সাঈদীর ফাঁসি
প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৩৭
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে মুক্তিযুদ্ধকালে হত্যা, অপহরণ, অগ্নিসংযোগ, লুণ্ঠনের দুটি ঘটনায় পাক বাহিনীকে সহায়তার দায়ে ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার চেয়ারম্যান এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১ এ রায় দেন। রায়ে বলা হয়, সাঈদীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আনা হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, নির্যাতন, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, ধর্মান্তরিতকরণ ইত্যাদি ২০টি অভিযোগের মধ্যে আটটি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে পিরোজপুরের চিথোলিয়ার মানিক পসারির বাড়ি লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও তার ভাই ইব্রাহিম কুট্টিকে পাকিস্তানি সেনাদের দিয়ে হত্যা এবং উমেদপুরের হিন্দুপাড়ায় অগ্নিসংযোগ ও বিসাবলীকে সাঈদীর ইন্ধনে হত্যার দায়ে ফাঁসির মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে। তবে মৃত্যুদণ্ড দেয়ায় প্রমাণিত হওয়া অন্য ছয়টি অপরাধের জন্য আলাদা করে কোনো শাস্তি দেয়া হয়নি। একইসঙ্গে সাঈদীর বিরুদ্ধে আনা অন্য ১২টি অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে সেগুলো থেকে খালাস দেয়া হয়। এদিকে এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, এই রায় ‘ঐতিহাসিক’। অন্যায় করে যে পার পায় না এ রায়ের মাধ্যমে তা প্রমাণিত হলো। তবে রায়ের পর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের উদ্দেশে বলেন, শপথ এবং নিজের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থেকে আপনারা বিচার করতে পারেননি। শাহবাগে জড়ো হওয়া কয়েকজন নাস্তিক ব্লগারের দাবিতে আপনারা প্রভাবিত হয়েছেন।
গতকাল দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়কে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনালসহ সুপ্রিম কোর্টের আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাপক জোরদার করা হয়। জনাকীর্ণ এজলাসে বিচারকরা আসন গ্রহণের পর বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীর বলেন, আমরা এখানে রায় দিতে এসেছি। রায় ঘোষণার আগে কিছু কথা বলতে চাই। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পরিচয় দেয়ার কোনো দরকার নেই। তিনি সুপরিচিত মানুষ। তার ওয়াজ শোনার জন্য হাজার হাজার মানুষ যান। উনি শুধু প্রখ্যাত মাওলানা নন, দুইবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর। তাহলে প্রশ্ন আসতে পারে, আমরা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিচার করছি কেন? আমরা তাকে নায়েবে আমীর কিংবা সংসদ সদস্যের হিসাবে বিচার করছি না। আমাদের ফিরে যেতে হবে ৪০ বছর আগে। তখন তিনি ৩০ বছরের যুবক ছিলেন। তিনি ছিলেন বিবাহিত, এক সন্তানের জনক। পিরোজপুরে সাউথখালীতে বাড়ি। তখন তিনি কোনো ধর্মীয় বা রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি পিরোজপুরের শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি আলেম পাস। পিরোজপুরে তিনি দেলু নামে পরিচিত ছিলেন। উর্দুতে ভালো কথা বলতে পারতেন। তাই পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে তার ভালো যোগাযোগ তৈরি হয়। পাড়েরহাটে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অপারেশনে তিনি সঙ্গে ছিলেন। আমাদের বিচার করতে হবে, তিনি সে সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন কিনা। আমরা সেই ৩০ বছরের যুবকের বিচার করছি; বর্তমানের সাঈদীর বিচার করছি না, যার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছে গ্রামের নিরীহ লোক ও সাধারণ মানুষ। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষে ২৮ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বাধীন ও বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হকের সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে রায় ঘোষণা শুরু হয় সকাল ১১টা ১৬ মিনিটে। সকাল সাড়ে দশটায় ট্রাইব্যুনাল বসার কথা থাকলেও বিচারকরা এজলাসে আসেন ১১টা ১১ মিনিটে। এর এক মিনিট আগে সাঈদীকে কাঠগড়ায় আনা হয়। রায় ঘোষণার সময় সাঈদী কুরআন শরীফ হাতে কাঠগড়ায় ছিলেন। বিচারপতি ফজলে কবীর বলেন, সাঈদীর মামলায় রায় মোট ১২০ পৃষ্ঠার। সময় স্বল্পতার জন্য সব পড়া হবে না। ৫৬ পৃষ্ঠার সারাংশ পড়া হবে এবং ট্রাইব্যুনালের তিনজন বিচারকই রায় পড়বেন। এরপর ১১টা ২০ মিনিটে নীরব জনাকীর্ণ এজলাসে রায় পড়া শুরু করেন বিচারপতি আনোয়ারুল হক। তিনি বলেন, ৫৫ মিনিট পড়েন। এরপর বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও পরে বিচারপতি ফজলে কবীর রায় পড়েন। রায় পড়া শেষ হয় ১টা ৪৫ মিনিটে।
এদিকে এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাঈদীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবীরা। আর রায়ের পর এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, এই রায় ‘ঐতিহাসিক’। অন্যায় করে যে পার পায় না এ রায়ের মাধ্যমে তা প্রমাণিত হলো। এ রায়ের মাধ্যমে দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির কষ্ট দেশ কিছুটা হলেও ভুলতে পারবে, ৩০ লাখ শহীদের আত্মা শান্তি পাবে, বলেন তিনি। প্রসিকিউটর হায়দার আলী বলেন, এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। আদালত পূর্ণাঙ্গভাবে পর্যালোচনা করে এ রায় দিয়েছে। অন্যদিকে আসামিপক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, এই রায়ে আমরা সংক্ষুব্ধ। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করব। আশা করি আপিলে সুবিচার পাব।
রায়ের আদেশে যা বলা হয়
রায়ের আদেশে বলা হয়, মৃত ইউসুফ আলী শিকদারের ছেলে আসামি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ওরফে দেলুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। চিথোলিয়া গ্রামের মানিক পসারির বাড়ি লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ এবং তার ভাই ইব্রাহিমকে সাঈদীর প্ররোচনায় পাকিস্তানি সেনারা হত্যার আট নম্বর অভিযোগ ও সাঈদীর নেতৃত্বে সশস্ত্র দল উমেদপুর গ্রামের হিন্দুপাড়ার ২৫টি ঘরে অগ্নিসংযোগ ও সাঈদীর ইন্ধনে বিসাবলী নামের একজনকে নারকেল গাছের সঙ্গে বেঁধে গুলি করে হত্যার ১০ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩ এর ২০ (২) ধারায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ হচ্ছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আনা ৬, ৭, ১১, ১৪, ১৬ ও ১৯ নম্বর অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হলেও এসব অভিযোগে তার ৮ ও ১০ নম্বর অপরাধের তুলনায় কম দণ্ড হয়। যেহেতু তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে তাই ৬, ৭, ১১, ১৪, ১৬ ও ১৯ নম্বর অপরাধের কারণে তাকে অন্য কোনো শাস্তি প্রদান থেকে ট্রাইব্যুনাল বিরত থাকছে। এছাড়া সাঈদীর বিরুদ্ধে আনা ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৯, ১২, ১৩, ১৫, ১৭, ১৮ ও ২০ তম অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হচ্ছে। রায়ের শেষে বলা হয়, আইনের ২১ ধারা অনুসারে আসামি আগামী ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন। রায়ের কপি রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিকে প্রদান করতে বলা হয়। এছাড়া ঢাকা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে রায়ের কপি প্রদান করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলা হয়।
যে দুই অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড
দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আনা ৮ ও ১০ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩ এর ২০ (২) ধারায় মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছে। আট নম্বর অভিযোগে বলা হয়, ৮ মে বেলা তিনটার দিকে সাঈদী ও তার দলের সদস্যরা চিথোলিয়া গ্রামের মানিক পসারির বাড়ি লুট করেন। এখানে পাঁচটি ঘরে কেরোসিন দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। মানিক পসারির ভাই ইব্রাহিমকে সাঈদীর প্ররোচনায় পাকিস্তানি সেনারা হত্যা করে এবং এবং তার লাশ পাশের একটি ব্রিজ থেকে ফেলা দেয়া হয়। এছাড়া মফিজ কুট্টিকে সেনা ক্যাম্পে নিয়ে অত্যাচার করা হয়। হিন্দু বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। ধর্মীয় কারণে মালামাল লুট এবং বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। এছাড়া অপহরণ, হত্যা ও নির্যাতনও মানবতাবিরোধী অপরাধ। এ অভিযোগ প্রমাণে রাষ্ট্রপক্ষ মোট ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে। রাষ্ট্রপক্ষের এসব সাক্ষীর সাক্ষ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকারদের সঙ্গে সাঈদীও মানিক পসারির বাড়িতে যায়। সাক্ষীরা দেখেছেন, পাকিস্তানি সেনাদের দেখে ইব্রাহিম কুট্টি ও মফিজ উদ্দিন পসারি পালানোর সময় তাদের ধরে পাকিস্তানি সেনাদের হাতে হস্তান্তর করা হয়। পাকিস্তানি সেনারা ইব্রাহিম কুট্টিকে গুলি করে হত্যা করে। সাত নম্বর সাক্ষী মফিজ পসারি এ ঘটনার চাক্ষুষ সাক্ষী। তিনিই বলেন, রাজাকার বাহিনীর সদস্য দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী তাদের ধরে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে। এ সাক্ষীর বক্তব্য অবিশ্বাস করার মতো কোনো কারণ নেই। এ অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে বলা হয়, হত্যা, অপহরণ, নির্যাতন মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। ট্রাইব্যুনাল আইনের ২০ (২) ধারায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে দণ্ড দেয়া হচ্ছে।
১০ নম্বর অভিযোগে বলা হয়, ২ জুন সকাল ১০টার দিকে সাঈদীর নেতৃত্বে সশস্ত্র দল উমেদপুর গ্রামের হিন্দুপাড়ার ২৫টি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। সাঈদীর ইন্ধনে বিসাবলী নামের একজনকে নারকেল গাছের সঙ্গে বেঁধে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ অভিযোগের ঘটনায় রাষ্ট্রপক্ষ তিনজন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণ হাজির করে। ১, ৫ ও ৯ নম্বর সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণ বিশ্লেষণ করে বলা হয়, সাঈদীসহ স্থানীয় রাজাকাররা উমেদপুর গ্রামে হিন্দুপাড়ায় হামলা করে। মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট করে এবং ২৫টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়া বিসাবলী নামে একজনকে সাঈদীর আগ্রহে রাজাকাররা হত্যা করে। ৫ নম্বর সাক্ষী মাহতাবউদ্দিন হাওলাদার এবং ৯ নম্বর সাক্ষী আফতাব হোসেন হাওলাদার চাক্ষুষ সাক্ষী হিসাবে সাঈদীর উপস্থিতিও আগ্রহের ঘটনা ঘটেছে বলে সাক্ষ্য দিয়েছেন। হত্যা ও নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় সাঈদী সংশ্লিষ্ট এটা প্রমাণ হয়েছে। এ অভিযোগে সাঈদীকে দোষী সাব্যস্ত করে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন ১৯৭৩ এর ২০ (২) ধারায় সাঈদীকে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করা হচ্ছে।
আরো যে ছয় অভিযোগ প্রমাণ হয়েছে
দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আরো রাষ্ট্রপক্ষের ৬টি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। ৬, ৭, ১১, ১৪, ১৬ ও ১৯ নম্বর অভিযোগ প্রমাণ হলেও তাকে মৃতুদণ্ড দেয়ায় এসব অপরাধে কোনো আলাদা শাস্তি দেয়া হয়নি।
৬ নম্বর অভিযোগে বলা হয়, ৭ মে সাঈদীর নেতৃত্বে শান্তি কমিটির একটি দল পাকিস্তানি সেনাদের নিয়ে পারেরহাট বাজারের আওয়ামী লীগ, হিন্দু সম্প্রদায় এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষের বাড়িঘর ও দোকান চিনিয়ে দেয়। এসব দোকান ও বাড়িতে লুটপাট করা হয়। এ সময় তারা মাখনলাল সাহার দোকান থেকে ২২ সের স্বর্ণ ও রূপা লুট করে। এ অভিযোগের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষ ১, ৩, ১৩, ১৪ ও ১৬ নম্বর সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণ হিসেবে হাজির করেছে। এসব সাক্ষীদের প্রমাণের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তে বলা হয়, এ অভিযোগে তাদের সাক্ষ্য অটুট। সম্পূর্ণ অবগত হয়ে তিনি এসব মানবতা বিরোধী অপরাধ করার ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন এবং সুযোগ করে দিয়েছেন। তবে সাক্ষীরা দুষ্কৃতিকারী হিসেবে সাঈদীর নাম ইচ্ছাকৃতভাবে উচ্চারণ করেননি।
৭ নম্বর অভিযোগে বলা হয়, ৮ মে বেলা দেড়টার দিকে সাঈদী পাকিস্তানি সেনাদের নেতৃত্ব দিয়ে বাদুরিয়া গ্রামের নূরুল ইসলাম খানের ছেলে শহীদুল ইসলাম সেলিমের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে নূরুল ইসলাম খানকে আওয়ামী লীগার ও শহীদুল ইসলামকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং পাকিস্তানি সেনাদের হাতে সোপর্দ করেন। পরে তাদের বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এ অভিযোগ প্রমাণে রাষ্ট্রপক্ষ তিনজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে। সাক্ষীদের সাক্ষ্য-প্রমাণে দেখা যায়, সম্পূর্ণ অবগত হয়ে তিনি এসব মানবতা বিরোধী অপরাধ করার ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন এবং সুযোগ করে দিয়েছেন।
১১ নম্বর অভিযোগে বলা হয়, ২ জুন সাঈদী টেংরাখালী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মাহাবুবুল আলম হাওলাদারের বাড়িতে পাকিস্তানি সেনাদের নিয়ে যান। সেখানে তার বড় ভাই আবদুল মজিদ হাওলাদারকে ধরে নির্যাতন করা হয়। এরপর সাঈদী নগদ টাকা লুট ও মূল্যবান জিনিস নিয়ে যান। পরে বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এ অভিযোগ প্রমাণে রাষ্ট্রপক্ষ দুই জন সাক্ষী হাজির করে। আসামিপক্ষ এ দুই সাক্ষীকে বিস্তৃতভাবে জেরা করলেও সাঈদীর উপস্থিতির বিষয়টি খণ্ডাতে পারেনি। সকল সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে দেয়া যায়, সম্পূর্ণ অবগত হয়ে তিনি এসব মানবতা বিরোধী অপরাধ করার ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন এবং সুযোগ করে দিয়েছেন।
১৪ নম্বর অভিযোগে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে সাঈদীর নেতৃত্বে ৫০-৬০ জনের একটি রাজাকার বাহিনী হোগলাবুনিয়ার হিন্দুপাড়ায় যায়। এখানে একজনকে (নাম প্রকাশ করা হলো না) ধর্ষণ করা হয়। পরে এই হিন্দুপাড়ার ঘরে আগুন দেয়া হয়। এ অভিযোগ প্রমাণে রাষ্ট্রপক্ষ চারজন সাক্ষী হাজির করে। ২৩ নম্বর সাক্ষী মধুসুদন ঘরামি বলেন, যেদিন তাদের বাড়িতে হামলা করা হয় এবং তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করা হয় সেদিন রাজাকারদের মধ্যে সাঈদীও ছিলেন। সকল সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে দেয়া যায়, ঘটনাস্থলে সম্পূর্ণ অবগত হয়ে তিনি এসব মানবতা বিরোধী অপরাধ করার ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন এবং সুযোগ করে দিয়েছেন।
১৬ নম্বর অভিযোগে বলা হয়, সাঈদীর নেতৃত্বে ১০-১২ জনের রাজাকারের দল পারেরহাট বন্দরের গৌরাঙ্গ সাহার বাড়ি থেকে তার তিন বোনকে ধরে পাকিস্তানি সেনাক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেখানে তিন দিন ধরে ধর্ষণ করে পরে ছেড়ে দেয়া হয়। এ অভিযোগ প্রমাণে রাষ্ট্রপক্ষ একজন সাক্ষী হাজির করে। রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী একেএমএ আওয়াল এমপি তার সাক্ষ্যে বলেন, সাঈদী এ ঘটনায় স্থানীয় রাজাকারদের সাথে সাঈদীও জড়িত ছিলেন। সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে ট্রাইব্যুনাল অভিযুক্তকে গণহত্যার অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত করছে।
১৯ নম্বর অভিযোগে বলা হয়, সাঈদী প্রভাব খাটিয়ে পারেরহাটসহ অন্য গ্রামের ১০০-১৫০ জন হিন্দুকে ইসলাম ধর্মে রূপান্তর করে। তাদের মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তে বাধ্য করা হতো। এ অভিযোগ প্রমাণে রাষ্ট্রপক্ষের ৫ জন সাক্ষী সাক্ষ্য প্রদান করে। রাষ্ট্রপক্ষের ২৩ নম্বর সাক্ষী মধুসুদন ঘরামি বলেন, তাকে ও তার পরিবারকে মসজিদে যেতে ও মুসলমান হতে বাধ্য করেছে। সকল সাক্ষ্য-প্রমাণ বিবেচনা করে ট্রাইব্যুনাল সন্তুষ্ট হয়েছে যে রাষ্ট্রপক্ষ সফলভাবে এ অভিযোগ প্রমাণে সমর্থ হয়েছে। সাঈদীর বিরুদ্ধে এ ছয়টি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩ এর ২০ (২) ধারায় শাস্তি প্রদান করা হচ্ছে।
যে ১২ অভিযোগে খালাস পেলেন সাঈদী
সাঈদীর বিরুদ্ধে আনা ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৯, ১২, ১৩, ১৫, ১৭, ১৮ ও ২০তম অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হচ্ছে। এসব অভিযোগ সাক্ষ্য-প্রমাণ দিয়ে প্রমাণ করতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ। সাঈদীর বিরুদ্ধে ১ নম্বর অভিযোগে ছিলো-পাকিস্তানি সেনাদের খবর দিয়ে পিরোজপুর সদর এলাকার মধ্য মাসিমপুর বাসস্ট্যান্ডের পেছনে ২০ জন নিরস্ত্র মানুষকে গুলি করে হত্যা, ২ নম্বর অভিযোগ-মাসিমপুর হিন্দুপাড়ায় লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে ১৩ জন হত্যা, ৩ নম্বর অভিযোগ-মাসিমপুর হিন্দুপাড়ায় মনীন্দ্রনাথ মিস্ত্রী ও সুরেশ চন্দ্র মণ্ডলের বাড়ি লুট এবং অগ্নিসংযোগ, ৪ নম্বর অভিযোগ-পাকিস্তানি সেনাদের নিয়ে ধোপাবাড়ীর সামনে এবং পিরোজপুর সদর পুলিশ স্টেশনের এলজিইডি ভবনের পেছনে চারজনকে হত্যা, ৫ নম্বর অভিযোগ-লেখক হুমায়ূন আহমেদের পিতাসহ তিনজনকে হত্যা, ৯ নম্বর অভিযোগ, নলবুনিয়া গ্রামের আবদুল হালিম বাবুলের বাড়িতে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ, ১২ নম্বর অভিযোগ-সাঈদীর নেতৃত্বে ১৪ জন হিন্দুকে পাকিস্তানি সেনাদের দিয়ে হত্যা, ১৩ নম্বর অভিযোগ-পাকিস্তানি সেনাদের দিয়ে নলবুনিয়া গ্রামের আজহার আলীর বাড়িতে গিয়ে তাকে ও তার ছেলে সাহেব আলীকে ধরে নির্যাতন ও সাহেব আলীকে হত্যা, ১৫ নম্বর অভিযোগ-মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে পাকিস্তানি সেনাদের দিয়ে হোগলাবুনিয়া গ্রামের ১০ জন হিন্দুকে হত্যা, ১৭ নম্বর অভিযোগ-পারেরহাটের বিপ্লব সাহার মেয়েকে তার বাড়িতে আটকে নিয়মিত ধর্ষণ, ১৮ নম্বর অভিযোগ-পাকিস্তানি সেনাদের খবর দিয়ে ভাগীরথীকে হত্যা, ২০ নম্বর অভিযোগ-নভেম্বরের শেষ দিকে ইন্দুরকানি গ্রামের তালুকদার বাড়িতে আক্রমণ ৮৫ জন ব্যক্তিকে আটক। এসব অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
রায়ে পর্যবেক্ষণ :রায়ে বলা হয়, তবে ট্রাইব্যুনাল বড় কোনো অসামঞ্জস্য পায়নি। সাবেক এমপি সাঈদী সুপরিচিত ব্যক্তি, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি নিম্ন পর্যায়ের একজন মুদি দোকানি ছিলেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেলেও পাকিস্তান সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি। ২৬ মার্চ অপারেশন সার্চ লাইট চালানার পর শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেফতারের আগেই স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। রায়ে আরো বলা হয়, বিচার প্রলম্বিত হয়েছে কিন্তু বিচার বঞ্চিত হয়নি। এতে বলা হয়, সাঈদীর বিরুদ্ধে এক থেকে চার ও ১৩ নম্বর অভিযোগের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ কোনো জীবিত সাক্ষী হাজির করতে পারেনি। রায়ে আরো বলা হয়, ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি হওয়ায় আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, অতীতের অবিচারের বিচার না হলে ভবিষ্যতে বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। এসব ঘটনা ৪১ বছর আগে ঘটেছে। অনেক স্মৃতি সাক্ষীদের বিবর্ণ হয়ে গেছে। এ কারণে সাক্ষীদের সাক্ষ্যে অনেক সময় অমিল থাকতে পারে।
মামলার বিচারিক কার্যক্রম :বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরীর দায়ের করা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে একটি মামলায় সাঈদীকে ২০১০ সালের ২৯ জুন গ্রেফতার করা হয়। ওই বছরের ২ আগস্ট তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। গত বছরের ১১ জুলাই সাঈদীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। পরে ১৪ জুলাই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগের বিষয়ে শুনানি শেষে ৩ অক্টোবর সাঈদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই মামলার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
এ মামলায় সাঈদীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় গত বছরের ৭ ডিসেম্বর। প্রায় সাড়ে চার মাসে তদন্ত কর্মকর্তাসহ ২৮ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। তাদের মধ্যে ২০ জন ঘটনার বিষয়ে এবং সাতজন জব্দ তালিকার বিষয়ে সাক্ষ্য দেন। রাষ্ট্রপক্ষের ২৮তম ও শেষ সাক্ষী হিসেবে এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. হেলালউদ্দিন সাক্ষ্য দেয়া শুরু করেন ৮ এপ্রিল। নয় কার্যদিবসে ২৪ এপ্রিল তার সাক্ষ্য শেষ হয়। আসামিপক্ষ ২৫ এপ্রিল তাকে জেরা শুরু করেন। ৪৮ কার্যদিবসে অর্থাত্ ১৩ আগস্ট তার জেরা শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হয় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা। এছাড়া রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেয়া ১৫ সাক্ষীর জবানবন্দি ট্রাইব্যুনালের আদেশে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়। এর পর ২ সেপ্টেম্বর থেকে সাঈদীর পক্ষের সাক্ষীদের সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। সাঈদীর পক্ষে আইনজীবীরা সাফাই সাক্ষ্য দিতে ৪৮ জনের নামের তালিকা দিলেও ২০ জনকে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য অনুমোদন দেয় ট্রাইব্যুনাল। ২০ জনের মধ্যে ১৭ জন হাজির হয়ে সাফাই সাক্ষ্য দেন। গত ২৩ অক্টোবর তারা আর কোনো সাফাই সাক্ষী আনতে না পারায় সেদিনই সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ বন্ধ করে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের তারিখ ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। এদের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষের গণেশ চন্দ সাহা সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দেন।
উল্লেখ্য, সাঈদীর মামলার রায় ঘোষণা দ্বিতীয়বারের মতো অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিলো। গত বছরের ডিসেম্বরে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে সর্বপ্রথম সাঈদীর মামলার বিচার শেষ হয়। ৬ ডিসেম্বর সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১ সাঈদীর মামলার রায় ঘোষণা অপেক্ষমাণ রাখে। ৯ ডিসেম্বর বেলজিয়াম প্রবাসী আইনজ্ঞ ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে স্কাইপ কথোপকথনের খবর প্রকাশের পর ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন বিচারপতি নিজামুল হক। ১৩ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল-১ পুনর্গঠিত হওয়ার পর নতুন চেয়ারম্যান সাঈদীর মামলায় রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক পুনরায় উপস্থাপনের আদেশ দেন।
ট্রাইব্যুনাল ঘিরে কড়া নিরাপত্তা
রায় ঘোষণার দিন ধার্য থাকায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড যেন না ঘটে সেজন্য ট্রাইব্যুনাল ও এর আশ-পাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। ভোর থেকেই ট্রাইব্যুনালে প্রবেশের দুই গেট ছাড়াও আশ-পাশে মোতায়েন করা হয় পুলিশ ও র্যাব এবং গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই, এসবি, ডিবি ও ডিজিএফআই’র বিপুল সংখ্যক সদস্য। সূত্রে জানা যায়, ট্রাইব্যুনালের আশ-পাশে প্রায় ২০/২৫টি সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়ে পর্যবেক্ষণ, ট্রাইব্যুনালের প্রবেশপথে মেটাল ডিটেক্টরসহ অন্যান্য ডিভাইস দিয়ে গাড়ি এবং ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশ্যে আসা প্রত্যেককেই তল্লাশি করা হয়।
ফাঁসির রায়ে আনন্দ মিছিল
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় হওয়ায় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন সন্তুষ্টি ব্যক্ত করেছে। সারাদেশ থেকেই আনন্দ মিছিলের খবর এসেছে।
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দেয়ার পর উচ্ছ্বাসে মেতে উঠে নারায়ণগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষ। সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় শহরের চাষাড়া রাজিব চত্বর থেকে মিছিলটি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে চাষাড়ায় গিয়ে শেষ হয়। অন্যদিকে শহরের ২ নং রেলগেট এলাকা থেকে মিছিল বের হয়। এতে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, মানিকগঞ্জে আনন্দ মিছিল করেছে ১৪ দলের নেতাকর্মীরা। গতকাল দুপুরে নেতাকর্মীরা শহরে বিক্ষোভ মিছিল শেষে প্রেসক্লাব চত্বরে সমাবেশ করে।
বটিয়াঘাটা উপজেলা সদরে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আনন্দ মিছিল বের হয়।
রায়গঞ্জে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে।
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে।
পিরোজপুর অফিস জানায়, সাঈদীকে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল ফাঁসির ঘোষণা দেয়ায় পিরোজপুরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রকাশ্যে কেউ কেউ এ রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। আবার অনেকে ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন। তবে রায়ে যারা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তারা ছিলেন অনেকটা নীরব এবং অপ্রকাশ্য। জেলা শহরে যুবলীগ কর্মীরা আনন্দ মিছিল বের করে এবং মিষ্টি বিতরণ করে উল্লাস প্রকাশ করেছে, আনন্দ মিছিল হয়েছে সাঈদীর বাড়ী জিয়ানগর উপজেলা সদরে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে। স্বরূপকাঠিতেও অনুরূপ মিছিল করেছে আওয়ামী লীগ-যুবলীগ। এ মামলার অন্যতম সাক্ষী পাড়েরহাটের মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমীন নবীন বলেন, এ রায়ে আমি খুশি হয়েছি। এদিকে সাঈদীর গ্রামের বাড়ি জিয়ানগর উপজেলার সাউথখালীতে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, তার বাসভবন ‘সালেহা কটেজ’ নির্জন। হাফিজা বেগম নামে একজন কেয়ারটেকার তালাবদ্ধ বাড়ি পাহারা দিচ্ছে। সেখানে সাঈদীর কোন নিকট আত্মীয়েরও দেখা মেলেনি।
রায় ঘোষণার খবর ছড়িয়ে পড়লে নরসিংদীর সর্বত্র আনন্দ উল্লাসে ফেটে পড়ে সাধারণ জনতা। জাগ্রত জনতা নরসিংদী জেলার উদ্যোগে তাত্ক্ষণিকভাবে নরসিংদী শহরে মিছিল বের করা হয়।
মেহেরপুরের বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিল হয়েছে।
নেত্রকোনায় জাগরণ মঞ্চের তরুণ প্রজন্মসহ সর্বস্তরের লোকজন শহরে আনন্দ মিছিল বের করে এবং সারা শহর প্রদক্ষিণ করে।
পঞ্চগড়ে আনন্দ মিছিল করেছে ১৪ দলীয় জোট ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ। মিছিলে জেলা আওয়ামী লীগ, সহযোগী সংগঠন ও ১৪ দলীয় নেতাকর্মী, মুক্তিযোদ্ধাসহ প্রজন্ম ৭১ এর আন্দোলনকারীরা অংশ নেয়।
ফাঁসির রায়ে আনন্দের বন্যা বইছে রংপুরে। আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল, গণজাগরণ মঞ্চসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন রায় ঘোষণার পর পরই বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে নগরীতে নেচে-গেয়ে আনন্দ মিছিল বের করে।
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, পুরাতন কাচারী চত্বরে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আনিস-উস-জামানের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাসহ সর্বস্তরের জনগণ শহরে অবস্থান নেন।
বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, রায় ঘোষণার পর পর বাগেরহাট শহরের রেল রোড চত্বর থেকে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে শহরে একটি আনন্দ মিছিল বের হয়।
বানারীপাড়া সংবাদদাতা জানান, বানারীপাড়ায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কালিকিনি (মাদারীপুর) সংবাদদাতা জানান, দুপুরে রায় ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কালকিনি উপজেলার সাহেবরামপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠের প্রজন্ম চত্বরের উদ্যোগে আনন্দ মিছিল ও উল্লাস প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সুনামগঞ্জে আনন্দ মিছিল হয়েছে।
গৌরনদী সংবাদদাতা জানান, ফাঁসির রায় দেয়ায় গতকাল বিকালে বরিশালের গৌরনদী উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আনন্দ মিছিল বের হয়।
সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি জানান, সদরপুরে আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
গোপালপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, উপজেলার তরুণ প্রজন্ম উপজেলা চেয়ারম্যান ইউনুস ইসলাম তালুকদারের নেতৃত্বে পৌর শহরে আনন্দ মিছিল বের করে। পরে গণজাগরণ মঞ্চে সমাবেশ করে।
বরগুনা (উত্তর) প্রতিনিধি জানান, রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগ ও তার অংগ সংগঠন শহরে বিজয় মিছিল করেছে।
গোবিন্দগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, ফাঁসির রায়ে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে গতকাল বৃহস্পতিবার একটি বিশাল আনন্দ মিছিল বের করা হয়।
চান্দিনা ও বুড়িচং (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, রায় ঘোষণা হওয়ায় তাত্ক্ষণিকভাবে চান্দিনায় আনন্দ মিছিল করেছে উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ।
গফরগাঁও সংবাদদাতা জানান, রায় ঘোষণার পরপরই উপজেলা চেয়ারম্যান ফাহমি গোলন্দাজ বাবেল সমর্থিত উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণ এবং পৌরশহরের মধ্যবাজারস্থ উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় থেকে একটি আনন্দ মিছিল বের করে।
নান্দাইল (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা জানান, ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় গতকাল বিকেলে ছাত্রলীগের ব্যানারে আওয়ামী লীগ, যুবলীগসহ সর্বস্তরের লোকজন এক আনন্দ মিছিল বের করে।
স্বরূপকাঠি (পিরোজপুর) সংবাদদাতা জানান, স্বরূপকাঠিতে আনন্দ মিছিল বের করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বরিশাল অফিস জানান, রায়কে স্বাগত জানিয়ে মিছিল করেছে আওয়ামী লীগ। মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি সিটি মেয়র শওকত হোসেন হিরনের নেতৃত্বে মিছিলটি নগরীর অশ্বিনী কুমার হলের সামনে গণজাগরণ মঞ্চে গিয়ে রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে আন্দোলনরতদের অভিনন্দন জানান।
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানান, ফাঁসির রায় ঘোষণায় গতকাল চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের রাস্তায় আওয়ামী যুবলীগ আনন্দ মিছিল বের করে।
অভয়নগর (যশোর) সংবাদদাতা জানান, ফাঁসির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে জামায়াতের ডাকা গতকালের হরতালে তেমন কোন প্রভাব পড়েনি যশোরের শিল্প শহর নওয়াপাড়ায়। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা ছিল।
বগুড়া প্রতিনিধি জানান, রায়ে উল্লাস প্রকাশ করেছে বগুড়ার ছাত্র-যুব-জনতা। ঢোল-করতাল বাজিয়ে, জাতীয় পতাকা নিয়ে শহরে আনন্দ মিছিল হয়েছে। বগুড়টা প্রজন্ম মঞ্চের কর্মীরা নেচে গেয়ে উচ্ছাস প্রকাশ করেছেন। মিষ্টি বিতরণ করা হয় শহরময়।
চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানায়, রায় ঘোষণার পর চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা মেয়র মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে আ’লীগ ও যুবলীগ আনন্দ মিছিল করেছে।
মাগুরা প্রতিনিধি জানান, ফাঁসির খবরে মাগুরায় বিভিন্ন সংগঠন আনন্দ মিছিল বের করে। দুপুরে জেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে শহরে আনন্দ মিছিল, ফুল ও রং ছিটানো হয়।
খুলনা অফিস জানায়, ফাঁসির আদেশ দেয়ায় বিকালে ১৪ দলের উদ্যোগে নগরীতে আনন্দ মিছিল বের করা হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন খুলনা সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে।
পীরগঞ্জ (রংপুর) সংবাদদাতা জানান, দুপুরে ফাঁসির দন্ডাদেশ ঘোষণার সাথে-সাথে পীরগঞ্জ উপজেলা আ’লীগের সভাপতি মোতাহারুল হক বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক মিয়া মো: তাজিমুল ইসলাম শামীমের নেতৃত্বে আ’লীগের এক বিশাল আনন্দ মিছিল বের হয়।
দেবীদ্বার (কুমিল্লা) থেকে জানান, রায় ঘোষণার পর দেবীদ্বার ও মুরাদনগর উপজেলা সদরে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছে সর্বস্তরের জনতা।
চট্টগ্রাম অফিস জানায়, ফাঁসির রায়ের কথা প্রচারিত হওয়ার সাথে সাথে চট্টগ্রামের গণজাগরণ মঞ্চসহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে উল্লাস প্রকাশ করে আপামর জনসাধারণ।
ডোমার (নীলফামারী) সংবাদদাতা জানান, ডোমার উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগে জামায়াত-শিবিরের ৮ নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) সংবাদদাতা ঃ ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদের সামনে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ৩টায় ফাঁসির রায় ঘোষণার পর মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিল করেছে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
চান্দিনা ও বুড়িচং (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, ফাঁসির আদেশ প্রদান করায় চান্দিনা উপজেলা সদরে আনন্দ মিছিল করেছে চান্দিনা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
যশোর অফিস জানায়, চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষিত হওয়ায় ‘আমরা যশোরবাসী’ আনন্দ মিছিল ও মিষ্টিমুখ করেছে।
লালমনিরহাট প্রতিনিধি জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনাল-০১ মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণায় জেলা সর্বত্রই আনন্দ মিছিল, সমাবেশ, মোটর সাইকেল শোভাযাত্রা ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, দেলোয়ার হোসেন সাইদীর ফাঁসির খবর শুনেই টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড দুপুরে শহরে আনন্দ মিছিল বের করে।
সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আনন্দ মিছিল বের করেছে।
দুমকি (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা জানায়, ফাঁসির আদেশ হওয়ায় দুমকিতে আনন্দ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড, আমরা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান, প্রজন্ম ৭১, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগসহ তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিরা।
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানায়, ফাঁসির রায়ের খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে হবিগঞ্জে জেলা যুবলীগ আনন্দ মিছিল বের করে।
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার সাথে সাথে কুড়িগ্রামে ১৪ দল আনন্দ মিছিল বের করে। হাজার হাজার মানুষ নেমে আসে রাস্তায়।
পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) সংবাদদাতা জানায়, দুপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠন আনন্দ মিছিল বের করে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে তিনমাথা মোড়ে সকলের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করে।
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জানায়, খাগড়াছড়িতেও আনন্দ মিছিল করেছে জেলা আওয়ামী লীগ। দুপুর আড়াইটায় আওয়ামী লীগ কার্যালয় থেকে আনন্দ মিছিল বের করে আদালত সড়ক ঘুরে শহরের মুক্ত মঞ্চে এসে মিষ্টি বিতরণ করে।
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি জানায়, মৌলভীবাজারে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছে গণজাগরণ মঞ্চ ও ১৪ দল।
গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানায়, গাইবান্ধায় ১৪ দলের পক্ষ থেকে একটি আনন্দ মিছিল বের করা হয়। স্থানীয় শহীদ মিনার থেকে মিছিলটি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার সেখানে ফিরে আসে।
খুলনা অফিস জানায়, খুলনার নির্দলীয় গণমঞ্চের শত শত জনতা প্রত্যাশিত সংবাদ পেয়েই শুরু করেন আনন্দ উল্লাস। বেরিয়ে আনন্দ মিছিলে। এ যেনো আরেক যুদ্ধ জয়।
ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা জানায়, ঈশ্বরদীতে দুপুরে আনন্দ মিছিল বের হয়। “জাগো ঈশ্বরদীবাসি জাগো”র ব্যানারে আয়োজিত আনন্দ মিছিল বাজারের মাহবুব আহমেদ খান স্মৃতি মঞ্চ থেকে বের হয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে।
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি জানান, ময়মনসিংহ শহরের আওয়ামী লীগ, ১৪ দল, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জাসদ, সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ, গণজাগরণ মঞ্চসহ সর্বস্তরের জনতা রাস্তায় নেমে আনন্দ মিছিল ও উল্লাস প্রকাশ করে।
কলারোয়ায় (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা জানান, কলারোয়া সড়ক পরিবহন শ্রমিকলীগ আনন্দ মিছিল করে।
টঙ্গী সংবাদদাতা জানায়, টঙ্গীতে গতকাল দুপুরে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. জাহিদ আহসান রাসেলের নেতৃত্বে বিশাল আনন্দ ও সন্তুুষ্টি মিছিল স্থানীয় আওয়ামী লীগ কার্যালয় থেকে বের হয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক প্রদক্ষিণ শেষে টঙ্গী থানা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।