অনলাইনে পর্নোগ্রাফি :ঝুঁকিতে ১২ দেশের এক কোটি শিশু

বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১২টি দেশের প্রায় ১ কোটি শিশু অনলাইনে পর্ণোগ্রাফির মত মারাত্মক ক্ষতিকর বিষয়গুলোর দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ২০১৭ সালের মধ্যে এই সংখ্যা পৌনে ২ কোটিতে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খেলার ছলেই অনলাইনের ক্ষতিকর বিষয়বস্তুগুলোর প্রভাবে সুস্থ মানসিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে শিশুদের। বিশ্বের অন্যতম বৃহত্ মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিনরের যে ১২টি দেশে কার্যক্রম রয়েছে, সেসব দেশের গ্রাহকদের মধ্যে পরিচালিত এক জরিপে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেটের দ্রুত বিস্তৃতি দেশে দেশে সার্বিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক প্রভাব ফেললেও বিপদ ডেকে আনছে শিশুদের জন্য। এই মহাবিপদের ইঙ্গিত দিয়ে টেলিনর বলছে, কম্পিউটার থেকে স্মার্ট ফোন সবকিছুই চলে গেছে শিশুদের হাতে। শিশু-কিশোরদের পড়ালেখা খেলাধুলাসহ সার্বক্ষণিক সঙ্গী হয়ে উঠছে স্মার্ট ফোন, ট্যাব, ল্যাপটপ, ডেস্কটপের মত ডিভাইসগুলো। শিক্ষা ও বিনোদনমূলক বিষয়বস্তুর সঙ্গে অনলাইনে পর্ণোগ্রাফির মত বিষয়গুলোও অপ্রাপ্ত বয়সেই শিশু-কিশোরদের নজরে আসছে। এ কারণে বড় ধরনের মানসিক বিকৃতির ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে অনলাইন ব্যবহারকারী শিশু-কিশোররা। বার্সেলোনায় অনুষ্ঠিত মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসে টেলিনরের সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থান করা গবেষণা রিপোর্টে এসব তথ্য দেয়া হয়। টেলিনরের জন্য এই গবেষণা রিপোর্ট তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত বোস্টন কনসালটিং গ্রুপ। সাংবাদিক সম্মেলনে টেলিনরের সিইও জন ফ্রেডরিক বাকসাস বলেন, ঝুঁকি থেকে রক্ষার জন্য বিশ্বব্যাপী সচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু করেছে টেলিনর। বিশেষ করে শিশুদের অনলাইন ব্যবহারের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতন করার কর্মসূচি চলছে। বিভিন্ন দেশে সরকারি পর্যায়ে দায়িত্বশীলদের সঙ্গেও এ ব্যাপারে মতবিনিময়, তথ্য সরবরাহের কাজ করছে টেলিনর। সামাজিক দায়বদ্ধতার নীতি থেকেই টেলিনর এই উদ্যোগ নিয়েছে। সামনে এই প্রচারণা আরো জোরদার করার ইঙ্গিত দেন তিনি। জন ফ্রেডরিখ বাকসাস বলেন, তথ্য প্রযুক্তি দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, ইন্টারনেটের ব্যবহার বাড়ছে। ইন্টারনেট এখন জীবনের অংশই হয়ে গেছে। এই এগিয়ে যাওয়া যেমন ধরে রাখতে হবে, পাশাপাশি শিশু-কিশোরদেরও এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে হবে। অভিভাবক, দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তাসহ অনলাইন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে শিশু-কিশোরদের এই ঝুঁকি থেকে রক্ষার জন্য। ক্ষতিকর বিষয়বস্তুগুলোর সংস্পর্শে যেন শিশু-কিশোররা না আসতে পারে সেজন্য অন্য সবকিছু নিয়ন্ত্রণের চেয়ে সচেতনতাই সবচেয়ে বেশি জরুরি। অভিভাবকদের এ ব্যাপারে সচেতন হতে আহ্বান জানান টেলিনরের প্রধান নির্বাহী। সাংবাদিক সম্মেলনে বোস্টন কনসালটিং গ্রুপের গ্লোবাল লিডার কুন হান্স বলেন, শিশু-কিশোরদের ক্ষেত্রে ক্ষতিকর বিষয়বস্তুগুলো দ্রুত আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে, যেটা ঝুঁকির সবচেয়ে বড় কারণ। শিক্ষার স্তর, দেশের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার সক্ষমতা এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতনতাই এ ধরনের ঝুঁকি কমানোর সহজ উপায়।