সময় দুটি ককটেল ফোটানো হয়। দুপুর পৌনে দুইটার দিকে শাপলা চত্বরে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। মতিঝিলের কোন একটি বহুতল ভবন থেকে ককটেলটি ফেলা হতে পারে বলে সেখানে কর্তব্যরত একজন পুলিশ জানান। তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় তিন শিবির কর্মীকে সাধারণ জনতা পিটুনি দেয়। বেলা সোয়া তিনটার দিকে মেরুল বাড্ডার সেবা মেডিকেল হলের সামনে এই ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট অনেক দোকানপাট খোলা ছিল। বৃহত্তম বিপণী বিতান বসুন্ধরা গতকাল খোলা ছিল। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট মিছিল বের করে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠন। নিলক্ষেতে দুপুর একটা ৫০ মিনিটের দিকে লাঠি মিছিল বের করে আওয়ামী লীগ। শান্তিনগরে একইভাবে ২টার দিকে মিছিল বের করা হয়। একই সময় মতিঝিল এলাকায় জামায়াত-শিবির কর্মীদের জড়ো হওয়ার খবরে ফাঁকা গুলি করে পুলিশ। শাপলা চত্বর থেকে দৈনিক বাংলার দিকে যেতে যেতে পুলিশ প্রায় ৫০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। কমলাপুরেও পুলিশ ২০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে মোহাম্মদপুরের আসাদগেটে জামায়াত-শিবির কর্মীরা মিছিল বের করে। মিছিল থেকে গাড়ি ভাঙচুরের চেষ্টা করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। হরতালকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়লে পুলিশ গুলি ছুঁড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনায় একজন রাবার বুলেট বিদ্ধ হন। ফার্মগেটের ইন্দিরা রোড এলাকায় তেজগাঁও কলেজের সামনে সকাল সোয়া সাতটার দিকে একটি মিছিল বের করে শিবির কর্মীরা। এ সময় তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। পুলিশও পাল্টা রাবার বুলেট ছুঁড়লে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এতে কয়েকজন আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে শিবিরের ১০ জন কর্মীকে আটক করে পুলিশ। মিরপুরের কাফরুল এলাকায় সকাল ৭টার দিকে জামায়াত-শিবির কর্মীরা হঠাত্ মিছিল বের করে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দ্রুত পালিত যায়। সকাল পৌনে ৯টার দিকে কমলাপুর বাজার এলাকায় একটি মিছিল বের করেন জামায়াত-শিবির কর্মীরা। সেখানে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান তারা। বেলা ৩টার দিকে রূপসী বাংলা হোটেলের উল্টোদিকের ফুটপাতের পাশের ম্যানহোলে বোমাসদৃশ বস্তু দেখে টহল পুলিশকে খবর দেয় এক টোকাই। টহল পুলিশ খবর দেয় বোমা নিষ্ক্রিয়করণ বিভাগকে। গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার (বোমা নিষ্ক্রিয়করণ বিভাগ) সানোয়ার হোসেন জানান, পুলিশ গ্রেনেডটি ম্যানহোল থেকে উঠিয়ে ফুটপাতে রাখে। সেখানেই বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এটা নিষ্ক্রিয় করা হয়। রাজধানীতে হরতাল আহ্বানকারীরা রাস্তায় বের না হলেও হরতালবিরোধীরা মিছিল-সমাবেশের মাধ্যমে মাঠ দখলে রেখেছিল। স্থানীয় সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদারের নেতৃত্বে হরতাল বিরোধী একটি বিশাল মিছিল মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে বের হয়।